ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্সে’ বাংলাদেশের ভূমিকা কী ?
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় সেভেন সিস্টার্স। ভারতে উত্তর-পূর্ব দিকে, চীন, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার দেশের সীমান্তে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে একসঙ্গে বলা হয় ‘সেভেন সিস্টার’ বা সাত বোন। সূত্র : বিবিসি বাংলা
এই রাজ্যগুলো একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হলেও সংস্কৃতি, পরিবেশের দিক থেকে তারা স্বতন্ত্র। এসব রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষই নানা আদিবাসী জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের। এই সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্সের মধ্যে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা।
বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক দু’দিন আগে ভারতীয় চ্যানেল এনডিটিভি-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আপনি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলেন, তাহলে সেই অস্থিরতার আঁচ কিন্তু বাংলাদেশের বাইরেও মিয়ানমার, সেভেন সিস্টার্স, পশ্চিমবঙ্গ – সর্বত্রই অগ্ন্যুৎপাতের মতো ছড়িয়ে পড়বে।”
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের কয়েক দিনে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদপত্র বা চ্যানেলকেও দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারেও তিনি মোটামুটি একই ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন, আর প্রতিবারই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বোঝাতে ব্যবহার ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলা হতো।
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের নৈসর্গিক শোভা, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে – কিন্তু পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলটি যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনে বিক্ষুব্ধ থেকেছে, সেটাও কিন্তু বাস্তবতা।
বস্তুত সাতচল্লিশে ভারতের স্বাধীনতার পর (কাশ্মীরকে বাদ দিলে) দেশের যেখানে সবার আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মাথাচাড়া দেয়, সেটি ছিল নাগাল্যান্ড। এ জেড ফিজো-র নেতৃত্বে নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল (এনএনসি) তাদের স্বাধীনতার লড়াই শুরু করে ১৯৫০-র দিকেই।
পরে এনএনসি ভেঙে এনএসসিএন তৈরি হয়েছে, সেই সংগঠনও মুইভা আর খাপলাং-এর অনুগত গোষ্ঠীতে ভেঙে দু’টুকরো হয়েছে – কিন্তু সার্বভৌম ‘নাগালিম’ বা গ্রেটার নাগাল্যান্ডের দাবিতে নাগাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কিন্তু আজও পুরোপুরি থামেনি।
বাংলাদেশ আর সেভেন সিস্টার্স
মিজোরামের দু’দুবারের মুখ্যমন্ত্রী, মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের সর্বোচ্চ নেতা জোরামথাঙ্গা বছর দুয়েক আগে এই প্রতিবেদককে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সাহায্য না-পেলে তাদের মিজো জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কখনওই সাফল্যের মুখ দেখত না এবং মিজোরাম একটি পৃথক রাজ্য হিসেবেও হয়তো আত্মপ্রকাশ করতে পারত না।
আসলে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এমএনএফ) বিদ্রোহীরা ষাটের দশকের শেষে প্রায় তাদের জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান) আশ্রয় পেয়েছিলেন, যা অব্যাহত ছিল প্রায় দীর্ঘ দু’দশক ধরে।
এমএনএফের প্রবাদপ্রতিম নেতা লালডেঙ্গা পূর্ব পাকিস্তান সরকারের আতিথেয়তায় ঢাকার লালমাটিয়া এলাকাতে একটি বাড়িতেই থাকতেন, আর ওই গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক ভ্যালি ও তার আশেপাশের এলাকায়।
তখনকার তরুণ জোরামথাঙ্গা ছিলেন সুপ্রিম কমান্ডার লালডেঙার বিশ্বস্ত অনুচর ও ছায়াসঙ্গী। ১৯৮৭ সালে ভারতে মিজো শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পৃথক মিজোরাম গঠনের পথ প্রশস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ও তার বহু সতীর্থ জীবনের বেশিটা সময় বাংলাদেশেই কাটিয়েছেন।
একই কথা খাটে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আলফা-র পরেশ বড়ুয়া, অনুপ চেতিয়া বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো সর্বোচ্চ নেতাদের অনেকের ক্ষেত্রেই। তাদের সশস্ত্র আন্দোলনের অনেকটা সময়ই তারা ছিলেন বাংলাদেশের মাটিতে।
ত্রিপুরার সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনএলএফটি কিংবা ত্রিপুরা ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্সের (যার নেতা বিজয় কুমার রাংখল এখন একজন মূল ধারার রাজনীতিক) সদস্যরাও অনেকেই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছেন, সেখান থেকেই পরিচালিত হত তাদের কর্মকাণ্ড।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) বাংলাদেশ সরকার অবশ্য কখনওই তাদের দেশের মাটিতে এই সব গোষ্ঠীগুলির অস্তিত্ত্ব স্বীকার করেনি – আর এই ইস্যুটিও ঢাকা-দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম তিক্ততার জন্ম দিয়েছিল।
২০০৯-এ শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের দ্বিতীয় মেয়াদে এই দৃশ্যপটে একটা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে হাসিনা সরকার একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে গোপনে বা প্রকাশ্যে ভারতের হাতে তুলে দিতে শুরু করে। বাংলাদেশের মাটিতে ওই সব গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবিরও একে একে বন্ধ হতে থাকে।
আলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া অবশ্য তার আগেই বাংলাদেশ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু অনুপ চেতিয়া বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো গোষ্ঠীর অন্য নেতারা ততদিনে ভারতে ফিরে এসে সরকারের সঙ্গে ‘শান্তি আলোচনাও শুরু করে দিয়েছেন।
কারণ মিয়ানমারের সিতওয়ে বন্দরের বদলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে পণ্য পরিবহন করা ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য তুলনায় অনেক সহজ। ফলে এক কথায় বলতে গেলে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নেপথ্যে বিশেষ করে বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “ভারতকে আমি যা দিয়েছি, তা তারা সারা জীবন মনে রাখবে!”
বহুল-আলোচিত সেই মন্তব্য নিয়ে পরে বহু চর্চা হলেও শেখ হাসিনা সে দিন ঠিক কী দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তা কখনওই ভেঙে বলেননি বা স্পষ্ট করেননি।
কিন্তু দুই দেশেই পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা ধারণা করে থাকেন, তিনি সেদিন সেভেন সিস্টার্সে শান্তি ও প্রগতি ফিরিয়ে আনার দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন– ভারতের যে অঞ্চলটি ঢাকায় ক্ষমতার পালাবদলের পর আবার নতুন করে আলোচনায়!
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সেভেন সিস্টার্স যে নিরাপত্তাগত দৃষ্টিতে গত এক দশকে অনেকটাই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ– তার পেছনে শেখ হাসিনা সরকারের অবদান ভারতের কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষকরাও তাই অকুণ্ঠে স্বীকার করেন।
সেভেন সিস্টার্সের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের আর একটি বড় উপহার ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া।
এই দুটি বন্দর ব্যবহারের সুযোগ স্থলবেষ্টিত সেভেন সিস্টার্সকে শুধু সামুদ্রিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্তই খুলে দেয়নি, ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্বও অনেক কমিয়ে দিয়েছে। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে সেই সুযোগ আরও বাড়বে নিশ্চিতভাবে।
মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে ভারত যে কালাদান মাল্টিমোডাল প্রোজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছিল, সেটার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাও অনেক কমে গিয়েছিল বাংলাদেশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তের ফলে।
- দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের জাল
- মিরপুরে নিকাহ রেজিস্ট্রার আজিজের ভয়ংকর জালিয়াতি
- শিক্ষার্থীদের রেটিংয়ে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি পেলেন ১.৫৯
- কাঠগড়ায় ঢাবি শিক্ষকরা!
- দেশ এখন ভালো নেই, সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য: ডা. শফিকুর রহমান
- সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রভাব বাড়ছে
- ভার্জিনিয়ায় নজরুল সম্মেলন ১৯-২০ সেপ্টেম্বর
- ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক জাতীয়তাবাদী ফোরামের আলোচনা সভা
- নিউইয়র্কে শেরপুর জেলা সমিতির এক মিলনমেলা
- মিশিগানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন
- ফোবানায় সেরা ড্রামারের সম্মাননা পেলেন শাহাদাত ওসমান মিথুন
- জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ
- সিলেট এমসি কলেজ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এলামনাই নাইট
- নিউইয়র্কের কক্সবাজারবাসীর এডহক কমিটি গঠন
- আনজুমানে আল ইসলাহ’র উদ্যোগে ঈদে মীলাদুন্নবীর মাহফিল ও র্যালি
- সিডনিতে প্রথম বাংলাদেশি ডেপুটি মেয়র এলিজা রহমান
- আগামীর বাংলাদেশ সোসাইটি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনু্িঠত
- চিকিৎসকের অবহেলায় ডা. ডোরার মৃত্যুর অভিযোগে স্মারকলিপি প্রদান
- জাতিসংঘের স্বার্থেই কাজ করার শপথ নিলেন ড. খলিলুর রহমান
- ল’ সোসাইটির ফ্যামিলি নাইট
- ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর বলবৎ
- নিউইয়র্কে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত
- মিউজিক্যাল নাইট ২৭ সেপ্টেম্বর
- আইএমএফ’র উদ্যোগে সমুদ্র ভ্রমণ ও নৈশভোজ
- মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৯/৬ আসনই গেমচেঞ্জার
- বিমানে উশৃংখল যাত্রীকে ডাক্ট টেপে বাঁধলো
- ৫০ কোটি ডলার খরচের ঘোষণা ট্রাম্পের
- নেতানিয়াহু’র নির্বাচনী কার্ড মামদানি ও খামেনি
- লড়ছে সেলিম-আলী ও কুনু-ফিরোজ প্যানেল
- ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন
৫ হাজার ডলার ‘ট্রাম্প ভাতা’র ঘোষণা
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- আজকাল ৯২১
- আজকের সংখ্যা ৯১৭
- ফেসবুক থেকে উধাও শাওনের আইডি!
- আজকাল ৯১১
- আজকাল ৯১৫
- ১২০ ডলারের খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে নিউইয়র্কের শিশুরা
- নতুন নামে করোনার ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট
- শীর্ষ গোয়েন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় সফর
- আজকাল ৯১২
- আজকাল ৯১৩
- ব্রংকসে বাকার মেলায় মানুষের ঢল
- এনটিভি ও গোল্ডেন এজের হোম কেয়ার গালা ডিনার আজ
- নিউইয়র্কে আলোচনায় শামীম ওসমান
- আজকাল ৯২৪
- আজকাল ৯১৬
- এবার স্টেডফাস্টের ১০ লাখ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
- আজকাল ৯১৪
- আসামে মাটির নিচে মিললো মাছের সন্ধান, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা
- বট বাহিনীর নৃত্য, আমিনুলের তেল ও বিব্রত জাইমা
- মার্কিন ভিসা বাতিল ৫১ বাংলাদেশির!
- প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করবে যুক্তরাষ্ট্র
শলা-পরামর্শ করতে আসছেন হাস - তারেকের অপচেষ্টা প্রতিহত করবে ভোটাররা
- অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ৩৫ লাখ মামলা প্রত্যাহার
- ছাত্রলীগ নেত্রীর ভিডিও ভাইরাল
- নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা
- এনবিআরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে রোববারও
- গণসংযোগকালে যুবলীগ নেতা হত্যা
- মুখোমুখি বাইডেন-হাসিনা
জিতবে কে? - আমেরিকার ‘ধমকে’ প্রথম কুপোকাত আজম
- ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধোকা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায়:সালমা ওসমান
- বাংলাদেশে বাজেট পেশ
যেসব পন্যের দাম বাড়বে-কমবে - বাংলাদেশের নির্বাচন
বাইডেন-মোদী বৈঠকেই হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ? - সুন্দর আগামীর জন্য আবারও নৌকায় ভোট দিন: সোহেল তাজ
- রাষ্ট্রদূত হাস আসছেন ফাইলে কি থাকছে?
