বৃহস্পতিবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৩ ১৪৩৩   ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭

সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
১৬

বাজেট ২০২৬-২৭

জমির বাজারমূল্যে দিতে হবে ‘সম্পদ কর’

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬  

সারচার্জের পরিবর্তে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘সম্পদ কর’ আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। দলিল মূল্যের পরিবর্তে জমির বাজার (মৌজা) মূল্যের ওপর কর আদায় করা হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, বারিধারা, চট্টগ্রামের খুলশী ও আগ্রাবাদসহ বিভাগীয় শহরের অতি ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে এই উদ্যোগ। এর ফলে কর ন্যায্যাতা সৃষ্টির পাশাপাশি বৈষম্য হ্রাস পাবে বলে ধারণা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতোমধ্যে সম্পত্তি ও সম্পদ কর আইন প্রণয়ন ও বিধির খসড়া প্রস্তুত করেছে সংস্থাটি।

বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর (বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, কৃষি ও অকৃষি জমি) সম্পদের মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি হলে সারচার্জ দিতে হয়। এছাড়াও নিজ নামে একাধিক গাড়ি বা ৮ হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহ সম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ দিতে হয়। অবশ্য সম্পদের পরিমাণ বেশি হলে সারচার্জও বেশি দিতে হয়। যেমন-নিট সম্পদের মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম হলে ১০ শতাংশ; সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম হলে ২০ শতাংশ; সম্পদের মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ৫০ কোটি টাকার কম হলে ৩০ শতাংশ এবং সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রদেয় করের ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হয়।

সারচার্জ দিতে হয় প্রদেয় করের ওপর। অর্থাৎ একজন করদাতা যত টাকা আয়কর দিচ্ছেন, তার ভিত্তিতে সারচার্জ আদায় করা হয়। উদাহরণস্বরূপ-‘ক’ নামক ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। তিনি বছরে আয়কর দেন এক লাখ টাকা। এই এক লাখ টাকা ওপর ১০ শতাংশ হারে তাকে ১০ হাজার টাকা সারচার্জ হিসাবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৯৬ কোটি টাকা সারচার্জ আদায় করেছে এনবিআর। এর আগের দুই অর্থবছরের তথ্য এনবিআরের সংরক্ষণ করেনি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০ হাজার ৫৩ জন করদাতা ৬৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সারচার্জ দিয়েছেন। ২০২১-২২ অর্থবছরে সারচার্জ দিয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৫৪ জন করদাতা। আদায় হয়েছিল ৬২৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৯১৯ জন করদাতা ৫৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা সারচার্জ দিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে সারচার্জের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করছে এনবিআর।

বাজেটসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে এবং প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈষম্য কমাতে সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর আরোপের চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রাথমিকভাবে একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল পেলে এটি আইন আকারে এটি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নতুন নিয়মে, সম্পদের সীমা একই থাকবে। শুধু বদলে যাবে কর গণনার পদ্ধতি। যেমন-চার কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। দশ কোটির বেশি, কিন্তু ২০ কোটির কম হলে এক শতাংশ; ২০ কোটির বেশি, কিন্তু ৫০ কোটির কম হলে এক দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৫০ কোটির বেশি হলে দুই শতাংশ ‘সম্পদ কর’ কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পদের মূল্য নির্ধারিত হবে বাজারভিত্তিক বা মৌজামূল্যে। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না। ফলে সম্পদ কর কারও জন্য বোঝা তৈরি করবে না। বরং কর ন্যায্যতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। যুগান্তরকে এমন তথ্য জানিয়েছেন কয়েকজন কর কর্মকর্তা। তারা এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে বলেন-যেমন একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয়কর হিসাব করে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। একই ব্যক্তির সম্পদ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিনি এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত নতুন সম্পদ করের প্রথম ধাপ বা স্লাবের মধ্যে আছেন। এখানে তাকে সম্পদ কর হিসাবে দিতে হবে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ তার সম্পদ কর দাঁড়াবে ৩ লাখ টাকা। এখানে যেহেতু বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির প্রদেয় করের চেয়ে তার সম্পদ কর বেশি হবে না, সেহেতু তিনি ১ লাখ টাকা আয়কর প্রদান করায় তার জন্য সম্পদ করও নির্ধারণ করা হবে ১ লাখ টাকা। ফলে তাকে সরকারকে মোট দিতে হবে ২ লাখ টাকা। এছাড়া যেহেতু সম্পদ কর পাশ হওয়ার সময় সারচার্জ প্রথা বাতিল করা হবে, সেহেতু তাকে আর সারচার্জও দেওয়া লাগবে না।

যেভাবে রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে : সম্পদ কর দুভাবে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। প্রথমত, ন্যূনতম প্রদেয় করের সমান কর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দলিল মূল্যের পরিবর্তে মৌজামূল্যে নির্ধারণ করা হলে সম্পদ করের আওতা বাড়বে। বর্তমানে দলিল মূল্যের ওপর সারচার্জ আদায় করায় রাজধানীর অভিজাত এলাকার অতি ধনী অনেক ব্যক্তি করের আওতার বাইরে থাকছে।

উদাহরণস্বরূপ-‘ক’ নামক ব্যক্তিকে আগে ১০ হাজার টাকা সারচার্জ দিতে হতো। নতুন নিয়মে তাকে মোট সম্পদ মূল্যের ওপর দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সম্পদ কর দিতে হবে। এ নিয়মে তার আড়াই লাখ টাকা সম্পদ কর দেওয়ার কথা। যেহেতু প্রদেয় করের বেশি সম্পদ কর হবে না, সেহেতু ‘ক’ নামক করদাতাকে এক লাখ টাকা সম্পদ কর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তি ৯০-এর দশকে গুলশানে ১০ লাখ টাকা দরে ৮০ লাখ টাকায় ৮ কাঠা জমি কিনেছেন। বিদ্যমান পদ্ধতিতে তাকে সারচার্জ দিতে হয় না। বর্তমানে গুলশানে আবাসিক প্লটের মৌজামূল্য প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি। সে হিসাবে তার সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৮ কোটি টাকা। বিধায় নতুন নিয়মে ওই ব্যক্তিকে সম্পদ কর দিতে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই সম্পদ করের প্রচলন আছে। সেসব দেশে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি সম্পদ কর হিসাবে আদায় করা হয়। যেমন-যুক্তরাষ্ট্রে জিডিপির ৩ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ২০ শতাংশ, কানাডা ৩ দশমিক ১০ শতাংশ, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া ৪ শতাংশ, জাপান ২ দশমিক ৮০ শতাংশ, স্পেন ২ দশমিক ৫০ শতাংশ ও সুইজারল্যান্ড ২ দশমিক ১০ শতাংশ সম্পদ করের মাধ্যমে আদায় করে। যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ কর আদায় সম্ভব।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, কর ন্যায্যতার প্রেক্ষাপটে যার আয় ও সম্পদ বেশি তার করের বোঝা বেশি হওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে সম্পদ কর আরোপ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সম্পদের ভ্যালুয়েশন পদ্ধতি যেন সর্বজন গৃহীত হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা বাংলাদেশের কর সংস্কৃতি অনেক দুর্বল। জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হলে সম্পদ গোপনের প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে। এতে অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থের আকার বাড়তে পারে। 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর