শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ১৫ ১৪৩৩   ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সর্বশেষ:
জাতিসংঘে খলিলের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান ৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি, তাতে কি ছাড়া পাবে ওই কিশোর জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট মার্কিন রণতরিতে ৮ সেনার আত্মহত্যার চেষ্টার কথা স্বীকার জাতিসংঘে আজ রাতে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ৫ জনের জাল ভিসা শনাক্ত হতেই বিমানবন্দর থেকে উধাও বাকি ৭১ জন ট্রাম্পকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর ‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে’-লাখো ইরানির প্রতিজ্ঞা গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে পশ্চিমা বিশ্ব? বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পৌঁছানো কমেছে ৪১ শতাংশ ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা কানাডাকে কাঁদিয়ে সবার আগে শেষ আটে মরক্কো টেইলর সুইফটের বিয়ে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ট্রোল তাপপ্রবাহের কবলে নিউইয়র্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
১০

মিশিগানে মুসলিম ভোটাররা ইসলামবিদ্বেষী হামলার আশঙ্কায়

আজকাল রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের সিনেট নির্বাচনঃ ইহুদি ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে 

 
 
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিক্যান  মাইক রজার্স ও ডেমোক্র্যাট আব্দুল এল সায়েদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইসরায়েল বিষয়ক মার্কিন নীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেখানে গিয়ে প্রথমবারের মতো ইউএস সিনেট পদপ্রার্থী মুসলিম আব্দুলকে জিহাদিস্ট ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলায় জুইস ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। উল্লেখ্য আব্দুলের বাবা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী ও নাগরিক হয়েছেন। আব্দুলের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানেই।
মিশিগানে এবারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং তাদের উদ্বেগকেও তীব্রতর করেছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী ড. আব্দুল আল-সায়েদ নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর। তাঁর প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণায় উসকানিমূলক ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছে। এমনকি তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের প্রভাবশালী সমর্থকরা-যাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও রয়েছেন-তাঁরাও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনার কারণে ড. আব্দুল আল-সায়েদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যারা আজীবন ডেেেমাক্র্যাটিক দলকে ভোট দিয়ে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ এখন মাইক রজার্সকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। অথবা ভোটদান থেকে বিরত থাকার কথা বিবেচনা করছেন।
 

মিশিগানের সাউথফিল্ড শহরের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া মহাসড়কের ঠিক উত্তরেই রয়েছে ‘কনগ্রে গেশন শারি জেদেক’ একটি সুউচ্চ আধুনিক সিনাগগ, যা ১৯৬০-এর দশক থেকে ডেট্রয়েট শহরতলিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। রাস্তার অপর পাশে রয়েছে ‘উম্মা’ নামে একটি মুসলিম ধর্মীয় কেন্দ্র। ২০২৬ সালে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটিতে প্রতি শুক্রবার বিকেলে হাজারো মানুষ নামাজ আদায় করতে আসেন।
উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই জাতীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে এক নীরব অথচ গভীর ভয় কাজ করছে। যেকোনো সময় তারা ঘৃণামূলক অপরাধের  শিকার হতে পারেন।

আর্থিক পরিকল্পনাবিদ এবং নিকটবর্তী ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের ‘টেম্পল ইসরায়েল’-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি বকনেক বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আমাদের এমন একজন প্রার্থীর আশা করতে হচ্ছে যিনি অন্তত সবচেয়ে কম ক্ষতি করবেন। বর্তমান সময়ে আমরা গভীর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।”
সাউথফিল্ড এবং পুরো ওকল্যান্ড কাউন্টি জুড়ে-যেখানে ইয়েমেনি কফি শপের পাশেই রয়েছে কোশার (ইহুদি রীতি অনুযায়ী অনুমোদিত) কসাইয়ের দোকান-সেখানে মুসলিম ও ইহুদি ভোটাররা মোট ভোটারের একটি বড় অংশ। এখানকার অনেক বাড়ির বিশাল সামনের আঙিনাগুলো একে অপরের সাথে মিশে গেছে, ঠিক যেমনটি মিশে আছে এখানকার শহরতলি এলাকাগুলো। অনেকে এখানে চলে আসেন উন্নত মানের পাবলিক স্কুলের আকর্ষণে। যার মধ্যে একটি হলো ব্লুমফিল্ড হিলসের সেই স্কুল, যেখানে ড. এল-সায়েদ পড়াশোনা করেছিলেন।
কয়েক দশক ধরে এই এলাকাটি ডেট্রয়েটের ইহুদি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত, যেখানে রয়েছে অনেকগুলো বড় সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়)। নব্বইয়ের দশকে যখন ড. এল-সায়েদ বেড়ে উঠছিলেন, তখন থেকেই এখানে মুসলিমরা বসতি গড়তে শুরু করে। আর সেই থেকে এই সম্প্রদায় দ্রুতগতিতে বড় হয়েছে। একই এলাকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্যালডিয়ান (ইরাকি ক্যাথলিক) সম্প্রদায়। যারা গত দুই প্রজন্মের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন।
এই এলাকাটিকে যেন পুরো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ বলে মনে হতে পারে। আবার একই সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ অনন্য। অন্য সব জায়গার মতোই, এখানকার ভোটাররাও জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে হতাশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে পররাষ্ট্রনীতি ও স্থানীয় রাজনীতি একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে-যা অত্যন্ত জরুরি, ব্যক্তিগত এবং তীব্র অনুভূতির বিষয়।
অনেক ইহুদি ভোটার ‘টেম্পল ইসরায়েল’-এ ঘটে যাওয়া হামলার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেই ঘটনায় এক ব্যক্তি তার ট্রাক নিয়ে সিনাগগের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল, যা অল্পের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কক্ষগুলোকে আঘাত করা থেকে বেঁচে যায়-যেখানে তখন ১৪০টি শিশু খেলছিল। অন্যদিকে, মুসলিম ভোটাররা ইসলামবিদ্বেষী হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন; তাদের ভয়, তারা নিজে অথবা ড. এল-সায়েদ হয়তো এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
মিশিগান কয়েক দশক ধরেই রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত, বিশেষ করে ডেট্রয়েটের শহরতলি এলাকাগুলোতে। তবে বর্তমানে এই বিভাজনের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভয়, ক্রোধ ও ক্ষোভের এক তীব্র সংমিশ্রণ।
২০২৪ সালে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কাছ থেকে অবহেলিত বোধ করায়-যাদের তারা ঐতিহাসিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন-কিছু আরব ও মুসলিম ভোটার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারি পর্যায়ে ‘আনকমিটেড’ (কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না থাকা) প্রচারণায় অংশ নেন। ইসরায়েলি সরকারের প্রতি প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর. বাইডেন জুনিয়রের সমর্থনের বিষয়ে নিজেদের অসন্তোষ জানাতেই তারা তাকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এ বছর কিছু ইহুদি ভোটার-যারা ডেমোক্র্যাটিক জোটের অন্যতম প্রধান ভিত্তি-নিজেকে পরিত্যক্ত বলে মনে করছেন। কারণ দলটির ভেতরে ইসরায়েলের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নাটকীয়ভাবে নেতিবাচক হয়ে উঠেছে।
সিনেট নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়টা জুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। ড. এল-সায়েদ ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার সাথে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর যোগসূত্র টেনেছেন। তাঁর যুক্তি হলো, যে অর্থ সেখানে পাঠানো হচ্ছে, তা দিয়ে বরং দেশের ভেতরে স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে অর্থায়ন করা যেত। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন যে, হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কার্যত একটি গণহত্যার শামিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ইসরায়েল-পন্থী লবি ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ তাঁকে পরাজিত করার লক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করেছে।

মুসলিম ও ইহুদি-উভয় সম্প্রদায়ই নিজেদের অত্যন্ত অরক্ষিত বলে মনে করছে। তাদের আশঙ্কা, তাদের সন্তানরা হয়তো এমন সব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখবে, যেখানে ড. এল-সায়েদকে ‘অ-আমেরিকান’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, অথবা যেখানে ডিমের মতো নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য মিশিগান তথা ডেট্রয়েট এলাকাকে ঘিরে গাড়ি তৈরি হাব গড়ে উঠেছে কয়েক যুগ আগেই। গাড়ির কারখানাগুলোতে কাজ পাবার সুবাধে হাজার হাজার প্রবাসী বাঙলাদেশি ডেট্রয়েট ও এর পাশেপাশের এলাকায় বসবাস করেছেন। গত ৪০ বছরে হাজার হাজার বাংলাদেশি নিউইয়র্ক ছেড়ে মিশিগানে বসতি স্থাপন করেছেন। বেসরকারি হিসেবে মিশিগানে প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে এই ভোট নিয়ে উত্তেজনায় তারা ও ব্রিবত অবস্থায় রয়েছেন।

মিশিগানে মুসলিম বসতি সংখ্যা কত?
মিশিগানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখের মতো।এরমধ্যে রেজিস্টার্ড ভোটার সংখ্যা ৩ লাখের কাছাকাছি। মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৪ লাখেরও বেশি মুসলিম বসবাস করেন। এই জনগোষ্ঠী অঙ্গরাজ্যটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ। তারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠেছে। যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্রমবর্ধমান মনোযোগ আকর্ষণ করছে। মিশিগানের মুসলিম জনসংখ্যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই অন্যতম নয়, বরং এটি একটি বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক পটভূমিরও প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের মধ্যে আরব, দক্ষিণ এশীয় এবং ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আফ্রিকান-আমেরিকান মুসলিম অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। 

মিশিগানে ইহুদি বসতি সংখ্যা কত?
পুরো মিশিগান জুড়ে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ইহুদি বসতির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ভোটর সংখ্যা কত তা জানা কঠিন। কেননা ধর্মীয় বিবেচনায় ভোটার সংখ্যা গননা করা হয় না। তবে ধারনা করা হয়, ১ লাখ ২৯ হাজারের মধ্যে ৮০ হাজার রয়েছেন। করে থাকে তবে এই সংখ্যাটি মূলত নির্বাচনী কৌশল ও গণমাধ্যমের বয়ানের প্রয়োজনে ব্যবহৃত একটি আনুমানিক হিসাব। মিশিগানে ঠিক কতজন ইহুদি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নয়। ধর্মভিত্তিক নিবন্ধনের তথ্য কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে পুরো অঙ্গরাজ্য জুড়ে ইহুদি ভোটারদের নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গবেষণার অভাব রয়েছে
মিশিগানের জনসংখ্যা
মিশিগানের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার। এর মধ্যে রেজিস্টার্ড ভোটর সংখ্যা ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার ২৬০ জন। ২০২৪ সালের সাধারন নির্বাচনে শতকরা ৭৫ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। (তথ্যসূত্র-নিউইয়র্ক টাইমস, উইকিপিডিয়া)

 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর