সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২৬   আষাঢ় ২৮ ১৪৩৩   ২৭ মুহররম ১৪৪৮

সর্বশেষ:
৫ জনের জাল ভিসা শনাক্ত হতেই বিমানবন্দর থেকে উধাও বাকি ৭১ জন ট্রাম্পকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর ‘খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে’-লাখো ইরানির প্রতিজ্ঞা গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে পশ্চিমা বিশ্ব? বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পৌঁছানো কমেছে ৪১ শতাংশ ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা কানাডাকে কাঁদিয়ে সবার আগে শেষ আটে মরক্কো টেইলর সুইফটের বিয়ে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ট্রোল তাপপ্রবাহের কবলে নিউইয়র্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬  

কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা ও মার্কিন জেনারেলদের পলায়ন: একটি সেনাদলের ক্ষোভ ও গোপন তদন্তের নেপথ্য কাহিনী

কুয়েতে মার্কিন সেনাদলের অপারেশন সেন্টারে একটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন আঘাত হানার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরের ঘটনা। ভেতরে থাকা সৈন্যদের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এক মার্কিন আর্মি জেনারেল মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ালেন। নিজের প্রটেক্টিভ ভেস্ট এবং হেলমেটটা টেনে নিয়ে পাশে থাকা এক সৈন্যকে চিৎকার করে আদেশ দিলেন- ‘এখান থেকে পালাও!’ 

দিনটি ছিল মার্চের ১ তারিখ। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র একদিন পরের ঘটনা। 

কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অবস্থিত ওই ভবনের ঠিক মাঝখানটিতে ড্রোনটি আঘাত হানে। এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ভেতরে থাকা সৈন্যরা দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যে ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়—সেদিনের হামলায় বেঁচে ফেরা সৈন্যরা সেই নারকীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্লিন্ট বার্নস যখন জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে প্রাণভয়ে পাশের একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারের দিকে দৌড়াচ্ছিলেন, তখনো তার অধীনস্থ ডজন ডজন নারী ও পুরুষ সেনা জ্বলন্ত ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। 

জেনারেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া সেই সৈন্যটি পরবর্তীকালে জানান, ‘আমাদের ওই ভবন ছেড়ে ওভাবে পালিয়ে আসা উচিত হয়নি।’ 

বাঙ্কারের ইস্পাতের দরজা খোলার পর যখন তিনি পুনরায় ভেতরে আটকে পড়াদের সাহায্য করতে যেতে চেয়েছিলেন, তখন জেনারেল বার্নস তাকে কড়া ভাষায় সেখানে স্থির থাকার নির্দেশ দেন। কাঁপানো গলায় সেই সৈন্যটি বলেন, ‘আমি তো আর চোখের সামনে ওভাবে মানুষ মরতে দেখতে পারি না।’ 

পরবর্তীতে আগুনের দিকে ছুটে যাওয়া অন্য এক অফিসারের উৎসাহে সেই সৈন্যটি অপারেশন সেন্টারে ফিরে যান এবং ঘন ধোঁয়ার মধ্যে চিৎকার করে বেঁচে থাকা কাউকে খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন।

কিন্তু সেই জেনারেল আর ফিরে আসেননি।

ড্রোন হামলার পর জেনারেল বার্নসের এই পলায়ন এবং সিদ্ধান্তহীনতা শুয়াইবা বন্দরে মোতায়েন করা সৈন্যদের মনে তাদের নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও তিক্ততার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন এই ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছেন, ঠিক তখনই ১৭ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সেনাসদস্য এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন। 

ইউএস আর্মির ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ৬ জন সৈন্য এই হামলায় নিহত হন এবং ডজনখানেক সৈন্য গুরুতর আহত হন। ইরানের সঙ্গে চলা এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের জন্য এটি ছিল অন্যতম বড় ও ব্যয়বহুল ক্ষয়ক্ষতি, যা তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে সৈন্যদের পাঠানোর আগে তাদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা—তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। 

নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামরিক বাহিনীর তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন বেঁচে যাওয়া সৈন্য এবং তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

শত্রুর মুখে সৈন্যদের ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ 

শুয়াইবা বন্দরের এই ঘটনা সৈন্যদের মনে এক গভীর অপরাধবোধ ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্ম দিয়েছে। অনেকে ভাবছেন তারা নিহত সহকর্মীদের বাঁচাতে আরও কিছু করতে পারতেন কিনা। 

আবার আহত সৈন্যরা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সামরিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তাদের চরম অবহেলা করেছে। 

সবচেয়ে বড় ক্ষোভের তীর জেনারেল বার্নস এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জন হিনসনের বিরুদ্ধে। সৈন্যদের অভিযোগ, উভয়েই জানতেন যে শুয়াইবা বন্দরটি ইরানের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় রয়েছে। ইন্টেলিজেন্সের এমন স্পষ্ট সতর্কবার্তা এবং ড্রোন প্রতিরক্ষায় ঘাঁটির দুর্বলতার কথা অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও জেনারেলরা জোর করে সৈন্যদের সেখানে পাঠান। 

এর আগে ২০২৪ সালে জর্ডানে অপর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষার কারণে ইরানি প্রক্সিদের ড্রোন হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও, শুয়াইবা বন্দরে সেই ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সেখানে আকাশ থেকে নজরদারি এড়ানোর বা ড্রোন হামলা ঠেকানোর মতো কোনো উপরিভাগের ছাউনি বা শেড ছিল না। 

এমনকি ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছিল, তখন এই দুই জেনারেলকে পরিষ্কার জানানো হয়েছিল যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে খতম করা হলে তারা শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং যেকোনো মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাবে। 

এক সৈন্য জেনারেল বার্নসকে যুদ্ধের আগেই বলেছিলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা বদলানো দরকার, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ কিন্তু সেই কথায় কান দেওয়া হয়নি। 

তীব্র যুদ্ধ শুরুর আগের দিনগুলোতে সৈন্যরা নিজেদের উদ্যোগে ঘাঁটির লাউডস্পিকার চালিত সতর্কসংকেত ব্যবস্থা সচল করেন। 

তবে তারা যখন ট্রাক-মাউন্টেড ড্রোন ডিফেন্স সিস্টেম ‘ঈগলস’ চেয়েছিলেন, তখন সেন্ট্রাল কমান্ড সম্পদের স্বল্পতার অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি সৈন্যরা সেখানে অস্ত্র ছাড়াই অবস্থান করছিলেন; তাদের সমস্ত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র আরিফজান ঘাঁটির আর্মস রুমেই রেখে আসা হয়েছিল। 

হামলার সেই ভয়াবহ মুহূর্ত

২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ১৫ মিনিটে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ইরানের ১,০০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। জবাবে ইরানও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও মিসাইল ছোড়ে। 

১ মার্চ ভোর সাড়ে ৪টায় শুয়াইবা বন্দরে শেষবারের মতো সতর্কসংকেত বাজানো হয়। সৈন্যরা দীর্ঘ চার ঘণ্টা বাঙ্কারে কাটানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং কাজের তাগিদে অনেকেই ‘অল ক্লিয়ার’ বা বিপদমুক্ত ঘোষণার আগেই মূল ভবনে ফিরে আসেন। সকাল ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা দেওয়া হয় (যদিও পরবর্তীতে আর্মি তদন্তে এই ঘোষণার কোনো লিখিত লগ পাওয়া যায়নি)। 

এর ঠিক ৩০ মিনিট পর, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি একক ইরানি ‘শাহেদ’ আত্মঘাতী ড্রোন সোজা এসে ভবনের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানে।

বাইরে থাকা দুই সৈন্য জানান, তারা ঘাস কাটার মেশিনের মতো এক ধরনের শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পান এবং তাকিয়ে দেখেন ড্রোনটি প্রায় খাড়াভাবে ভবনের ওপর আছড়ে পড়ছে। চোখের পলকে পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং লোহা, কাচ ও প্লাস্টিকের টুকরো ছিটকে এসে ঘরের ভেতরে থাকা সৈন্যদের শরীর ঝাঁঝরা করে দেয়। 

বিস্ফোরণের ধাক্কায় হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাথায় স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও মেজর স্টিফেন রামসবটম ধোঁয়ার মধ্য থেকে একে একে নিহত ও আহত সৈন্যদের টেনে বের করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে কোনো জেনারেলকে দেখিনি। পরে শুনলাম জেনারেল হিনসনের মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ছিল এবং তারা বাঙ্কারের পাশে বসে ছিলেন।’ 

ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য দাবি করেছে যে, জেনারেলরা আহত হওয়া সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। 

এই হামলায় মেজর কোডি এ. খোর্ক (৩৫), চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট এম. মারজান (৫৪), মাস্টার সার্জেন্ট নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোর (৩৯), সার্জেন্ট ডিক্লান জে. কোডি (২০) এবং মেজর জেফরি আর. ওব্রায়েন (৪৫) নিহত হন। 

চিকিৎসার নামে চরম অবহেলা ও ‘নিজেদের তদন্ত নিজেরা’ করার চেষ্টা

আহত সৈন্যরা কুয়েতের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার পর জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিখ্যাত ‘ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টার’-এ পৌঁছান। তারা ভেবেছিলেন সেখানে উন্নত চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু জার্মানিতে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাদের জানান, ফ্লাইটের মেনিফেস্টে বা ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেজে তাদের নাম ‘গুরুতর আহত’ বা ‘মেডিকেল ইভাকুই’ হিসেবে নথিভুক্তই করা হয়নি! 

ফলে হাসপাতালটি তাদের ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কেবল বহির্বিভাগের রোগী হিসেবে ব্যান্ডেজ বেঁধে ব্যারাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, থিয়েটারেই তাদের ক্ষতের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছিল এবং তারা নিয়মিত চিকিৎসা পেয়েছেন।

এদিকে, এই ট্র্যাজেডির তদন্তের জন্য জেনারেল হিনসন প্রথমে তারই অধীনস্থ এক মাঝারি পদের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন, যা সৈন্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। সৈন্যরা মনে করেছিলেন, নেতৃত্ব নিজেদের দোষ ঢাকতেই এই ‘নিজেদের লোক দিয়ে তদন্ত’ করাচ্ছেন। 

পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই তদন্তভার আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত করা হয়। 

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্রাঙ্ক (যিনি বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জেনারেল)। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এই তদন্ত প্রতিবেদনে হামলার জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়নি। এটি কবে নাগাদ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, তাও স্পষ্ট নয়।

জার্মানিতে এক সপ্তাহ কাটানোর পর আহত ও বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা যখন আমেরিকার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠছিলেন, তখন তাদের ব্যাগেজ ওজন করার সময় দেখা যায় ব্যাগের সংখ্যা অনেক বেশি। এক সৈন্য অশ্রুভেজা চোখে বলেন, ‘আমরা আমাদের সেইসব ভাইদের জিনিসপত্রও বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, যারা আর কোনোদিন আমাদের সঙ্গে ফিরে যাবে না।’ 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর