বৃহস্পতিবার   ০৫ নভেম্বর ২০২৬   কার্তিক ২১ ১৪৩৩   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সর্বশেষ:
জাতিসংঘে খলিলের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হলেন জাইমা রহমান ৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি, তাতে কি ছাড়া পাবে ওই কিশোর জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট মার্কিন রণতরিতে ৮ সেনার আত্মহত্যার চেষ্টার কথা স্বীকার জাতিসংঘে আজ রাতে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ৫ জনের জাল ভিসা শনাক্ত হতেই বিমানবন্দর থেকে উধাও বাকি ৭১ জন ট্রাম্পকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর ‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে’-লাখো ইরানির প্রতিজ্ঞা গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে পশ্চিমা বিশ্ব? বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পৌঁছানো কমেছে ৪১ শতাংশ ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা কানাডাকে কাঁদিয়ে সবার আগে শেষ আটে মরক্কো টেইলর সুইফটের বিয়ে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ট্রোল তাপপ্রবাহের কবলে নিউইয়র্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
৬

যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কিছু আসন হারায়। তবে এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনামলের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা এবং ডেমোক্র্যাটদের কৌশলী নির্বাচনী প্রচারণাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে কাজ করেছে। পাশাপাশি হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন হারানোও দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পাঁচটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবারের নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে আসে। নর্থ ক্যারোলাইনার এক ভোটার বিবিসিকে জানিয়েছেন, জ্বালানি থেকে শুরু করে মুদি পণ্য—সবকিছুর দাম বেড়েছে। এ কারণে তিনি রিপাবলিকানদের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে। একই সময়ে দেশটিতে ডিজেলের দামও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়।

নির্বাচনী জরিপেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা কিংবা তাঁদের পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন। ফলে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে না পারার ক্ষোভ ভোটের মাঠে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে গেছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের অসন্তোষ
রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, যার চাপ পড়ে মার্কিন ভোক্তাদের ওপরও।

যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিকের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) গোষ্ঠীর অনেকেও এ সামরিক অভিযানকে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখেছেন। কারণ, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এক জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। অন্যদিকে, ৭৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, নির্বাচনে তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্পও এ যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করেন। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তাঁর সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

ডেমোক্র্যাটদের কৌশলী প্রচারণা
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পেছনে প্রার্থীদের প্রচারণার ধরনও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁরা জাতীয় রাজনীতির বিতর্কের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোসহ ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলো ছিল তাঁদের প্রচারণার মূল উপজীব্য।

টেক্সাসের সাবেক শিক্ষক জেমস টালারিকো এবং কানসাসের যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন নিজেদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বিষয়গুলো সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায় করেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় অপ্রত্যাশিত জয় পান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুস। সাবেক এই শিশু বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, মিশিগানে জয়ী আব্দুল এল-সায়েদ রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন। জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত সিনেটর জন অসফও জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতির বিষয়কে প্রচারণার কেন্দ্রে রাখেন। রাজ্যটিতে ট্রাম্প দুবার জয়ী হলেও ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতার সহজ জয় তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণার কৌশল যে কার্যকর হয়েছে, তা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন ট্রাম্পও। তিনি প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণার প্রশংসা করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করেছেন। বিপরীতে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব না দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা। মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। ফলে এসব বিষয়ে ভোটারদের ক্ষোভের প্রভাব পড়েছে তাঁর দলের প্রার্থীদের ওপরও।

শুধু বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকানদের নিজস্ব ভোটব্যাংকেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর ফলে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁকে সমর্থন দেওয়া কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এবার রিপাবলিকান প্রার্থীদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ভোটারদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন ব্যালটে তাঁর নিজের নামই রয়েছে। কিন্তু তাঁর এই কৌশল প্রত্যাশিত ফল আনতে পারেনি। বরং রিপাবলিকানদের প্রচারণায় ট্রাম্পকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির জন্য উল্টো ফল বয়ে এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচনের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা যায়, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের প্রতি ট্রাম্পের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অধিকাংশ ভোটার। অথচ ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাচনের আগে দেওয়া শেষ ভাষণে তিনি নিজের বাসভবনের পেছনের রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজ নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন। ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের এই দূরত্বও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন হারানো
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পেয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি। ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে এই ভোটারদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই সমর্থনের চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।

বিশেষ করে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক-অধ্যুষিত কংগ্রেসীয় আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওই অঞ্চলের তিনটি আসনেই জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় হিস্পানিক-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশের বেশি কমেছে। অভিবাসন নীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ বেড়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ মানুষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। একই সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত কাউন্টিগুলোতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন বেড়েছে।

সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক চাপ, ইরান যুদ্ধের প্রভাব, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সমর্থন হারানো—এই পাঁচটি বিষয় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে বলে বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর