ট্রাম্প বললেন, এবার আমি বিশ্ব চালাচ্ছি, পরিণতি কী
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৫
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, তিনিই বিশ্ব চালাচ্ছেন। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমাহীন। কিন্তু এটি বিপজ্জনক ঔদ্ধত্যেরও ইঙ্গিত দেয় এবং একটি গুরুতর প্রশ্ন তোলে—এই বিশৃঙ্খল ও প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে পৃথিবী কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
দ্য আটলান্টিককে দেওয়া নতুন এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারে তাঁর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম মেয়াদকে সীমাবদ্ধ করে রাখা ‘কুটিল লোকগুলো’ থেকে তিনি নিজেকে মুক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়বার আমি দেশ ও বিশ্ব চালাব।’
ট্রাম্প এখন বিশ্বব্যাপী এক অগণতান্ত্রিক, খেয়ালি নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন; যিনি মস্কো থেকে নয়াদিল্লি, গাজা থেকে রোম পর্যন্ত প্রতিটি বড় ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে নিজের প্রভাব রাখার চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্পের অস্থির নেতৃত্বে বিশ্ব কোথায় যাবে
ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদী, একপেশে পররাষ্ট্রনীতির কারণে বন্ধু ও প্রতিপক্ষ—উভয়ই আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মাজদা রুজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া ইউরোপ কখনো ইউক্রেনকে কার্যকরভাবে সাহায্য করতে পারত না। সে কারণে ট্রাম্প যখন বলেন, ‘আমি দুনিয়া চালাই’, তার ভেতরে সত্যি কিছু আছে।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, তিনি কি দুনিয়াকে গঠনমূলক পথে চালাচ্ছেন, নাকি বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন?’
সমালোচনা ও ঝুঁকিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি
ট্রাম্প-সমর্থকেরা মনে করেন, অতীতের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থ ছিল। আফগানিস্তান ও ইরাকে পরাজয়, আর ইউরোপের ওপর মার্কিন সামরিক খরচ—এসব তাঁদের ক্ষোভের উৎস। ট্রাম্প তাঁদের পক্ষ থেকেই প্রশ্ন তোলেন—চীনের সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পর্ক কি কেবল এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি করেছে?
তবে ট্রাম্প এসব প্রশ্ন যেভাবে তুলছেন এবং তাঁর যে হঠকারী কৌশল, তা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
পুরোনো বন্ধুদের বাদ দিয়ে স্বৈরাচারীদের সান্নিধ্যে
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প প্রথাগত মিত্রদের অবমূল্যায়ন করছেন এবং চীন, রাশিয়া কিংবা ইরানের মতো একনায়ক শাসকদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এটি কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে রাজকীয় ভ্রমণের আমন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান নিয়ে চতুর্থবারের মতো জিতে গেছেন। এমনকি ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পোয়েলিয়েভ্রে তাঁর নিজের আসনই হারিয়েছেন।
ট্রাম্পের ‘সোশ্যাল ডারউইনিজম’ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি
জার্মান সাময়িকী Internationale Politik Quarterly-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নীতি ‘মিত্র না শত্রু’ নয়, বরং ‘শক্তিশালী না দুর্বল’ এমন সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়ানো। তিনি কেবল শক্তিকে মূল্য দেন, নীতিকে নয়।
এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সাহায্যভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিকে উল্টে দিচ্ছে। তাই তাঁর নীতিতে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নৈতিকতা—এসব গুরুত্ব হারিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক পথে চালাচ্ছেন, যেখানে বিদেশি সাহায্য কমছে, স্বৈরশাসকদের প্রশ্রয় বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে।
খেয়ালি মনোভাবের বিপজ্জনক প্রভাব
ট্রাম্পের নেতৃত্বে যেসব সিদ্ধান্ত এসেছে, সেসবের মধ্যে অনেকগুলো হঠকারী ও অব্যবস্থাপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। যেমন তিনি একতরফাভাবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন, ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি বরাবরই নমনীয় ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিশ্বব্যাপী মানুষের মনোযোগ দখল করেন; কিংবা নিজের মন থেকে শুল্কহার নির্ধারণ করেন, সেটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির সৌজন্যবোধ ও ধৈর্যের পরিপন্থী।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে অনেক দেশই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে।
‘নেতৃত্ব’ না ‘নাশকতা’
ট্রাম্প এমন অনেক প্রশ্ন তুলেছেন যা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কি আমেরিকান শিল্প ধ্বংস করেছে? ইউরোপ কি নিজের প্রতিরক্ষা নিজে সামলাতে পারে না? কিন্তু এসব প্রশ্নের সমাধান খোঁজার পদ্ধতিটিই বিশৃঙ্খল, অপরিণামদর্শী এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠছে।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশিষ্ট ফেলো ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইয়ান লেসার বলেন, ‘ট্রাম্পের আচরণ প্রথাগত মিত্রদের মতামতকে উপেক্ষা করছে। এটা মাঝেমধ্যে ফল আনতে পারে; কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি।’
ভবিষ্যতের আমেরিকার জন্য অন্ধকার সম্ভাবনা
বিশ্বজুড়ে মিত্ররা এখন আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতার পথে হাঁটছে। এটা যেমন আমেরিকার সামরিক জোটগুলোর শক্তি কমাতে পারে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের জন্য বিশ্বনেতৃত্বের দায়িত্বও কঠিন করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি ইউক্রেনে পুতিনের ভূমি দখল মেনে নেওয়ার চিন্তা করছেন, গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছেন, এমনকি আফ্রিকায় মানবিক সহায়তা বন্ধ করেছেন।
এতে আমেরিকার মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মিত্রদের মধ্যে। এশিয়ার দেশগুলো এখন চিন্তা করছে, চীনের সঙ্গে উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো পাশে থাকবে তো?
ইউরোপের দেশগুলো আবার নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি ব্যয় করতে শুরু করেছে। এতে ন্যাটোর মতো জোট দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশিষ্ট ফেলো ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইয়ান লেসার, ‘ট্রাম্পের বিজয় ইতিহাসকে এক ধাক্কা দিয়েছে, যা আগে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ ছিল, তা এখন তাৎক্ষণিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।’
ট্রাম্প নিজেকে এখন বিশ্বের শাসক ভাবতে পারেন; কিন্তু তাঁর নেতৃত্ব ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পক্ষে দুনিয়া চালানো আরও কঠিন করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
- নখের সমান চিপে ১০০ বিলিয়ন ট্রানজিস্টর
- মার্কিন ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সুমাইয়া
- ইউরোপে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১৩০০ মৃত্যু: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- প্যাকেজ ভ্যাট থাকছে না ক্ষুদ্র ব্যবসায়
- গরুর মাংস রান্না করায় ভারতে বাড়ি থেকে তিন নারীকে গ্রেপ্তার
- ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
- বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ট্যাক্স নেওয়ার প্রস্তাব
- হাজার ছাড়াল লাশ নিখোঁজ অর্ধলাখ
- ধসে পড়া ভবন থেকে দুদিন পর গোঙানির শব্দ
- বিবাহিত ছেলের প্রেমে পড়া নিয়ে যে উপদেশ প্রভার
- ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা
- মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, প্রতিরোধে বিজিবি
- বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম
- এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ
- জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আটক
- তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ
- সমঝোতা লঙ্ঘন করলে জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত: ইরানের হুঁশিয়ারি
- ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে ৮৮ বিলিয়ন ডলার চাইলেন ট্রাম্প
- মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠিত
- বিএনপির জিল্লু ৬ মাস পর ফিরলেন
- শত্রুর বিরুদ্ধে মিন্টুর হুংকার
- ৩০ জুনই নির্বাচনী মহড়ার প্রাথমিক দৃশ্য
- যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইস’র গ্রেপ্তার সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ
- নতুন তারকার জন্ম হয়নি এবারের বিশ্বকাপে
- বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের পুরস্কার বিতরণ
- নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
- অভিবাসী বিতারণে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের বিজয়
- প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ভারত চাপে
- সেই রাজকুমার হারলেন
- বিশেষ একাউন্ট: প্রবাসীরা বিনিয়োগ ফেরত আনতে পারবে
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- আজকের সংখ্যা ৯০৩
- আজকাল ৯০২
- আজকাল ৯০০
- আজকাল ৯০৪
- আজকাল ৯০১
- উস্কানির অভিযোগে ইলিয়াসের আরেক পেজ সরাল মেটা
- গ্রেফতারের আগে খালেদাকে নিয়ে শওকত মাহমুদ
- ফেসবুক অ্যাপে ফের বড় পরিবর্তন
- কাবা শরিফ ও মদিনায় ৩০ দিনে ৭ কোটি ৮৮ লাখ মুসল্লি
- আজকাল ৯২১
- আজকাল ৯০৫ তম সংখ্যা
- অর্ধশতাব্দী পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নাসার
- সিনেটে ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী ‘স্টপ সিটিজেনশিপ অ্যাবিউজ’ বিল উত্থাপ
- নির্বাচনের আগে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা
- আজকাল ৯০৬ তম সংখ্যা
- এটা আমার নতুন অধ্যায়ের সূচনা, বহিষ্কার হওয়ার পর রুমিন ফারহানা
- আজকাল ৯০৭
- আজকাল ৯০৮
- আজকের সংখ্যা ৯১৭
- অবৈধদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না
- আমি আমার ৩টি টার্গেট ঠিক করে নিয়েছে : এসপি হারুন
- নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পাশে নেই বিএনপি
- নতুন ইমিগ্র্যান্ট ঠেকাতে সিনেটে বিল পাস
- রোববার থেকে স্টুডেন্ট লোন মওকুফ কার্যক্রম শুরু
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ১১ বাংলাদেশির নাম
- কাল ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিন
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাতভর ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ
- ডিপোর্টেশন আতংকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
- ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত গ্যাস
- ট্রাম্প-বাইডেন দু’জনই বুড়ো, কাউকে পছন্দ না ভোটারদের
- নাগরিকত্ব পেতে ইন্টারভিউ দিতে হবে না
- অনিশ্চয়তার মুখে ২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
- ইংরেজিতে দুর্বলদের জন্য দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তন আসছে - যুক্তরাষ্ট্রে ২৫২ বাড়ি আমলা-পুলিশের
