সোমবার   ১৮ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬  

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশব্যাপী শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানেও দমানো যাচ্ছে না মাদক কারবারিদের। অভিযানের ১৭ দিন পার হলেও এখনো তেমন সাড়া পড়েনি। গ্রেপ্তার হচ্ছে না শীর্ষ পর্যায়ের গডফাদাররা। শুরুতে কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়লেও সময়ের সঙ্গে অনেকটাই ঝিমিয়ে গেছে অভিযান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল না বললেই চলে। এ সুযোগে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। যা এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসেনি। এ অবস্থায় অভিযানের মধ্যেই দেশের সীমান্তবর্তী ২৯ জেলার ১৬২ পয়েন্ট দিয়ে মাদকের ঢল অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পাওয়া যাচ্ছে মাদক। বিশেষ করে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও ফেনসিডিলের চালান বেড়েছে।

পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, বিশেষ অভিযান আরও জোরদারের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মাদকের রেডজোন জেলাগুলোতে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এসব পয়েন্টসহ দেশে অন্তত ১৬০০ গডফাদার সক্রিয় রয়েছে। সারা দেশে এ মাদক নেটওয়ার্ক তিন স্তরে সক্রিয়। যে নেটওয়ার্কে অন্তত ২১ হাজার কারবারি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় কারবারির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

সূত্র বলছেন, বর্তমানে মাদক পাচারের নিত্যনতুন কৌশলের সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে কারবারিদের ছদ্মবেশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক কর্মকর্তা বলেন, কারবারিদের কৌশল ও ছদ্মবেশ এমন পর্যায়ে গেছে, নিজেদের মধ্যে ঝামেলা না হলে তাদের খোঁজ মিলছে না সহজে। যা দেশের মাদকের বাজারকে আরও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও সত্যিকারের জিরো টলারেন্স বলতে যা বোঝায় রাষ্ট্র সেই পদক্ষেপ না নিলে কখনোই মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে না। সীমান্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্বরত কেউ এসব কারবারে জড়িত কি না সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরিচালক (অপারেশন্স) মো. বশির আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার বিশেষ অভিযান ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা কঠোরভাবে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়) এ কে এম শওকত ইসলাম বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারগুলোও কোনো অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সিসা লাউঞ্জ বন্ধসহ ঢাকামুখী মাদকের ট্রানজিটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, বিশেষ অভিযান শুরুর পর মাদকের বিক্রেতা ও বাহক পর্যায়ের অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গডফাদারদের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। আশা করি অনেক গডফাদার দ্রুতই গ্রেপ্তার হবেন। এ ছাড়াও মাদকের জন্য বিশেষ এলাকাগুলোতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাড়ছে যেসব মাদকের সরবরাহ : পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে সারা দেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হলেও গত বছর এটি বেড়ে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১ পিসে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত বছর ১৬৬ কেজি হেরোইন, সাড়ে ১৪ কেজি কোকেন, ৯৬ হাজার ৩৫৭ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯৪০ বোতল ও ৮১ লিটার ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসির তথ্য বলছে, গত বছর ২ কেজি ৮৪৭ গ্রাম আইস, ৭০ কেজি সিসা, সাড়ে ৬ কেজি কেটামিন, ৫.৪৬ কেজি গাঁজার কুশ, ১ লাখ ২০ হাজার ৭৫৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ দুই-তিন বছর আগেও কেটামিন, ট্যাপেন্টাডল, কুশের মতো মাদকের প্রাদুর্ভাব সেভাবে দেখা যায়নি। এসবের সঙ্গে পশ্চিমা দেশের মাদকও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের কাছে।

কোন পয়েন্ট দিয়ে কী মাদক ঢুকছে : সীমান্ত পথ আছে এমন কোনো জেলা নেই যেখান দিয়ে মাদক প্রবেশ করছে না। পাশের দেশ ভারত ও মিয়ানমারের কারবারিরা সীমান্তের ফাঁক গলে দেশের কারবারিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন মাদকের চালান। এ কাজে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতা বেশ পুরোনো। কক্সবাজারে ইয়াবার চালান ছাড়াও হেরোইনের চালান বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র বলছেন, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুমিল্লা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে আসছে ফেনসিডিল। বিশেষ করে কোভিন ফসফেট মিশ্রিত ফেনসিডিল ভারতের চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, আসাম প্রদেশের ধুবরী ও সাউথ সালমারা মানকাচর জেলা দিয়ে প্রবেশ করছে। গাঁজা প্রবেশ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত পথ দিয়ে। ভারতের আসামের ধুবরী, করিমগঞ্জ, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, ত্রিপুরার আগরতলা সীমান্ত দিয়ে ঢুকানো হয় গাঁজা। বিদেশি মদ ঢুকছে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর সীমান্ত পথ দিয়ে।

বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিরা মাদকের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। বগুড়া থেকে প্রতিনিধি জানান, ড. ইউনূস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যেমন আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছিল, তেমনি তাঁর শাসনামলে ১৮ মাসে বগুড়ায় বেড়েছে মাদক কারবার ও সেবন। ওই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন কারবারিরা। ফলে জেলায় মাদকের ব্যাপকতা বেড়ে যায়। বগুড়ার হাড্ডিপট্টি ও চকসূত্রাপুর এলাকায় গড়ে উঠেছিল মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।  চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খাতায়-কলমে নিয়ন্ত্রণ ছিল মাদক, কিন্তু বাস্তবে মাদকের বন্যায় ভেসেছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ১১ জেলা ও চট্টগ্রাম নগরী। ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড, সোর্স-নেটওয়ার্কের বিপর্যয় এবং প্রশাসনিক রদবদলের সুযোগ নিয়ে কারবারিরা গড়ে তুলেছে মাদকের এক অভয়ারণ্য। পরিসংখ্যানে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সিএমপিতে মাদক মামলা ৩৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে প্রায় ২৩ শতাংশ কমার স্বস্তিদায়ক চিত্র দেখা গেলেও বাস্তবের চিত্রটি ঠিক উল্টো ও ভয়ংকর। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে তল্লাশিহীন সড়কগুলো ব্যবহার করে নীরবে মাদকের এ চোরাচালান ও বিস্তার বেড়েছে কয়েক শ গুণ। মাদক বিষয়ে কাজ করেন মাঠপর্যায়ের এমন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ হয়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে পরিকল্পিতভাবে পুলিশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী এক বছরের অধিক সময় স্বাভাবিক পুলিশিং কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রাস্তায় চেকপোস্ট বসানো বা ‘ব্লক রেইড’ দেওয়ার মতো কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। এ ছাড়া মাদক উদ্ধারের মূল কারিগর পুলিশের স্থানীয়  ‘সোর্স’ বা ইনফরমাররা সরকার পরিবর্তনের পর এলাকাছাড়া হওয়ায় ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধসে পড়ে। এ সুযোগে কারবারিরা রুট পরিবর্তন করে নির্বিঘ্নে মাদকের চালান পাচার করেছেন। এ সময় মাদক মামলা হার কমলেও মাদক কারবার বেড়েছে কয়েক শ গুণ।

বগুড়ার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ইউনূস সরকারের আমলে প্রশাসন ভেঙে পড়েছিল। যার কারণে জেলায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা একটি সীমান্তবর্তী অঞ্চল। এ দুই উপজেলার বেশির ভাগ অংশই ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দিনের বেলায় যেমন তেমন সন্ধ্যা নামলেই তৎপরতা শুরু হয় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বেশি তৎপরতা দেখা গেছে।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় নড়াইলে  বেড়েছে মাদকের বেচাকেনা ও সেবন। বিগত ১৮ মাসে নড়াইল  জেলায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দৃশ্যমান নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে জেলাজুড়ে মাদক কারবারিরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, যা জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, কুয়াকাটা উপকূল এখন মাদকের সেফ জোন হিসেবে বিবেচ্য মাদকের গডফাদারদের কাছে। নিরাপদ এলাকা হিসেবে সমুদ্রপথে নিয়মিত কুয়াকাটাসহ উপকূলের বিভিন্ন স্পটে আসছে মাদক। যা স্থানীয় মাদকসেবী ও পর্যটকদের কাছে বিক্রির পর ফের নৌ ও সড়কপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চোলাই মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার সহজলভ্যতার পর মহিপুর থানার কুয়াকাটা উপকূলে এবার সন্ধান মিলেছে ভয়ংকর মাদক ক্রিস্টাল মেথের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সোর্সের মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের আগেই তথ্য চলে যাচ্ছে মাদক কারবারিদের কাছে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে খুচরা বিক্রেতা কিংবা বহনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও সাক্ষ্য দুর্বলতায় আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবারি ও বহনকারীরা। আর গডফাদাররা বরাবরই থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানেও ধরা পড়ছে মাদকের ছোটবড় চালান। ইয়াবাসহ এসব মাদক সরবরাহ বহনের কাজে কোমলমতি শিশু ও নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীতে এখন হাত বাড়ালেই মেলে মাদক। রাস্তার ধারে, হাট-বাজারে বিক্রি হয় মাদক। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাদকের ভয়াবহ উত্থানের কারণে এমন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকের প্রভাবে কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদক আসক্তি বাড়ছে। চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জনবল সংকট, সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তা, সহজলভ্যতা, কিছু এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি কম বলে অভিযোগ রয়েছে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার সুয়োগে ভারতীয় সীমান্ত গলিয়ে মাদক এসেছে পানির শ্যাওলার মতো। মাঝেমধ্যে মাদক বহনকারীরা ধরা পড়লেও মূল গডফাদাররা রয়ে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দিন দিন মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মাদক পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয় রংপুর। এ নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহল চিন্তিত।

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর