যে দেশে জন্মের চেয়েও গর্ভপাতের হার বেশি!
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৯
গ্রিনল্যান্ডে ২০১৩ সালের পর থেকে শিশু জন্মের চেয়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে বেশি। দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর যেখানে ৭০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে সেখানে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে ৮০০টি।
'এনিয়ে আমি দ্বিতীয়বার চিন্তা করি না। গর্ভপাতের বিষয়ে আমরা খোলামেলা কথা বলি। আমার মনে আছে, শেষবার যখন গর্ভপাত করি তখন আমি আমার সব বন্ধুসহ পরিবারের সবাইকে জানিয়েছিলাম।' বলছিলেন গ্রিনল্যান্ডের ১৯ বছর বয়সী পিয়া। পরিচয় গোপন রাখতে তার নামটি বদলে দেওয়া হয়েছে।
গত দুই বছরে তিনি মোট পাঁচবার গর্ভপাত করিয়েছেন। 'সাধারণত আমি জন্মনিরোধক ব্যবহার করি। কিন্তু কখনো কখনো সেটা করতে ভুলে যাই। এখন আমি সন্তান নিতে পারবো না। কারণ আমি এখন স্কুলের শেষ বর্ষে।' বলেন রাজধানী নুকের এই কিশোরী।
গ্রিনল্যান্ডে এরকম আরো বহু নারী আছেন যারা তার মতো বেশ কয়েকবার গর্ভপাত করিয়েছেন।
পরিসংখ্যানে সেটাই দেখা যায় দেশটিতে শিশু জন্মের চেয়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে বেশি। দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর যেখানে ৭০০টি শিশুর জন্ম হয়েছে সেখানে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে ৮০০টি।
তাহলে গ্রিনল্যান্ডে গর্ভপাতের হার এতো বেশি হওয়ার পেছনে কারণ কী?
লজ্জা কম
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড, কিন্তু এর জনসংখ্যা খুবই কম- মাত্র ৫৬ হাজার।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে যতো নারী অন্তঃসত্ত্বা হন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি গর্ভপাত করে ফেলেন। প্রতি এক হাজার নারীর মধ্যে গর্ভপাতের হার প্রায় ৩০। ডেনমার্কে এই হার মাত্র ১২।
গ্রিনল্যান্ড স্বশাসিত একটি দেশ, কিন্তু পুরোপুরি সার্বভৌম নয়। অনেক কিছুর জন্যেই দেশটি ডেনমার্কের উপর নির্ভরশীল।
অর্থনৈতিক সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট এবং শিক্ষার অভাব - এসবই গর্ভপাতের হার বেশি হওয়ার কারণ। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও যথার্থ নয়, কারণ দেশটিতে বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সরবরাহ করা হয় এবং সেসব খুব সহজেই পাওয়া যায়।
যেসব দেশে গর্ভপাত বৈধ এবং বিনা খরচে সেটা করা যায়, সেসব দেশেও গর্ভপাতের বিষয়ে লাজ-লজ্জা কাজ করে থাকে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে এরকম কিছু নেই। অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের ব্যাপারে এই দেশের নারীরা মোটেও চিন্তিত নন। তারা বিব্রতও হন না।
গর্ভপাত দিবস
অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের সংখ্যা এতো বেশি কেন এই দেশে?
"আমার বেশিরভাগ বন্ধুই একবার হলেও গর্ভপাত করিয়েছে। আমার ও আমার ভাইয়ের জন্মের আগে আমার মা-ও তিনবার গর্ভপাত করিয়েছিলেন," বলেন পিয়া, "কিন্তু তিনি এবিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন না।"
"যৌন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নুকের শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রতি বুধবার চালু আছে একটি বিশেষ ক্লিনিক। এই দিনটিকে তারা 'গর্ভপাত দিবস' বলেই মনে করে," বলেন তুরি হেরমান্সদতির, ডেনমার্কের রসকিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিষয়ে পিএইচডি করছেন তিনি।
"গ্রিনল্যান্ডে গর্ভপাতের বিষয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ কোন বিষয় বা টাবু নয়। নৈতিকতার দিক থেকেও এটাকে খারাপ হিসেবে দেখা হয় না। এমনকি বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করা কিম্বা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়াকে খারাপ চোখে দেখা হয় না," বলেন তিনি।
জন্মনিরোধক ফ্রি
"জন্মনিরোধক পাওয়া যায় বিনা পয়সায়। এগুলোও পাওয়াও সহজ। কিন্তু আমার বন্ধুরা এসব তেমন একটা ব্যবহার করে না," বলেন পিয়া।
স্টাইন ব্রেনো একজন নার্স। গত কয়েক বছর ধরে গর্ভপাতের বিষয়ে গবেষণা করছেন তিনি।
"আমি যাদের ওপর জরিপ চালিয়েছি, তাদের প্রায় ৫০ শতাংশ জন্মনিরোধকের কথা জানেন কিন্তু তাদের ৮৫ শতাংশ এসব ব্যবহার করেন না কিম্বা ঠিক মতো ব্যবহার করেন না," বলেন তিনি।
তার মতে অনাকাঙ্খিত গর্ভপাতের পেছনে একটি কারণ হতে পারে অ্যালকোহল। তিনি বলেন, "তারা যখন মদ খান তখন তারা জন্মনিরোধক ব্যবহারের কথা ভুলে যান।"
তার মতে নারীরা তিনটি কারণে জন্মনিরোধক ব্যবহার করেন না বলে তিনি মনে করেন।
"প্রথমত যারা শিশুর জন্ম দিতে চান, দ্বিতীয়ত যেসব নারী সহিংসতার শিকার কিম্বা মদ খান এবং তৃতীয়ত তাদের পুরুষ সঙ্গী হয়তো কনডম ব্যবহার করতে রাজি হন না।"
সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন
কোন নারী যদি ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে তিনি গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অথবা তার বাড়িতে যদি সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটে তাহলেও হয়তো তিনি চাইবেন না যে তার সংসারে শিশুটি আসুক।
"তারা মনে করেন অবহেলিত ও অনাকাঙ্খিত শিশুর চাইতে গর্ভপাতই ভাল," বলেন লার্স মোসগার্ড, একজন ডাক্তার তিনি।
গ্রিনল্যান্ডে পারিবারিক সহিংসতা একটি বড় সমস্যা। প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর একজন বলেছেন যে তারা বাড়িতে তার মাকে সহিংসতার শিকার হতে দেখেছেন।
অনেক সময় পরিবারের শিশুরাও এই সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে।
"গ্রিনল্যান্ডে লোকজনের এক তৃতীয়ায়শ শৈশবে কোন না না কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন," বলেছেন ডিতে সলবেক, যৌন নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে গৃহীত সরকারি প্রকল্পে কাজ করেন তিনি।
জন্মনিরোধ সম্পর্কে ধারণা কম
যদিও দেশটিকে বিনামূল্যে জন্মনিরোধক সরবরাহ করা হয় এবং এসব সহজেই পাওয়া যায়, তারপরেও এর সুফল খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না।
"মনরিং আফটার পিল বলে যে কিছু আছে সেটা আমি মাত্র একমাস আগে জেনেছি। আমার ধারণা অনেকেই এই বড়ির ব্যাপারে জানে না," বলেন পিয়া।
"আমার মা কখনো আমার সাথে এসব বিষয়ে কথা বলে নি। কিছু কিছু জিনিস আমি স্কুল থেকে শিখেছি। আর বেশিরভাগই জেনেছি বন্ধুদের কাছ থেকে।"
আত্মহত্যার হারও সবচেয়ে বেশি
গ্রিনল্যান্ডে শুধু গর্ভপাতের হার নয়, আত্মহত্যার হারও অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে প্রত্যেক বছরে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৮৩ জন আত্মহত্যা করেন।
যেসব কিশোর কিশোরী কিম্বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন, তাদের কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। যতো মানুষ আত্মহত্যা করেন তাদের অর্ধেকেরও বেশি অল্পবয়সী পুরুষ।
"নির্যাতন ও সহিংসতার ভেতরে যারা বেড়ে ওঠে তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি," বলেন মনোবিজ্ঞানী লার্স পিডারসেন।
অ্যালকোহলও দেশটির বড় সমস্যা। এর জের ধরে বেড়েছে সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনাও।
"প্রত্যেকেই এমন কাউকে না কাউকে চেনেন যিনি আত্মহত্যা করেছেন," বলেন পেডারসন।
গর্ভপাত ফ্রি
দেশটিতে সবার জন্যে গর্ভপাত ফ্রি। সেকারণে অনেকেই চিন্তাভবনা না করেই গর্ভপাত করে ফেলেন। তাই কেউ কেউ মনে করেন এই হার কমাতে হলে গর্ভপাতের ওপর চার্জ বসানো উচিত।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই হার বেশি হওয়ার পেছনে ফ্রি গর্ভপাতের কোন সম্পর্ক নেই।
গ্রিনল্যান্ডে ছেলেমেয়েরা ১৪-১৫ বছর বয়স থেকে যৌন সম্পর্ক করতে শুরু করে। জাতীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যাদের বয়স ১৫ তাদের ৬৩ শতাংশ নিয়মিত সেক্স করেন।
তাদেরকে যৌন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন করতে সরকার ডল প্রজেক্ট নামে কিছু কর্মসূচিও চালু করেছে।
- বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি সভা
- চট্টগ্রাম সমিতির কমিটির মেয়াদ বাড়লো
- গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রোববার
- আবার নতুন সকাল এসেছেঃ মামদানি
- হাসিনা কি ফিরবেন নাকি ফিরবেন না ?
- আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবে সভাপতি লাবলু ও সেক্রেটারি অনিক
- কংগ্রেসে ৭ মুসলমানের বিজয়
- মানিক পশারির মৃতদেহকে অবমাননার প্রতিবাদ
- মার্কো রুবিও পদত্যাগ করছেন!
- হোয়াইট হাউজে পদত্যাগ ও বদলী আতংক
- ইরান যুদ্ধকেই দায়ি করলেন ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স
- সেই ইলহান ওমর আবারও জিতলেন
- ট্রাম্প কি তৃতীয়বারের মতো ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি?
- ডেমোক্র্যাট ঝড়ে তছনছ ট্রাম্প শিবির
- ইনশাল্লাহ বলে শুরু আলহামদুলিল্লাহ বলে শেষ
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি মেয়র মুহিত মাহমুদ
- আজকের আজকাল ৯৪৭
- ভরাডুবির পর ট্রাম্পের দলজুড়ে একে অপরকে দোষারোপ
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম-আরবদের চমক
- সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ ২০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ হচ্ছে
- গাজার সেই চিকিৎসক এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে
- যেসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা
- মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পকে নিয়ে কমেডিয়ানদের ‘ব্যঙ্গ’
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪ বাংলাদেশি-মার্কিনের জয়
- সিনেটে ৫৪ ও প্রতিনিধি পরিষদে ২২৫—উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা
- ফ্লোরিডায় বন্যায় ৭ কাউন্টিতে ভোটকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন
- শিক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনায় মামদানি
- ‘বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে নজর রাখছে ভারত’
- যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয় কীভাবে নির্ধারিত হবে
- ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- আজকাল ৯২১
- ফেসবুক থেকে উধাও শাওনের আইডি!
- আজকাল ৯৩২
- ১২০ ডলারের খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে নিউইয়র্কের শিশুরা
- ব্রংকসে বাকার মেলায় মানুষের ঢল
- এনটিভি ও গোল্ডেন এজের হোম কেয়ার গালা ডিনার আজ
- নিউইয়র্কে আলোচনায় শামীম ওসমান
- আজকাল ৯২৪
- আসামে মাটির নিচে মিললো মাছের সন্ধান, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা
- আজকাল ৯৩৮
- উৎসব মুখর পরিবেশে নিউইয়র্কে ঈদ জামাত
- হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু সোমবার, রাতেই মিনায় যাবেন হাজিরা
- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর মক্কা-মিনা
- আজ পবিত্র ঈদুল আজহা
- মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
- দীপ্তির জন্মের ৬ বছর আগেই এসএসসি পাশ করেছেন তার স্বামী
- আজকাল ৯২৫
- হোয়াটসঅ্যাপে সাইবার হামলা
- আজকাল ৯২৩
- হোটেল রুমে একাধিক গোপন ক্যামেরা, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
- অবৈধ সম্পর্কের শীর্ষ ১০ দেশ
- নেশা থেকে মুক্ত হতে, যা করবেন...
- টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ খাশোগি
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৪
ট্রাম্পের মুখোমুখি পেন্স - সাপ্তাহিক আজকাল সংখ্যা ৭৮১
- কমিউনিটির স্বার্থে দুই তরুণের উদ্ভাবিত প্লাটফর্ম ‘লিস্টুলেট ডট কম
- বিরোধীদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেটে মন্ত্রী জড়িত
- নেশার অপর নাম ফোর্টনাইট গেম!
- ভূতের ছবি দেখতে গিয়ে প্রেক্ষাগৃহেই ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু
- কে কত বিলিয়নের মালিক?
- এই সংখা ৮১৪
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠছে : রাশিয়া
- শেখ হাসিনাকে চায় না যুক্তরাষ্ট্র!
- যে কোনো সময় মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের, যা ঘটতে চলেছে…
