বাংলাদেশে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তীব্র মতভেদ
মাসুদ করিম, ঢাকা থেকে
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫
বাংলাদেশে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে দু’টি পৃথক কমিটি যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করে অনেকটা নতুন সংবিধান প্রনয়নের মতো করে আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারেরও বিভিন্ন প্রস্তাব বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংবিধানের সংস্কার এবং জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে দলগুলো একমত হতে পারছে না। বিএনপি এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেবার পক্ষপাতি। কারণ নির্বাচিত পার্লামেন্ট ছাড়া এসব সংস্কার কেউ অনুমোদন করতে পারবে না। পার্লামেন্টে পাস হলেও সংবিধানের মৌলিক চেতার পরিপন্থী যে কোনও সংশোধনী আদালত বাতিল করতে পারবেন। বিএনপি আগষ্টের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন মোটেও সম্ভব নয়।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকার সংস্কারকে অগ্রাধিকার ঘোষণা করে প্রস্তাবনা তৈরীর লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে পৃথক কমিটিগুলো সুপারিশ প্রণয়ন করেছে।
সংবিধানের মূলনীতিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদি শাসনবিরোধী আদর্শের বিষয়টিও অর্ন্তভুক্ত করা হয়। সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী ... ’ বিধানটি বিলুপ্ত করার সুপারিশের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলে পরিচিত হবেন’ হিসাবে প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংবিধানের মূলনীতি হিসাবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অর্ন্তভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন একটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইন সভার প্রস্তাব করেছে। একটি নি¤œকক্ষ জাতীয় সংসদ এবং একটি উচ্চকক্ষের কথা বলা হয়েছে। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর। নি¤œকক্ষ গঠিত হবে সংখ্যাগরিষ্ঠভোটে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে। চারশ’ আসন নিয়ে নি¤œকক্ষ গঠিত হবে। তিনশ সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। অরও ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সকল জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত একশটি নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।
রাজনৈতিক দলগুলো নি¤œকক্ষের মোট আসনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ তরুণ-তরুণীদেও মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনীত করবে। সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করা হবে। দুইজন ডেপুটি স্পীকার থাকবেন যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন। একজন সংসদ সদস্য একই সাথে নি¤œলিখিত যে কোনও একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না। ক. প্রধানমন্ত্রী, খ, সংসদ নেতা এবং গ. রাজনৈতিক দলের প্রধান। উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
সংবিধানের যে কোনও সংশোধনী উভয়কক্ষের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী উভয়কক্ষে পাস হলে একটি গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। গণভোটের ফলাফল সাধারন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
পাঁচ আগস্টকে ঐক্যবদ্ধের প্রতীক মন্তব্য করে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ওইদিন পুরো অনুভূতিটাই ছিল একতার অনুভূতি। তাই এখন কিছু করতে হলে সবার মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। যাতে কেউ বলতে না পারে, তুমি অমুক, তুমি তমুক। কাজেই জুলাই ঘোষণাপত্র সবার মতামতের ভিত্তিতে করতে চাই। বৃহস্পতিবার বিকালে জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সর্বদলীয় ঐক্যের বৈঠকে তিনি এসব এ কথা বলেন। বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠকটি শেষ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হলে, বসতে পারলে আমার কাছে খুব ভালো লাগে, মনে সাহস পাই। প্রাণসঞ্চার হয়। কারণটা পরিষ্কার, এই সরকারের জন্ম হয়েছে ঐক্যের দ্বারা। যতদিন আছি এই একতা নিয়েই থাকতে চাই।
তিনি বলেন, যখন আমরা নিজেরা নিজেরা কাজ করি, হঠাৎ তখন দেখি একা পড়ে গেছি, আশপাশে আপনারা কেউ নেই; তখন একটু দুর্বল অনুভব করি। আবার যখন আপনারা একসঙ্গে হন, মনের মধ্যে সাহস আসে যে, আমরা একতাবদ্ধ আছি। একতাতেই আমাদের জন্ম, একতাতেই শক্তি। আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হলে প্রাণসঞ্চার হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ইস্যুর অবতারণা প্রসঙ্গে ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলের নেতাদের বলেন, মাঝখানে একদিন ছাত্ররা এসে বলল যে, তারা একটা ঘোষণা দেবে, প্রক্লেমেশন করবে। আমাকেও সেখানে থাকতে হবে। আমি বুঝতে চাইলাম, কী প্রক্লেমেশন, তারা বলল। আমি বললাম, এটা হবে না। সেখানে আমারও যাওয়া হবে না, আর তোমাদেরও এটা করা ঠিক হবে না। তোমরা যদি ৫ আগস্টে ফিরে যেতে চাও। সেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে যা হয়েছিল, সেটা রিক্রিয়েট করতে হবে। একা এটা করা যাবে না।
সম্প্রতি ছাত্রদের সঙ্গে আলাপচারিতার বিবরণ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, কেউ সেদিন বলেনি যে, তুমি অমুক, আমি অমুক। কাজেই সেটা যদি করতে চাও, সবাইকে নিয়ে করতে হবে। এটা পরিষ্কার, এটা না করলে সেটা ঠিক হবে না। যে একতা দিয়ে তোমরা ৫ আগস্ট সৃষ্টি করেছিলে, সেটার অবমাননা হবে। তারা খুব খুশি হয়নি আমার কথায়। কিন্তু ক্রমেই তারা বুঝল যে, ৫ আগস্ট যদি রিক্রিয়েট করতে হয়, তাহলে এভাবে করতে হবে। সবাইকে একত্রিত করতে হবে। সে কথা থেকেই এ আলাপ শুরু। আজকের আলোচনাটা এটাকে কেন্দ্র করেই হবে। যেখানে আমরা এটা একতাবদ্ধভাবে করতে পারব না, সেখানে এটার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাহলে এটার দরকারও নেই আসলে।
গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনাদের দেখলে আমার মনে সাহস আসে। সবার মনেই সাহস আসবে। সবাই যদি আমরা একত্র হই, সারা দেশ একেবারে চমকে উঠবে যে হ্যাঁ, আমরা তো জেগে আছি এখনো। আমরা ভোঁতা হয়ে যাইনি, আমাদের অনুভূতি এখনো ভোঁতা হয়নি, চাঙা আছে। জাতি হিসাবে এখনো ঐক্যবদ্ধ আছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমি যতদিন আছি, এই একতা নিয়েই থাকব।
আমাদের সেই পথেই চলতে হবে। আপনারা আমাদের সেই সাহসটা দেন, যখন আমরা আপনাদের সঙ্গে একত্রে বসি। আজ আবার নিজেকে খুবই সাহসী মনে হচ্ছে। আপনাদের দেখে। ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে যে, আমরা একতাবদ্ধ আছি। কীভাবে সেই একতাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করব, এই ৫ আগস্টকে রিক্রিয়েট করব, সেটাই এখন আলাপের বিষয়বস্তু হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করেন অর্ন্তবর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সর্বদলীয় বৈঠকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ও যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসনাত কাইয়ূম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ও মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণাপত্র প্রণয়নের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন-আসিফ নজরুল : বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়নের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। সবাই বলেছেন-এ ধরনের একটা ঘোষণাপত্র করার দরকার আছে। তবে এখানে অনেক সাজেশন আসছে-মোটাদাগে হলো-ঘোষণাপত্রে সবার অবদান বলতে হবে, ধারাবাহিকতা ঠিকমতো উলে¬খ করতে হবে।
ঘোষণাপত্রের রাজনৈতিক ন্যাচার বা লিগ্যাল ন্যাচার কি হবে সেটা স্পষ্ট করতে হবে। বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে-এই ঘোষণাপত্র আরও বেশি আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের যে রাজনৈতিক দল, শক্তি, ছাত্র-জনতার বিভিন্ন ফোরাম সবার মধ্য আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এটা প্রণয়ন করতে হবে। এটার জন্য যত সময় প্রয়োজন সময় নেওয়া যেতে পারে। তবে এটাও বলছে যাতে অযথা কালবিলম্ব না হয় সেই মতামত দিয়েছে। সবাই ঐকমত্য হয়েছেন আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই ধরনের ঘোষণাপত্র হওয়া উচিত।
জুলাই ঘোষণাপত্র ঘিরে যেন ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি না হয় : বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ঘিরে যাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি না হয়, সেদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন তারা। একই সঙ্গে সাড়ে ৫ মাস পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা, সে প্রশ্নও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দলিল ঐতিহাসিক দলিলে পরিণত হয়, সেই দলিলটাকে বিএনপি অবশ্যই সম্মান করে। কিন্তু সেটা প্রণয়ন করতে গিয়ে যাতে সংশি¬ষ্ট সবাইকে অর্ন্তবর্তী করা হয়, তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়, সেই পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আজ আমাদের আহ্বান করেছিলেন, আমরা এসেছি, কথা বলেছি। রাষ্ট্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে যেসব পরামর্শ প্রয়োজন, সেটা আমরা দিয়েছি।
বস্তুনিষ্ঠ সত্য ধারণ করে ঘোষণাপত্র প্রস্তুতিতে আমরা একমত : বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল-ঘোষণাপত্রে জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে দৃঢ় রাখার প্রয়োজনে জাতীয় নেতাদের মতামত চাওয়া। সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। বৈঠকে আমাদের মতামত পেশ করেছি। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় ঐক্য ধারণ করে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি জুনাইদ আল হাবিব বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর যে বিপ¬বী সরকার গঠন হয়েছে, আমরা গত ৫ মাসে বিপ-বী কোনো কিছুই দেখিনি? সুতরাং সরকার বিপ¬বী হবে, পরাজিত শক্তির দোসর এবং তাদের সহযোগী যে যেখানেই আছে প্রত্যেককে ধরে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আগামী নির্বাচনে পরাজিত শক্তির কেউই অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র কিভাবে তৈরি করা যাবে। গণ-অভ্যুত্থানের যে প্রেক্ষাপট, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের চেয়ে আকাংক্ষার প্রকাশ ঘটেছে, গণ-অভ্যুত্থান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যেই দিকনির্দেশনা দেয়, এই বিষয়গুলো একটা দলিলে একত্রিত হতে পারে। তবে সেটার একটা পদ্ধতিগত দিক কি হবে? দলিলটা কীভাবে তৈরি হবে? এই বিষয়ে আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছি। আশা করি-সেই অনুযায়ী অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার কর্মপন্থা তৈরি করবেন।
বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের জানান, আমরা সবাই একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছি যে একটি ঘোষণাপত্র হবে। অতি দ্রুত পর্যাপ্ত পর্যালোচনাসহ এটি দ্রুত প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে কিছু দৃষ্টিভঙ্গিগত এবং শাব্দিক কিছু চয়নে সবার মধ্যে কিছু আলোচনা প্রয়োজন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, যদিও আমরা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ঘোষণাপত্র জারি করতে পারব বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারকে সেভাবে ত্বড়িত পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।
শুধু ঘোষণাপত্র নয়, ১৬ বছরের আন্দোলনের স্বীকৃতি চায় ১২ দলীয় জোট : এদিকে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বিএনপির মিত্র ১২ দলীয় জোটকে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণাপত্রে শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের সময় নয় বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের ত্যাগের স্বীকৃতি দাবি করেছে ১২ দলীয় জোট।
একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের ‘প্রোক্লেমেশন’ নয়, গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে একটা ‘ডিক্লারেশন’ বা ‘ঘোষণা’ আসতে পারে বলেও জোট নেতারা মনে করেন। জোটের পক্ষে এসব দাবি তুলে ধরেন সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রশ্নে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান, ১২ দলীয় জোটসহ বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রামে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করতে হবে।
- মার্কিন সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান ত্যাগের আলটিমেটাম আইআরজিসির
- লাইলাতুল কদরের রাতে মিজানুর রহমান আজহারির ফেসবুক স্ট্যাটাস
- উত্তরায় রিকশাচালককে হত্যার গুজবে বিপণিবিতানে ভাঙচুর,গ্রেপ্তার ১২
- ‘আমি বেঁচে আছি’, তাসনিম জারার বার্তা
- নেতানিয়াহুর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ‘ডিপফেইক’ রহস্য!
- মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বার্তা
- ৬০ লাখ প্রবাসী পরিবারে ঈদ কাটবে উৎকণ্ঠায়
- এখন যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে!
- ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানে ব্রিটেন-জার্মানি-গ্রিসের না
- একাধিক তরুণীর সঙ্গে প্রেম নিয়ে বিরোধে হত্যা
- স্বস্তি ও অস্বস্তির ঈদযাত্রা
- ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৬ সেনার নাম প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের
- যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা
- ‘যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো প্রস্তাব আমরা দিইনি’: আরাঘচি
- ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আরও হামলা চালানোর
- ইরানের খার্গ দ্বীপে আরও হামলার হুমকি ট্রাম্পের
- সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি মির্জা আব্বাস
- টাকাপয়সা-ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সালমার উপলব্ধি
- প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী
- জাবি ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, পুলিশ হেফাজতে স্বামী
- আড়ংয়ের ব্যাগ বিতর্কের মধ্যে যা বললেন ফখরুলকন্যা
- শহীদ মিনারে যুবককে গুলি করে হত্যা
- শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিরিজ জয়
- ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- বিয়ানীবাজার সমিতির সম্পাদক অপুর পিতার ইন্তেকাল
- কবিরহাট সমিতির নাসির উদ্দিনের স্ত্রীর ইন্তেকাল
- ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানের ড্রোন হামলার আশংকা!
- অধিকার আদায়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহবান
- একধাপ এগিয়ে গ্লোবাল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস
- গ্রি মেকানিক্যাল এর জমজমাট ইফতার
- আজকাল এর ৮৯৩ তম সংখ্যা
- কোন দল জিতবে সংসদ নির্বাচনে
- টুটুলের কাছে পাওনাঃ রোকসানা মির্জা ও আজাদের কান্না
- ২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- আজকাল ৮৮৭
- আজকাল ৮৮৬ তম সংখ্যা
- আজকাল ৮৮৯
- জামাত কেন এবারই ক্ষমতায় যেতে চায়!
- আজকাল ৮৮৫ তম সংখ্যা
- ইনস্টাগ্রামের ফিচার এখন হোয়াটসঅ্যাপে
- আজকাল ৮৯২
- আজকাল ৮৯১ তম সংখ্যা
- শুভ জন্মদিন সাদমান
- আজকাল ৮৯৪
- আজকাল ৮৯০
- শাহ নেওয়াজ গ্রুপে নতুন মুখ
- ডাকসু ইলেকশন মেটিকুলাসলি ডিজাইন্ড!
- টেলিগ্রামে ১০৮ পর্নোগ্রাফি চ্যানেল শনাক্ত, বন্ধে চিঠি
- হজযাত্রীদের নিবন্ধনের সময় আরও বাড়লো
- সব ভিসাতেই পালন করা যাবে ওমরাহ
- মার্কিন ভিসা বাতিল ৫১ বাংলাদেশির!
- প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করবে যুক্তরাষ্ট্র
শলা-পরামর্শ করতে আসছেন হাস - তারেকের অপচেষ্টা প্রতিহত করবে ভোটাররা
- অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ৩৫ লাখ মামলা প্রত্যাহার
- নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা
- গণসংযোগকালে যুবলীগ নেতা হত্যা
- ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধোকা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায়:সালমা ওসমান
- মুখোমুখি বাইডেন-হাসিনা
জিতবে কে? - আমেরিকার ‘ধমকে’ প্রথম কুপোকাত আজম
- বাংলাদেশে বাজেট পেশ
যেসব পন্যের দাম বাড়বে-কমবে - এনবিআরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে রোববারও
- বাংলাদেশের নির্বাচন
বাইডেন-মোদী বৈঠকেই হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ? - সুন্দর আগামীর জন্য আবারও নৌকায় ভোট দিন: সোহেল তাজ
- রাষ্ট্রদূত হাস আসছেন ফাইলে কি থাকছে?
- দেশকে বাঁচাতে নির্বাচনে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই : এইচটি ইমাম
