সোমবার   ২৭ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ১১ ১৪৩৩   ১১ সফর ১৪৪৮

সর্বশেষ:
৫ জনের জাল ভিসা শনাক্ত হতেই বিমানবন্দর থেকে উধাও বাকি ৭১ জন ট্রাম্পকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর ‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে’-লাখো ইরানির প্রতিজ্ঞা গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে পশ্চিমা বিশ্ব? বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পৌঁছানো কমেছে ৪১ শতাংশ ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা কানাডাকে কাঁদিয়ে সবার আগে শেষ আটে মরক্কো টেইলর সুইফটের বিয়ে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ট্রোল তাপপ্রবাহের কবলে নিউইয়র্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার, ৩৪৫৩ কেজি মাংস উদ্ধার!

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬  

সুন্দরবনে হরিণ শিকার ও পাচারচক্রের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই যেন কমছে না। বর্তমানে বনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই বেপরোয়া চোরা শিকারিদের হরিণ নিধন।

সবশেষ চলতি বছরের ২০ জুলাই সুন্দরবনের নলিয়ান এলাকা থেকে ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ মেহেদী হাসান (৩০) নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি খুলনার দাকোপ থানার বাসিন্দা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন দুপুর ২টায় খুলনার দাকোপ থানাধীন নলিয়ান ক্লোজারপাড়া-সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড। অভিযানে ৩০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

সুন্দরবনের অধিকাংশ অঞ্চলে কমবেশি হরিণ দেখা যায়। সাধারণত বনের কটকা, করমজল, দুবলারচর, হিরণ পয়েন্ট, কচিখালী, সুপতি ও ঢাংমারী এলাকায় হরিণের বেশি বিচরণ। সকাল-বিকেলে এসব ঘাসবনে দলবেঁধে হরিণের দেখা মেলে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের নিয়মিত টহল এবং বনে জলদস্যু কমার পাশাপাশি রাসমেলা বন্ধের পরও কোনোভাবেই কমছে না হরিণ শিকার।

বন বিভাগের তথ্য বলছে, সুন্দরবন দেখভালের জন্য বন অধিদপ্তরের দুটি বিভাগ রয়েছে। একটি খুলনা ও সাতক্ষীরা নিয়ে (সুন্দরবন পশ্চিম), অন্যটি খুলনার অংশ ও বাগেরহাট নিয়ে (সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ)। গত ৩ বছরে এই দুই বিভাগ ৩৪৫৩ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে। এ কাজে জড়িত ২৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন বিভাগ ছাড়াও কোস্ট গার্ড, র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন সময় হরিণের মাংসসহ শিকারি আটক হয়েছেন।

তিন বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের হরিণ শিকারবিরোধী অভিযানের চিত্র তুলে ধরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হরিণের মাংস উদ্ধার ৩৯৫ কেজি, হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার ৪ হাজার ৮৬০ ফুট, মামলা ২৭টি, আসামি ৫৫ জন, যার মধ্যে গ্রেপ্তার ৪৪ জন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরিণের মাংস উদ্ধার ৭৯৩ কেজি, হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার ২৪ হাজার ৬৪৮ ফুট, মামলা ৩৭টি, আসামি ৭২ জন, যার মধ্যে গ্রেপ্তার ৩৫ জন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে হরিণের মাংস উদ্ধার ২৪৯ দশমিক ৫ কেজি, হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার এক লাখ ২০ হাজার ৮৮৩ ফুট, মামলা ৩৫টি, আসামি ৮১ জন, এর মধ্যে গ্রেপ্তার ৭৪ জন।

সবচেয়ে বেশি হরিণের মাংস উদ্ধার হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, ৭৯৩ কেজি। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারও হয় একই অর্থবছরে, ৭০ জন।

তিন বছরে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের হরিণ শিকারবিরোধী অভিযানের চিত্র তুলে ধরে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে ৫১৪ কেজি, হরিণ ধরার বিবিধ ফাঁদ উদ্ধার—এক হাজার মিটার, এক হাজার ৩২৪টি, সাত বান্ডিল; মামলা ৩৮টি, আসামি ৯৫ জন, এর মধ্যে গ্রেপ্তার ২০ জন; চামড়া আটটি, মাথা চারটি, পা ১৬টি এবং মৃত হরিণ উদ্ধার একটি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরিণের মাংস উদ্ধার ৯৩১ দশমিক ৭ কেজি, হরিণ ধরার বিবিধ ফাঁদ উদ্ধার—২০০ মিটার, ৪৬৪টি ও ১০০ হাত; মামলা ৫০টি, আসামি ১১২ জন, এর মধ্যে গ্রেপ্তার ১২ জন। এছাড়াও হরিণের চামড়া পাঁচটি, মাথা চারটি এবং মৃত তিনটি হরিণ উদ্ধার করা হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে হরিণের মাংস উদ্ধার ৫৭১ কেজি, হরিণ ধরার বিবিধ ফাঁদ উদ্ধার ৫৯০ মিটার; মামলা ৩১টি, আসামি ৪১ জন, এর মধ্যে গ্রেপ্তার ২১ জন। এ ছাড়াও হরিণের চামড়া একটি, মাথা পাঁচটি, পা আটটি এবং মৃত একটি হরিণ উদ্ধার করা হয়।

সবচেয়ে বেশি হরিণের মাংস উদ্ধার হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৩১ দশমিক সাত কেজি। সবচেয়ে বেশি ফাঁদ উদ্ধার হয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে—১০০ মিটার, ৫৪৩টি, ১১০০ ফুট ও ১০০ হাত। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার এই অর্থবছরে ২১ জন।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ রয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালে হরিণের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার। সেই হিসাবে ২১ বছরের ব্যবধানে সুন্দরবনে হরিণ বেড়েছে ৫৩ হাজার ৬০৪টি।

যেভাবে ফাঁদ পেতে হরিণ ধরেন শিকারিরা

হরিণ শিকারের বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বনের পাশে যাদের বাড়ি, তারাই বেশি হরিণ শিকারের সঙ্গে যুক্ত। তারা বনের মধ্যে ফাঁদ পেতে ও গুলি করে চিত্রা ও মায়া হরিণ শিকার করেন। পরে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মাংস, মাথা ও শিং বিক্রি করেন। এভাবে হরিণ শিকার করে বিক্রি করতে গিয়ে অনেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও ধরা পড়েন।

বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনে হরিণ শিকারের জন্য মালা ফাঁদ, ছিটকা ফাঁদ, হাঁটা ফাঁদ ও গলা ফাঁদ ব্যবহার করেন শিকারিরা।

সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামগুলোর একাধিক সংঘবদ্ধ চোরাশিকারি বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনে ঢুকে পড়েন। পেশাদার এসব শিকারি গোপনে নিয়মিত হরিণের যাতায়াতের পথে ফাঁদ পেতে রাখেন। চলাচলের সময় হরিণগুলো সেই ফাঁদে আটকে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বৈধ বা অবৈধভাবে বনে ঢুকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরিণ শিকার করেন শিকারিরা। বন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পেশাদার হরিণ শিকারিদের বিশেষ সিন্ডিকেট রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থাকে এজেন্ট ব্যবসায়ীরা। এসব এজেন্টের মাধ্যমে কখনো অগ্রিম অর্ডার, আবার কখনো মাংস এনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। কোস্ট গার্ডসহ বন বিভাগের অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু মাংস ধরা পড়লেও অধিকাংশ শিকারি থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক শ্রেণির অসাধু বন কর্মকর্তার কারণে সুন্দরবনে হরিণ শিকার কমছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, শ্যামনগর, মোংলা ও শরণখোলায় হরিণ শিকারিদের বসবাস বেশি। এসব শিকারির কাছ থেকে হরিণের প্রতি কেজি মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনে শহরে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করে পাচারকারীরা।

হরিণ ধরার ফাঁদে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি আটকে পড়া আহত একটি বাঘ উদ্ধার করে বন বিভাগ। এর আগে ২০১২ সালে এ ধরনের ফাঁদে আটকে একটি বাঘ পা হারিয়েছিল। ২০১৪ সালে ফাঁদ ছিঁড়ে বের হয়ে আসা আরেকটি বাঘ পরে মারা যায়।

যেসব এলাকায় হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতা হয়

জেলে, মৌয়ালি ও বাওয়ালির পাস-পারমিট নিয়ে বনের গহীনে প্রবেশ করে এক শ্রেণির মানুষ হরিণ শিকার করে আসছে। পূর্ব সুন্দরবনের দাকোপের রেখোমারী, ঢানমারী, জংরা, মরা পশুর, কোকিলমনি, কচিখালী, জয়মনির ঘোল, বৈদ্যমারী, জিউধারা, নন্দবালা ও সুন্দরবন ইউনিয়নসংলগ্ন এলাকা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও হরিণ শিকারের সক্রিয় চোরাশিকারি চক্রের রুট বা লোকালয়সংলগ্ন পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ফাঁদ পাতা হয় কাঠকাটা, কাশিয়াদি, কালাবাগী, বানিয়াখালী, নীলকমল, জসিং এবং মহেশ্বরপুর এলাকায়। এসব এলাকায় হরিণের প্রিয় খাদ্য কেওড়া গাছ বেশি থাকায় শিকারিরা বেশি ফাঁদ পাতে।

বাঘ ও বন্যপ্রাণী গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, সুন্দরবনে বাঘের প্রধান শিকার চিত্রা হরিণ। বাঘের মোট খাদ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে চিত্রা হরিণ থেকে। তাই সুন্দরবনে বাঘ রক্ষা করতে হলে আগে এই চিত্রা হরিণ বাঁচাতে হবে। তবে পরিতাপের বিষয়, দেশের একশ্রেণির মানুষ সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ শিকার করে ভূরিভোজের জন্য। অনেক পর্যটক সুন্দরবনে গিয়ে হরিণের মাংস খেতে চান। দেশের একশ্রেণির ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি সুন্দরবনের হরিণের মাংসের লোভ দমন করতে পারেন না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সবচেয়ে পরিচিত ও নিরীহ প্রাণী হলো হরিণ। সেই হরিণ বছরের পর বছর ধরে শিকার করছে এক শ্রেণির সংঘবদ্ধ শিকারি চক্র। বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতা সত্ত্বেও সুন্দরবনে চোরাশিকারি চক্রের হরিণ শিকার থামছে না। বনসংলগ্ন এলাকায় গোপনে বিক্রি হচ্ছে হরিণের মাংস। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা থেকে মাঝেমধ্যেই উদ্ধার হচ্ছে এই মাংস। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বা বনরক্ষীও এ কাজে জড়িত আছেন বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হরিণ শিকার রোধে সুন্দরবনসংলগ্ন লোকালয়ে টহল জোরদার করতে হবে। প্রতিটি স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে নতুন করে হরিণ শিকারিদের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। হরিণের মাংসের সম্ভাব্য ভোক্তার উৎস চিহ্নিত করতে হবে। যাদের গ্রেপ্তার করা হবে, তারা যেন সহজে জামিন না পান, সে ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হরিণ শিকারের বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা করতে হবে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে অপরাধ উদঘাটনে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে তাকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর