‘ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার’ খেলায় ইরান
প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে, তখন তাদের মূল কৌশলগত লক্ষ্য ছিল দ্রুত শাসনব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে তেহরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করা। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, আকস্মিক ও তীব্র হামলা—যা সামরিক পরিভাষায় ‘শক অ্যান্ড অ’ নামে পরিচিত—ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং অভ্যন্তরীণ জনরোষ উসকে দেবে।
কিন্তু মাঠের বাস্তবতা এখন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং তেহরান দ্রুত পুনর্গঠন করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে এবং সংঘাতকে আঞ্চলিক মাত্রায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রাথমিক কৌশল যে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একদিকে বলেছেন, এটি “অন্তহীন যুদ্ধ নয়”, অন্যদিকে স্বীকার করেছেন যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এই দ্বৈত বার্তা আসলে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দোটানাকেই প্রতিফলিত করে—দ্রুত সাফল্য দেখানোর রাজনৈতিক চাপ এবং বাস্তব সামরিক জটিলতার মধ্যে ভারসাম্য খোঁজা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও এক ধাপ এগিয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে এসে এখন সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-ও প্রকাশ্যে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে অভিযান সঠিক পথে এগোচ্ছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বলছে—ইরানকে দ্রুত কোণঠাসা করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের কৌশল: সরাসরি মোকাবিলা নয়, ‘কস্ট-ডিস্ট্রিবিউশন’
ইরান শুরুতে বড় আকারের প্রতিশোধমূলক হামলা চালালেও পরে কৌশল বদলেছে। এখন তারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার নীতি নিয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এখানে অস্থিরতা মানেই জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, বীমা খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ।
ইরানের লক্ষ্য স্পষ্ট—সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ না করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে চাপ সৃষ্টি করা। এতে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে, কারণ জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন ভোটারদের জন্য সংবেদনশীল ইস্যু।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব দেশ একদিকে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের অংশ, অন্যদিকে তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে উপসাগরীয় নেতাদের আলোচনা আঞ্চলিক কূটনীতির নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত শুধু সামরিক নয়; এটি কৌশলগত জোটের পুনর্বিন্যাসের দিকেও এগোতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার প্রশ্ন
খবর এসেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি ইরানের ভেতরে বিকল্প চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত।
তবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)—অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদারের কথা জানিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক ধাক্কার পর তারা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছেন।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির ধারণা নতুন নয়। কিন্তু এটি কার্যকর হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বরং এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করতে পারে, বিশেষ করে তুরস্ক ও ইরাকের মতো দেশগুলোকে জড়িয়ে।
এই যুদ্ধ এখন আর কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়; এটি সহ্যক্ষমতার লড়াই। কে কতদিন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ সহ্য করতে পারে—সেটিই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, যাতে প্রতিপক্ষের ব্যয় বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কৌশলগত ফল দেখাতে চায়, যাতে আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান অটুট থাকে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: চীনের ছায়া
এই সংঘাতের আরেকটি বড় মাত্রা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ব্যবহার, আঞ্চলিক ঘাঁটির ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা—সবই বৃহত্তর শক্তির নজরে রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—যদি ভবিষ্যতে চীন একই ধরনের ‘ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার’ কৌশল গ্রহণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সামাল দিতে পারবে?
- এবার ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান
- আমেরিকায় বাড়ি কেনার অভিযোগ, যা বললেন আসিফ নজরুল
- ইবি শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা কর্মচারীর
- পদ হারানোর পর ছাত্রদলের হামিমের স্ট্যাটাস, মুহূর্তেই ভাইরাল
- মাত্র একটি দেশকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিল ইরান
- আরব দেশগুলোকে যে আশ্বাস দিল ইরান
- ‘ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার’ খেলায় ইরান
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জনগণকে ৫ নির্দেশনা
- ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি দিচ্ছে না ভারত
- মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবল ইরানি যুদ্ধজাহাজ, নিহত ৮০
- খুলনায় শ্রমিক দল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ইরানে হামলার প্রতিবাদে
- জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় অর্ধেক গাড়ি চলাচল বন্ধ
- কাতারের সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা
- ইউরোপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, প্রতি ঘনফুট ৭৮৫ ডলার
- ইসরায়েলকে চীনের সর্তকবার্তা
- মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকায়
- ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের ভবনে ইসরায়েলের হামলা
- তানজিন তিশা কেন আমাকে মারল? বিচার চাই: সামিয়া
- আলভীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন তিথি
- আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
- যুদ্ধজাহাজ থেকে স্টিলথ বোমারু, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাই-ট
- দু’দিনে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পালিয়েছে রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন
- আমার স্ত্রীর মুখটা আপনারা শেষবারের মতো দেখতে দেননি: জাহের আলভী
- খামেনির স্ত্রীও নিহত হয়েছেন: ইরানের গণমাধ্যম
- নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
- ‘ভুল করে’ যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল কুয়েত
- ইরানে ‘বড় হামলা’ এখনো শুরুই হয়নি: ট্রাম্প
- ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা চীনের
- ৩ দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- আজকাল এর ৮৯৩ তম সংখ্যা
- কোন দল জিতবে সংসদ নির্বাচনে
- টুটুলের কাছে পাওনাঃ রোকসানা মির্জা ও আজাদের কান্না
- ২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- আজকাল ৮৮৪ তম সংখ্যা
- পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ৬ সেপ্টেম্বর
- আজকাল ৮৮৭
- আজকাল ৮৮৬ তম সংখ্যা
- আজকাল ৮৮৯
- জামাত কেন এবারই ক্ষমতায় যেতে চায়!
- আজকাল ৮৮৫ তম সংখ্যা
- ইনস্টাগ্রামের ফিচার এখন হোয়াটসঅ্যাপে
- আজকাল ৮৯২
- আজকাল ৮৯১ তম সংখ্যা
- পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি
- শুভ জন্মদিন সাদমান
- আজকাল ৮৯৪
- আজকাল ৮৯০
- ডাকসু ইলেকশন মেটিকুলাসলি ডিজাইন্ড!
- শাহ নেওয়াজ গ্রুপে নতুন মুখ
- মালিতে অতর্কিত হামলায় ওয়াগনারের ৫০ সৈন্য নিহত
- তালিকা বানাবে পাঁচ প্রতিষ্ঠান ঢাকা অফিস
- খিজির হায়াৎ হত্যার পরিকল্পনাকারী ২ জঙ্গি রিমান্ডে
- ৫ কোম্পানির বোতলজাত পানি মানহীন
- ইসরায়েলের হামলায় ১৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত
- মসজিদ ভাঙা নিয়ে চীনে বিক্ষোভ চলছে
- দণ্ডপ্রাপ্তকে নির্বাচনের সুযোগ দিলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে
- আবার ধেয়ে আসছে কানাডার ধোঁয়া
- স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন জাহাজ ‘অনুপ্রবেশের’ দাবি চীনের
- শ্রীনগরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
- হাওলাদার-নাসিরের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ
- রানির শেষকৃত্যে যে তিন দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি ব্রিটেন
- যুক্তরাজ্যের শরণার্থী হোটেলের বাইরে সহিংস বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১৫
- নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার হাজিরা সোমবার
- শীতে জবুথবু পুরো ভারত
