হোলি আর্টিজান হামলা: বিভীষিকাময় ঘটনার ৩ বছর
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০১৯
গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার বিভীষিকাময় তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে এক জাপানি ও দু’জন শ্রীলংকানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর করা মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আছে। এরই মধ্যে ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মামলার বাদীসহ ৬০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবারও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এ মামলার রায় হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সব সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি। আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসের মধ্যে এ মামলার রায় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, এ মামলায় ৬ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর যেসব সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করবে। এখন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকদের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ হলে পরিপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির লক্ষ্যে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।
পাবলিক প্রসিকিউটর আরো বলেন, ন্যক্কারজনক এ ঘটনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় ওই অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি সন্ত্রাসীরা। হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় ২০১৬ সালের ৪ জুলাই এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ১ জুলাই পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির ৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ২১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটির বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আসে। পলাতক দু’জন আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় গ্যাজেট প্রকাশ হয়। এরপর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন। চার্জ গঠনের পর থেকে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য হয়। ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার পর পলাতক দু’জন আসামিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পলাতক দু’জনের পক্ষে সরকার থেকে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়। যদিও গ্রেফতারের পর আসামীরা তাদের নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ দেন। সর্বশেষ গত ২৫ জুন পাঁচজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এ পাঁচজনসহ আদালতে মোট ৬০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রতিটি সাক্ষীকে আসামিপক্ষ জেরা করেছেন।
ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ তিন ঘণ্টা খুলে দেয়া হবে গুলশানের সাবেক হোলি আর্টিজান বেকারি ভবন। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি নাগরিকরা হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হলি আর্টিজান বেকারি এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগতদের তল্লাশি করে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে।
হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার সেই রাতটি ছিল বিভীষিকাময়। জঙ্গিরা ২২ জনকে হত্যার পর রাতভর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখেছিল ২৫ জনকে। এর মধ্যে রেস্তোরাঁর স্টাফ ছিলেন ১৪ জন। এদের মধ্যে হোলি আর্টিজান বেকারির পাস্তা শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন শিশির সরকার। হামলার দিন তিনি কোল্ড রুমে এক জাপানি নাগরিকের সঙ্গে তিনঘণ্টা পালিয়ে ছিলেন। রাত ১২টার দিকে জঙ্গিরা জাপানি নাগরিককে নিয়ে গিয়ে খুন করে জঙ্গিরা। রাতে জঙ্গিরা যে খাবার খেয়েছিল, তা শিশিরকে দিয়েই তৈরি করিয়েছিল।
বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিশির সরকার বলেন, রাত পৌনে ৯ টার দিকে হঠাৎ গেস্টদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে উঁকি দিয়ে অস্ত্রধারী জঙ্গিদের দেখতে পাই। এরপর জাপানি নাগরিকসহ কোল্ড রুমে ঢুকে পড়ি। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো ডাকাত বা বড় সন্ত্রাসী ঢুকেছে, তারা টাকা পয়সা নিয়ে চলে যাবে। আমরা দুজনই চিলে কোঠা বা কোল্ড রুমের দরজার রাবারের অংশটা ধরে রাখছিলাম। যেন বাইরে থেকে টেনে খুলতে না পারে। আমি কান পেতে ফায়ারিংয়ের শব্দ শুনেছি। রাত ১২ টার দিকে কোল্ড রুমের বাইরে থেকে দরজা টানে জঙ্গিরা, বলে খোলার জন্য। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা টেনে ধরে ছিলাম আমরা। কোল্ড রুমে ঠান্ডায় আমরা কাঁপছিলাম। হঠাৎ দরজাটা খুলে যায়। এরপর আমি জঙ্গি রোহানকে দেখতে পাই। পরে পত্রিকায় দেখে ওকে চিনেছি। এরপর আমাকে নিচে যেতে বললে, আমি সামনে গিয়ে বসি। গেস্টদের লাশ ও রক্ত ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছিল না।
তিনি বলেন, অনেকক্ষণ পর একজন জঙ্গি (লম্বা মতো) তার নাম মনে হয় নিবরাস, ও আইসা জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের মধ্যে ওয়াইফাইয়ের পাসওয়ার্ড কে জানে? যে জানো তাড়াতাড়ি বলো। পরে ভয়ে শাহরিয়ার (অপর একজন কর্মী) বলল যে আমি জানি। জঙ্গি নিবরাস বলল যে এই মোবাইলে পাসওয়ার্ড দাও। ওরে একটা মোবাইল দিলো। ওরা (জঙ্গিরা) এর পরে মোবাইল দিয়ে লাশের ছবি তুলছে, কোথায় কোথায় যেন কথা বলল।
শিশির আরো বলেন, রাত দুইটা কি আড়াইটার দিকে জঙ্গিরা বলে তোমাদের মধ্যে বাবুর্চি কে? তখন অন্যরা আমাকে দেখিয়ে দেয়। জঙ্গিরা আমাকে কিচেন রুমের মধ্যে নিয়ে জানতে চাইলো, কী কী মাছ আছে? আমি বললাম সব ধরনের মাছ আছে। আমারে জিজ্ঞাসা করল কোরাল মাছ আছে? আমি বললাম আছে। বলে যে বের কর। সেটা বের করলাম। বলল যে আর কী আছে? চিংড়ি আছে? বললাম, আছে। আমি ওগুলো বের করে দিলাম। ওরা বলে এগুলো মশলা দিয়ে ভালো করে ফ্রাই কর। ওদের কথা মতো মাছগুলো আমি তেলে ফ্রাই করলাম। পরে তা প্লেটে করে তাদের দিলাম। জঙ্গিরা খাবারগুলো গেস্টদের দিলো আর আমাদের বলল যে, তোরা মিলে সেহরি কর। কিন্তু আমাদের কারো পেটে খাবার যায় না।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে নিহত হয় তিন বাংলাদেশি নাগরিকসহ ২০ জন। এর মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানের এবং একজন ভারতীয়। এছাড়া জঙ্গিদের হামলার শুরুতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। রেঁস্তোরার ভেতরে রাতভর জিম্মি ছিলেন অন্তত ২৪ জন, যাদের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর পরদিন সকালে সেনা কমান্ডো পরিচালিত অপারেশন থান্ডারবোল্টের সময় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাতের বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা হয় আরো অন্তত ৭ জনকে। অপারেশন থান্ডারবোল্টের পর রেঁস্তোরা থেকে ৫ জঙ্গিসহ ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পালাতে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক রেস্তোরাঁকর্মী।
- যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষের সমাগম
- গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু: ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার
- আওয়ামী পরিবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
- ব্র্রংকস কমিউনিটির উদ্যোগে আলবেনিতে বাংলাদেশ ডে
- ব্রংকসে ডিটেকটিভ দিদারের নামে রাস্তা
- ‘ড. ইউনূসকে ২০২৯ পর্যন্ত রাখতে চেয়েছিল’
- ট্রাম্পের আঙ্গিনায় ডেমোক্র্যাটদের বিজয়
- বিমানবন্দরে আইস পুলিশ মোতায়েন
- বাংলাদেশিদের ঈদের জামাতে মেয়র মামদানি
- ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করার চেষ্টা
- দৃশ্যমান হচ্ছে আওয়ামী লীগ
- মার্কিন সেনাদের রুখতে ইরানের ১০ লাখ যোদ্ধা প্রস্তুত
- ডা. জুবাইদা রহমান প্রশংসিত
- সেন্ট্রাল পার্কে মুসলিম নারীকে হিজাব খুলে ধর্ষণচেষ্টা
- নিউ ইয়র্ক সিটিতে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৩০ ডলার!
- যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বৃহত্তম বিক্ষোভ শনিবার
- ৫ লাখ নিউইর্য়কার মেডিকেইড সুবিধা হারাচ্ছেন
- নিউইয়র্ক স্টেট আইনসভা বাংলাদেশময়
- বট বাহিনীর নৃত্য, আমিনুলের তেল ও বিব্রত জাইমা
- ১/১১ কুশীলবরা গা ঢাকা দিচ্ছে
- নিউইয়র্ক সিটিতে ৮ হাজার কলেজ শিক্ষার্থীই হোমলেস
- আজকাল ৯১৫
- ভিয়েতনামে দলের সঙ্গে যোগ দিলেন হামজা চৌধুরী
- সংসার ভেঙে গেল মৌসুমী হামিদের
- যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল সামিটে জুবাইদা রহমান
- ইসরায়েলের অন্যতম বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- শাসক বদলেছে, শোষণের ধারা বদলায়নি: শফিকুর রহমান
- নবীন ফ্যাশনের শোরুম বন্ধের ঘটনায় হাতিরঝিল থানার ওসি ‘ক্লোজড’
- জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত
- ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে দুশ্চিন্তায় ইসরায়েল
- আজকাল এর ৮৯৩ তম সংখ্যা
- কোন দল জিতবে সংসদ নির্বাচনে
- টুটুলের কাছে পাওনাঃ রোকসানা মির্জা ও আজাদের কান্না
- ২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- আজকাল ৮৮৭
- আজকাল ৮৮৯
- জামাত কেন এবারই ক্ষমতায় যেতে চায়!
- ইনস্টাগ্রামের ফিচার এখন হোয়াটসঅ্যাপে
- আজকাল ৮৯২
- আজকাল ৮৯১ তম সংখ্যা
- আজকাল ৮৯৪
- শাহ নেওয়াজ গ্রুপে নতুন মুখ
- আজকাল ৮৯০
- ডাকসু ইলেকশন মেটিকুলাসলি ডিজাইন্ড!
- টেলিগ্রামে ১০৮ পর্নোগ্রাফি চ্যানেল শনাক্ত, বন্ধে চিঠি
- হজযাত্রীদের নিবন্ধনের সময় আরও বাড়লো
- সব ভিসাতেই পালন করা যাবে ওমরাহ
- আজকাল ৮৯৫
- আজকের সংখ্যা ৯০৩
- শেখ হাসিনা একজন ছোটখাটো হিটলার: মাহমুদুর রহমান
- শেখ রাসেলের একটি প্রিয় খেলা
- ঢাকার ২৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার
- বিকাশের কাছে জিম্মি এজেন্টরা
- আবার ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগ: ইআইইউ
- ‘নগদ’কে অনুসরণ করে এগুচ্ছে বিকাশ!
- জাতিসংঘে অভিবাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনা গৃহীত
- ৫০ হাজার আসনের ‘শেখ হাসিনা’ ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে পূর্বাচলে
- শেষ ঠিকানা আজিমপুর কবরস্থান
- শেখ হাসিনার হাতটি ধরে পথের শিশু যাবে ঘরে
- সরকার যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় কোভিডের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে: প্
- ভেনামি চিংড়ি চাষে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস
- বেসরকারি মেডিকেল কলেজের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর তাগিদ
- প্রচারণার শুরুতেই সহিংসতা অনাকাঙ্ক্ষিত: সিইসি
- আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা স্মারক সই
- জাতীয় চেতনার স্মারক ‘দোয়েল চত্বর’
