লন্ডনে শরিয়াহ আইন, ৭ যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দাবির ফ্যাক্ট-চেক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব নেতাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের বেশ কয়েকটি প্রসঙ্গে তিনি ভুল, অসম্পূর্ণ ও অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়েছেন।
বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সমালোচনার পাশাপাশি, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তোলেন। এমনকি জাতিসংঘের অস্তিত্ব থাকা উচিত না বলেও মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের ৯টি প্রসঙ্গ ফ্যাক্ট-চেক করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
লন্ডনে শরিয়াহ আইন
বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি লন্ডনে দেখেছি, সেখানে খুবই ভয়ংকর একজন মেয়র আছেন। সেখানে অনেক কিছু বদলে গেছে। এখন তারা শরিয়াহ আইন চালু করতে চায়।’
বর্তমানে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। শহরটির তিনিই প্রথম মুসলিম মেয়র। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। লন্ডনে সাদিক খান শরিয়াহ আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। যুক্তরাজ্য সরকারের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে শরিয়াহ কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন আছে। তবে সেটি ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি। এর কোনো সরকারি কিংবা সাংবিধানিক ভূমিকা নেই। অপরদিকে মেয়র হওয়ার পর থেকেই ইসলামকে ভয় পায় এমন ব্যক্তিদের দ্বারা সাদিক খান আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
বিভিন্ন সময় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে, সাদিক খান শরিয়াহ আইন চালুর বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছেন। লন্ডনে তিনি মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন বলেও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ভাইরাল হয়। এসব বিষয়কে প্রতিবারই গুজব বলেছেন সাদিক।
ট্রাম্পের গতকালের বক্তব্য সম্পর্কে সাদিক খানের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা তাঁর নিন্দনীয় ও পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চাই না।’
সাতটি যুদ্ধ বন্ধ
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতিসংঘের আসলে কাজ কী? তারা কেবল কড়া ভাষায় চিঠি লেখে। কিন্তু সেই চিঠির নির্দেশ কেউ অনুসরণ করে না। যে কাজ জাতিসংঘের করা দরকার তা আমাকে করতে হচ্ছে। যেসব যুদ্ধ শেষ হওয়ারই কথা না, আমিই এমন সাতটি যুদ্ধ বন্ধ করেছি।’
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ট্রাম্প বক্তব্যে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া, কঙ্গো-রুয়ান্ডা, ভারত-পাকিস্তান, ইরান-ইসরায়েল, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, মিশর-ইথিওপিয়া এবং কসোভো-সার্বিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের দাবি করেছেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত আগস্টে ট্রাম্প আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতাদের হোয়াইট হাউসে ডেকে এনে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছেন। এটা কোনো শাক্তি চুক্তি ছিল না। দুই দেশের নেতারা তখন ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও নিজ দেশে ফিরে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করেননি। আজারবাইজান এখনো বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল দাবি করছে। এমনকি তারা নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলে এখনো আর্মেনিয়ার কিছু ছোট এলাকা দখল করে রেখেছে। দুই দেশ এখনো একটি যৌথ সীমান্তের বিষয়ে একমত হতে পারেনি।
গত জুনে কঙ্গো-রুয়ান্ডার নেতারা হোয়াইট হাউসে গিয়ে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও এখনো প্রাণঘাতি সহিংসতা অব্যাহত আছে। অপরদিকে ভারত-পাকিস্তান উভয়ই সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার কথা স্বীকার করছে। তবে ভারত এটিও বলেছে যে, সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেই সংঘাত বন্ধ করা হয়েছে। কারণ, ভারতীয় সেনাদের আক্রমণের মুখে পাকিস্তানই প্রথম সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব দেয়।
ইরান-ইসরায়েলের ক্ষেত্রে সংঘাত সাময়িক বন্ধ হলেও এখনো উভয়পক্ষ একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে কতদিন শান্তি বিরাজ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘাত বন্ধের জন্য ট্রাম্প উভয় দেশের নেতাদের হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছেন, তাঁর কথা না শুনলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবেন। সমালোচকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সংঘাত বন্ধ হলেও সীমান্ত নিয়ে মূল সমস্যার সমাধান হয়নি।
ট্রাম্প মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কথা বললেও এই দুই দেশের কোনো সামরিক সংঘাত ছিল না। নীল নদে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ সংঘাতে রূপ নিতে পারতো বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেখানেও ট্রাম্পের কূটনৈতিক চেষ্টা তেমন কাজে আসেনি। ইথিওপিয়া বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করেছে। চলতি মাসেই এটি উদ্বোধন হওয়ার কথা। অন্যদিকে মিশর ও সুদান এখনো এই বাঁধের বিরোধীতা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে কসোভো ও সার্বিয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৯৮-৯৯ সালে। তখন ন্যাটোর হস্তক্ষেপে যুদ্ধ বন্ধ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশ কসোভোর স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সার্বিয়া তখন এমন সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে। সার্বিয়ার মিত্র রাশিয়া ও চীনও কসোভোকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি।
এই দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি। ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে সার্বিয়া-কসোভোর মধ্যে যে চুক্তি করিয়েছিলেন সেটি ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া সম্পর্কিত।
প্রসঙ্গ চীন
বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনকে অনেক কৃতিত্ব দিই। তারা উইন্ড টারবাইন (বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা) বানায়। কিন্তু তাদের দেশে খুব কমই উইন্ড ফার্ম আছে। জানেন কী, তারা কয়লা ব্যবহার করে, গ্যাস ব্যবহার করে, প্রায় সবকিছু ব্যবহার করে, কিন্তু বাতাসের শক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন পছন্দ করে না।’
ট্রাম্প তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে চীনকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী করতে চেয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, চীন অনেক বেশি উইন্ড টারবাইন রপ্তানি করে এ কথা সত্য। কিন্তু তারা অনেক বেশি ব্যবহারও করে।
জার্মানভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড উইন্ড এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বাতাস থেকে উৎপাদিত শক্তি ব্যবহার হয় প্রায় ১২ লাখ মেগাওয়াটস। এর মধ্যে চীনই ব্যবহার করে ৫ লাখ ৬১ হাজার মেগাওয়াটস।
অন্যান্য দাবি
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে বাইডেন প্রশাসনের সময় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কম বিনিয়োগ পাওয়ার দাবি করেছেন। বলেছেন, একই প্রশাসনের সময় প্রায় ৩ লাখ শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিনিদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল নিয়মিত কমছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগার ও মানসিক ইনস্টিটিউশনে থাকা লাখো মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। ওয়াশিংটন ডিসিই হলো যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধের রাজধানী। গত এক বছরে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে ৩ লাখ (আসলে ৮০ হাজার) মার্কিন নাগরিক মারা গেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব দাবির কোনো প্রমাণ নেই। কিছু সংখ্যা তিনি অতিরিঞ্জিত করে বলেছেন।
(নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিন্ড চিউ।
- হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরান-ওমানের চুক্তি স্বাক্ষর
- হাওয়াইয়ে হারিকেন লালার আঘাতের শঙ্কা, বিদ্যুৎহীন ৪২ হাজারের বেশি
- ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন লেভিট
- ইরান যুদ্ধে ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
- অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী
- পাসওয়ার্ডের বিকল্প ‘পাসকি’, কতটা নিরাপদ?
- নিউইয়র্কে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্রডওয়ে অফার
- দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট স্থগ
- যুক্তরাষ্ট্রের পার্কে গুলিতে নিহত ১, আহত ৪
- শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত
- দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
- ইরানে হামলার জন্য ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প
- নিউইয়র্কে নাহার এর অ্যাপ্রিসিয়েশন লাঞ্চ
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই’র আহবায়ক কমিটি গঠিত
- নিউইয়র্কে গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট অনুষ্ঠিত
- হিলসাইড কমিউনিটির সঙ্গে কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টর সভা
- জ্যাকসন হাইটসে ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ওপর হামলা
- প্যাট্রিয়ট অব বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব বর্ষপূর্তি পালন
- মক্কা চুক্তি ঘিরে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা
- সবিতা ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন
- চলে গেলেন মির্জা আজম
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি
- সাইবার লায়ন্স ক্লাবের রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
- কবিরহাট উপজেলার বার্ষিক বনভোজন
- বিয়ানীবাজারের ভোটাদের সঙ্গে ৪ প্রার্থীর মতবিনিময়
- বাড়ির মালিকদের ওপর কর বাড়াতে আদালতের না
- বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড অনুষ্ঠিত
- শিবিরের সেই নেতার কাছে কনস্যুলেটের দুঃখ প্রকাশ
- মন্তব্য প্রতিবেদন
কর্নেল অলির প্রার্থীতা ও কাজি মন্টুর কলাম
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- আজকাল ৯২১
- আজকাল ৯০৭
- আজকের সংখ্যা ৯১৭
- আজকাল ৯০৮
- আজকাল ৯১০
- মেটার ঘোষণা: ব্রাউজার ও ডেস্কটপে বন্ধ হচ্ছে মেসেঞ্জার
- আজকাল ৯১১
- আজকাল ৯১৫
- নতুন নামে করোনার ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট
- আজকাল ৯০৯
- আজকাল ৯১২
- শীর্ষ গোয়েন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় সফর
- আজকাল ৯২৪
- নিউইয়র্কে আলোচনায় শামীম ওসমান
- আজকাল ৯১৩
- ব্রংকসে বাকার মেলায় মানুষের ঢল
- এনটিভি ও গোল্ডেন এজের হোম কেয়ার গালা ডিনার আজ
- আজকাল ৯১৬
- এবার স্টেডফাস্টের ১০ লাখ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
- অবৈধদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না
- আমি আমার ৩টি টার্গেট ঠিক করে নিয়েছে : এসপি হারুন
- নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পাশে নেই বিএনপি
- নতুন ইমিগ্র্যান্ট ঠেকাতে সিনেটে বিল পাস
- রোববার থেকে স্টুডেন্ট লোন মওকুফ কার্যক্রম শুরু
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ১১ বাংলাদেশির নাম
- কাল ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিন
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাতভর ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ
- ডিপোর্টেশন আতংকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
- ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত গ্যাস
- ট্রাম্প-বাইডেন দু’জনই বুড়ো, কাউকে পছন্দ না ভোটারদের
- নাগরিকত্ব পেতে ইন্টারভিউ দিতে হবে না
- ইংরেজিতে দুর্বলদের জন্য দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তন আসছে - অনিশ্চয়তার মুখে ২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
- যুক্তরাষ্ট্রে ২৫২ বাড়ি আমলা-পুলিশের
