সোমবার   ২৭ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ১১ ১৪৩৩   ১১ সফর ১৪৪৮

সর্বশেষ:
৫ জনের জাল ভিসা শনাক্ত হতেই বিমানবন্দর থেকে উধাও বাকি ৭১ জন ট্রাম্পকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর ‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে’-লাখো ইরানির প্রতিজ্ঞা গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে পশ্চিমা বিশ্ব? বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পৌঁছানো কমেছে ৪১ শতাংশ ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা কানাডাকে কাঁদিয়ে সবার আগে শেষ আটে মরক্কো টেইলর সুইফটের বিয়ে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ট্রোল তাপপ্রবাহের কবলে নিউইয়র্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ায় ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছ

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬  

মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আপাতত ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা প্যাট্রিয়ট অ্যান্টি-মিসাইল ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের ঘাটতিই এই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসার অন্যতম প্রধান কারণ।

কর্মকর্তাদের মতে, পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ সহযোগীরা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া, ইরানি হামলার ঝুঁকিতে থাকা উপসাগরীয় মিত্রদের দূরত্ব তৈরি হওয়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানি ও শরণার্থী সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সাথে এক বৈঠকের পর ট্রাম্প তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, এই গোপন বৈঠকে পেন্টাগনের সঙ্কুচিত হতে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশদ আলোচনা হয়।

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা মোকাবিলার সময় একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিয়ে আঘাত হেনেছে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গোপনে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হলেও, তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে শেষ করে দেবে। তবে জেনারেল কেইনের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, 'তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তার সামনে সব পথই খোলা রয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমাগত হামলার পর 'ইরানের জন্য একটি সমঝোতায় আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে; অন্যথায় কী ঘটবে তা তারা ভালো করেই জানে।'

ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং বিশেষ করে কীভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা যায়, তা নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে। গত দুই সপ্তাহে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কূটনীতি বর্তমানে সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং মার্কিন হামলাও ইরানকে সামরিকভাবে দমাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের খুব কম সদস্যই বড় হামলার এই পরিকল্পনাকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বড় আকারের সামরিক অভিযান ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তার মতে, এ ধরনের হামলা হিতে বিপরীত হতে পারে; কারণ এতে ইরানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটে যাবে এবং নেতারা বহিরাগত শত্রুর দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

দুই সপ্তাহের মধ্যে গত শনিবার প্রথমবারের মতো আমেরিকা ও ইরানের লড়াই কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী এবং ইরান-পন্থী হুথিদের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তেজনা আগের মতোই তুঙ্গে রয়েছে। টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শনিবার রাতে কোনো নতুন হামলার ঘোষণা দেয়নি মার্কিন বাহিনী।

গত শুক্রবারের বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আদেশ পেলে বড় হামলার জন্য সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, 'দেখুন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রস্তুত, তবে আমরা তাদের সাথে কথাও বলছি, তাই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা এখনই বলা যাচ্ছে না।'

গত মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরমাণুমুক্তকরণের লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প যখন তার ইরান নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক তখনই গত শুক্রবারের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পেন্টাগনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প মূলত একটি বহুধাপ বিশিষ্ট বিমান হামলার প্রথম পর্ব অনুমোদন করার দিকে ঝুঁকছিলেন। পেন্টাগনের মতে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের উপকূলীয় রাডার, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী ব্যবস্থা এবং ছোট হামলাকারী নৌকার বহরসহ অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা, যা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলার পেছনে দায়ী।

যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বেশি সেনা, অস্ত্র ও রসদ পাঠায়। এছাড়াও মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ব্যবহৃত রেলওয়ে সেতুগুলোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে, কারণ এই সেতুগুলো দিয়েই ইরানের সামরিক কমান্ডাররা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় রসদ সরবরাহ করতে পারতেন। এই ধরনের লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও জ্বালানি অবকাঠামো এবং 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন'সহ ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর বিষয়গুলোও মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের বিবেচনায় ছিল।

গত বৃহস্পতিবার 'এক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, 'আমি এক তীব্র হামলার কথা বিবেচনা করছি। যা আগের চেয়েও বড় হবে। আমি সিদ্ধান্তের কাছাকাছি রয়েছি এবং আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।'

কিন্তু গত শুক্রবার রাতের দিকে ট্রাম্প তার বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। মূলত সামরিক উপদেষ্টাদের দেওয়া রিপোর্টের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে গত দুই সপ্তাহে তীব্র ইরানি হামলার পর মার্কিন সৈন্যদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ট্রাম্প যদি এখন বড় কোনো হামলা চালান, তবে ইরান আরও জোরালো পাল্টা জবাব দেবে, যা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

গত এপ্রিলের শেষের দিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পেন্টাগন এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারের বেশি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ হিসাব এবং কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে পেন্টাগনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

বড় হামলার পরিবর্তে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ অনেক উপদেষ্টা কম ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিকল্প পথের কথা বলেছেন; যা হলো ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনার চাপ বজায় রাখা। তবে কোনো আলোচনা সত্যিই চলছে কি না বা চুক্তি করার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি বন্দরগুলোতে সম্প্রতি পুনরায় কার্যকর করা মার্কিন নৌ-অবরোধ এখন পর্যন্ত মিশ্র ফলাফল এনেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত জুনের মাঝামাঝি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ইরান মূলত চীনের কাছে তেলের সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। এই তেলের বড় অংশ কেবল এখন সরবরাহ করা হচ্ছে, তাই অর্থনৈতিক অবরোধের চাপ নতুন করে অনুভূত হতে কিছুটা সময় লাগবে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, চীন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়েছে, যা ইরানের তেল রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অর্থদাতা বাবাক জানজানির ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের নয়টি প্রতিষ্ঠান এবং চার ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর