ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, হুমকি ও হামলা: মার্কিন নির্বাচনের নতুন বাস্তবতা
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৪
সিন্ডি এলগান একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের এক কোণে ছোট একটি কেন্দ্রে দুই দশক ধরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। দীর্ঘ এতটা সময়ে তাঁর ওপর প্রতিবেশী ভোটারদের আস্থার কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু দৃশ্য পাল্টে গেছে। এখন সেই প্রতিবেশীরাই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জয় কেড়ে নেওয়ার’ ষড়যন্ত্রের তিনিও একটি অংশ।
২০২০ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে নেভাদার এসমেরালদা কাউন্টিতে গণনা করা ভোটের ৮২ শতাংশ পেয়েছিল ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। যুক্তরাষ্ট্রে যেসব কাউন্টিতে খুবই স্বল্পসংখ্যক মানুষের বসবাস, এটি সেসবের একটি।
এলগানের ওপর একসময় আস্থা থাকা প্রতিবেশীদের একজন মেরি জেইন জাকাস। অবসরপ্রাপ্ত এই স্কুলশিক্ষক বলছিলেন, ‘২০২০ সালের নির্বাচনী ফলাফল আমি বিশ্বাস করি না।’
রক্ষণশীলদের (রিপাবলিকান পার্টি) তরফে মাঝেমধ্যেই সামনে আনা এক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মেরি জেইন বলেন, ‘সমস্যা হলো, ভোট গননা ক্ষেত্রে ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ভোটিং মেশিনের ব্যবহার।’
মেরি জেইন বলেন, মাইক লিনডেল (মার্কিন ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক) চিহ্নিত করেছেন, জালিয়াতির অনেক পন্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে বিভিন্ন গাণিতিক ফর্মুলা রয়েছে, যা আপনার ভোট উল্টে দিতে পারে।’
এসমেরালদা কাউন্টির নিবন্ধিত ৬০০ ভোটারের প্রায় সবাইকে দেখে চেনেন সিন্ডি এলগান। তিনি বলেন, অতীতে সব সময়ই এই কমিউনিটির সদস্যরা নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে দৃশ্যত সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প যখন ২০২০ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে হেরে যাওয়া প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে শুরু হলো তিক্ততা।
গোল্ডফিল্ডে নিজ অফিসে বসে এই নির্বাচনী কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘কিছু লোক আছেন, যাঁরা এ বিষয়ে (নির্বাচন নিয়ে) অতি আবেগপ্রবণ এবং দেশ নিয়ে তাঁদের আবেগপ্রবণ হওয়াকে আমি দোষ দিতে পারি না। কিন্তু তাঁরা এমন কিছু করছেন, যা প্রকাশ করুন বা না করুন, সেসবের সঙ্গে আমি একমত না-ও হতে পারি।’
‘এটি নির্বাচনের ক্ষতি করছে’
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, মার্কিনদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থার সুসংহত অবস্থা নিয়ে সন্দিহান।
গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘ইস্যু ওয়ান’-এর ক্লেয়ার উডাল বলেন, মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থায় আস্থাহীনতা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি আস্থাকে একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে।
এ নিয়ে (নির্বাচনী প্রক্রিয়া) জাতীয় পর্যায়ে হইচই হওয়ার বাইরে গোল্ডফিল্ডের মতো ছোট ছোট কমিউনিটিতেও যেভাবে প্রশ্ন উঠছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন ক্লেয়ার উডাল। তিনি বলেন, হুমকি, হয়রানি ও হামলার শিকার হয়ে অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন।
ক্লেয়ার উডাল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠতে দেখছি, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে।’
এ নিয়ে (নির্বাচনী প্রক্রিয়া) জাতীয় পর্যায়ে হইচই হওয়ার বাইরে গোল্ডফিল্ডের মতো ছোট ছোট কমিউনিটিতেও যেভাবে প্রশ্ন উঠছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন ক্লেয়ার উডাল। তিনি বলেন, হুমকি, হয়রানি ও হামলার শিকার হয়ে অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন।
হুমকি, হয়রানি ও হামলায় দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার এমন প্রবণতা স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যেই বেশি, বিশেষ করে অ্যারিজোনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে। এসব অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সচরাচর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে থাকে। যেমন ইস্যু ওয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারিজোনায় গত নির্বাচনে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট ও নেভাদায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টে ট্রাম্পকে হারিয়ে জয়ী হন বাইডেন।
নেভাদার পশ্চিমে ডগলাস কাউন্টিতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন অ্যামি বার্গানস। এই কাউন্টিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। তিনি বলেন, ‘চার বছর ধরে এখানে আমিই শুধু এই পদে কাজ করছি। অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একজন আমি।’
মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থায় আস্থাহীনতা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি আস্থাকে একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে।
বার্গানস ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির একজন সমর্থক। নির্বাচন নিয়ে বর্তমান বাস্তবতায় হতাশ তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থার শুদ্ধতা বিষয়ে অপতথ্যের বেশির ভাগ আসছে তাঁর দলের ভেতর থেকেই। এসব মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের কারণে দায়িত্ব পালন করা থেকে সরে যাচ্ছেন সৎ কর্মকর্তারা।
বার্গানস বলেন, ‘(দায়িত্ব পালন থেকে সরে যাওয়ায়) নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান আমরা হারাচ্ছি, যা তাঁরা বছরের পর বছর ধরে অর্জন করেছেন। এটি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করতে সহায়তা করছে না। এটি নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হুমকি
নেভাদার সাবেক কয়েক নির্বাচনী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। তবে তাঁরা নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এমনই একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আমার পরিবারকে (নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কায়) আবার প্রকাশ্যে আনতে চাই না।’
হুমকি ও হামলার কারণে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যেই বেশি, বিশেষ করে অ্যারিজোনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে। এসব অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সচরাচর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে থাকে। যেমন ইস্যু ওয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারিজোনায় গত নির্বাচনে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট ও নেভাদায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টে ট্রাম্পকে হারিয়ে জয়ী হন বাইডেন।
নির্দলীয় ‘ইলেকশনস অ্যান্ড ভোটিং ইনফরমেশন সেন্টার’-এর এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এক-চতুর্থাংশ হয় নির্যাতন, নয় হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বার্গানস এই নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন। ২০২২ সালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিষয়ে ‘ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইলেকশন অফিশিয়ালস’-এর কর্মকর্তা ট্যামি প্যাট্রিক বলেন, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এখন এমন সব নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা আগে কখনো শোনা যায়নি; যেমন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও নজরদারি ক্যামেরার ব্যবহার, এমনকি ভোটকেন্দ্রের কাছে বিভিন্ন ভবনে স্নাইপার মোতায়েন। কাজে লাগানো হচ্ছে প্রশিক্ষিত কুকুরও।
বার্গানস বলেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা এখন নারকান নামের ওষুধ সঙ্গে রাখেন, যাতে বিষ মেশানো ব্যালটের ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারেন।
- হাসনাতকে ঠেকাতে বিএনপি কর্মীরা চড়ছেন ট্রাকে
- স্যাংকচুয়ারি সিটির ফেডারেল অর্থ বন্ধ
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন
- বিশেষ নির্বাচনে ডিয়ানার বিজয়
- হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘে
- ডেলিভারি ড্রাইভাররা পাবেন ১৫০০ ডলার করে ক্ষতিপূরণ
- মন্তব্য প্রতিবেদন
রহস্যময়তায় বাংলাদেশি ভোটাররা! - অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায় কড়াকড়ি
- নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি
- যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য চুক্তিতে উপদেষ্টার অনুপস্থিতি
- নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন কে ?
- চার কোটি নতুন ভোটারের ঢেউ
- নির্বাচনি আমেজে ৯৬ ঘন্টায় সাড়ে ৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স
- টানটান নির্বাচনি উত্তেজনায় ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট
- নিউইয়র্কে শবে বরাত উপলক্ষে গোল্ডেন এজের মিলাদ অনুষ্ঠিত
- আজকাল ৯০৮
- এপস্টেইন ঝড় ট্রাম্প নয়, এক বিশ্ব নেতার পতন ঘটাতে পারে
- যমুনার সামনে হাদির স্ত্রীসহ ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান
- জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও ধর্মরাষ্ট্র হবে না
- ওয়েবসাইট থেকে হাজারো এপস্টেইন নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ
- বিমানে ঘুমের ভান করে নারীকে নির্যাতন করলেন ভারতীয় যুবক!
- ফেসবুক বুস্টিং ও ডিজিটাল প্রচারের হিসাব দিতে হবে ইসিতে
- যৌন হয়রানি নিয়ে জাহানারার দুটি অভিযোগের সত্যতা মিলেছে: বিসিবি
- চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ, ভিড়ছে না জাহাজ
- হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজকে ইরানের বার্তা
- দেশে রহস্যজনক প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত, সতর্কবার্তা
- জামায়াতের ইশতেহারে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার
- জনগণ কি ভোট দিতে যাবে?
- ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে ইসরাইল
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে কি না, জানালেন পেজেশকিয়ান
- আজকাল এর ৮৯৩ তম সংখ্যা
- কোন দল জিতবে সংসদ নির্বাচনে
- টুটুলের কাছে পাওনাঃ রোকসানা মির্জা ও আজাদের কান্না
- ২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- আজকাল ৮৮৪ তম সংখ্যা
- আজকাল ৮৮২ তম সংখ্যা
- এক কোটি আইডি ডিলিট করল ফেসবুক, শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা
- কবির জন্য একটি সন্ধ্যা
- পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ৬ সেপ্টেম্বর
- ট্রাম্পের চাপে আরও ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা অ্যাপলের
- আজকাল ৮৮৭
- আজকাল ৮৮৬ তম সংখ্যা
- আজকাল ৮৮৯
- আজকাল ৮৮১ তম সংখ্যা
- জামাত কেন এবারই ক্ষমতায় যেতে চায়!
- বাচ্চাগুলোর ড্রপ আউট : দায় কার
- আজকাল ৮৮৫ তম সংখ্যা
- ইউটিউব ভিডিও নির্মাতাদের জন্য দারুণ খবর!
- রোমাঞ্চকর জয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
- আজকাল ৮৮০ তম সংখ্যা
- অবৈধদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না
- আমি আমার ৩টি টার্গেট ঠিক করে নিয়েছে : এসপি হারুন
- নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পাশে নেই বিএনপি
- নতুন ইমিগ্র্যান্ট ঠেকাতে সিনেটে বিল পাস
- রোববার থেকে স্টুডেন্ট লোন মওকুফ কার্যক্রম শুরু
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ১১ বাংলাদেশির নাম
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাতভর ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ
- ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত গ্যাস
- ডিপোর্টেশন আতংকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
- কাল ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিন
- ট্রাম্প-বাইডেন দু’জনই বুড়ো, কাউকে পছন্দ না ভোটারদের
- নাগরিকত্ব পেতে ইন্টারভিউ দিতে হবে না
- ইংরেজিতে দুর্বলদের জন্য দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তন আসছে - অনিশ্চয়তার মুখে ২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
- যুক্তরাষ্ট্রে ২৫২ বাড়ি আমলা-পুলিশের
