৫ আগষ্ট জীবনহানির আশংকায় ছিলাম
আজকাল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২৬
প্রেসিডেন্ট চুপ্পুর অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার
# জুলাই আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনী ক্ষমতা নিতে চায়নি
# ইউনূসকে নিয়ে প্রথম বৈঠক হয় বিমানবন্দরে
# আমার জীবনহানির আশঙ্কা সত্ত্বেও দায়িত্বে ছিলাম
# শাসকগোষ্ঠী ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে
# ড. ইউনূস উপদেষ্টাদের তালিকা প্যারিস থেকে এনেছিলেন
# জীবনে এখন ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই
মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তখনো বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গত ১৭ জুলাই ২০২৬, লিখিত প্রশ্নের আলোকে দীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার দেন তিনি। তাঁর পদত্যাগের মাত্র চারদিন আগে ১৯ জুলাই ২০২৬ ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের কথা। ঢাকার দৈনিক ইনকিলাবে তা প্রকাশ হবার কথা ছিল। তখনও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ নিয়ে কোন আলোচনা নেই বা তিনি জানতেন না। এটি ছিল পত্রিকাটির বিশেষ প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদকে দেয়া লিখিত সাক্ষাৎকার। কিন্তু এই সাক্ষাৎকারের খবর গোয়েন্দা সংস্থা জেনে ফেলে। আর তখনই পাল্টে যেতে শুরু করে ক্ষমতার দৃশ্যপট। গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা আসে পত্রিকাটির বার্তা বিভাগে। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় তা ছাপতে দেয়া হয়নি । সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, লন্ডনে চিকিৎসাধিন সময়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দিল্লীতে ফোনালাপ নিয়ে দুটি পত্রিকায় রিপোর্ট বের হয়েছিল। এবার কাউকে না জানিয়ে মিডিয়ায় দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেয়ার ঘটনা! তাতেই সরকারের মধ্যে ‘শংকার’ ভিত্তি তৈরি করা হয়। আর তাতেই ২৪ জুলাই বিকেলে দ্রুত পদত্যাগের ঘোষণা আসে। চুপ্পুর এই অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার পেয়েছে। পত্রিকার পাঠকেদেও জন্য তা প্রকাশ করা হলো।
বিশেষ সাক্ষাৎকারে কি বলেছিলেন তৎকালিন প্রেসিডেন্ট মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পু? তিনি জুলাই আন্দোলনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন, নতুন সরকার গঠনে দ্রুত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা, উত্তাল আন্দোলনের সময় কি হয়েছিল তার বর্ণনা দেন। ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্যারিস থেকে ঢাকায় আসার সাথে সাথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ভিভিআইপি লাউঞ্জে বৈঠক সম্পন্ন করেন। তাতে উপস্থিত ছিলেন তিনবাহিনীর প্রধান। কঠোর নিরাপত্তায় বৈঠক হয় বলে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু জানান। তিনি জানান, ওই বৈঠকেই উপদেষ্টাদের একটি তালিকা ড. ইউনূস তিন বাহিনীর প্রধানের কাছে হস্তান্তর করেন। তা তিনি প্যারিস থেকে নিয়ে এসেছিলেন। ইউনূসের পছন্দ মতই সরকার গঠন হয়। ওই রাতেই পর্দার আড়ালে অনেক কিছু ঘটতে থাকে। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনার পতনের পর সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ভয়াবহ সাংবিধানিক সংকট কিভাবে মোকাবিলা করেছিলেন তার বর্ণনা দেন। প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কিভাবে দেখছেন?
উত্তর: ‘২০২৪ সালে সরকারী চাকরীতে কোটা বিরোধী আন্দোলন পরবর্ত️ীতে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক ও টেকসই পরিবর্ত️নের আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়। আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ই আগস্ট ২০২৪ ক্ষমতা ছেড়ে দেশান্তরিত হলে স্বাভাবিক নিয়মে সরকারের পতন ঘটে। আমি তখন সাংবিধানিক পন্থায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। দেশে সরকারের অস্তিত্ব না থাকায় ভয়াবহ ব্যতিক্রমী সংকটের সৃষ্টি হয়। এই মহাসংকটকালে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী সংকট নিরসনের জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করে। তখনকার পরিস্থিতিতে আমার জীবনহানির আশঙ্কা ছিল, তা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন থেকে আমি বিরত থাকিনি। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও জোট আমার পাশে অবস্থান নেয়ায় আমার ভিত আরো শক্তিশালী হয়েছিল। ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আমি নিয়মিতভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্রের কল্যাণে সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা ধরে রেখেছিলাম। ওই রকম একটা পরিস্থিতিতে আমি দেশে সাংবিধানিক কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেইনি।’
প্রশ্ন: জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তখন আপনাকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছিলো। এ বিষয়ে আপনি কি ভূমিকা রেখেছিলেন?
উত্তর: ‘২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারী ছাত্ররা ১৪/০৭/২০২৪ তারিখে বঙ্গভবনে এসে আমার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছিল। স্মারকলিপি প্রাপ্ত হয়ে আমি স্মারকলিপির একটি কপি সরকারের পর্যালোচনার জন্য দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেই এবং সরকারের উচ্চ পর্য️ায়ে যোগাযোগ করি। তখন আমাকে জানানো হয় যে, প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর অনেক কিছুই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য ছিল। আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আমার পক্ষে এ বিষয়ে আর অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়নি।’
প্রশ্ন: সে ক্ষেত্রে আপনার উপলব্ধি কী ছিলো এবং কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?’
উত্তর: ‘জুলাই আন্দোলনের সময় প্রাণহানির ঘটনা সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। চারিদিকে রক্ত ঝরছিল। দৃশ্য ছিল ভয়ংকর। শাসকগোষ্ঠী এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ️ হয়। যার ফলে আন্দোলনের মুখে ৫ই আগস্ট ২০২৪ তৎকালিন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশান্তরিত হন। সেই পরিস্থিতিতে দেশে চরম সাংবিধানিক সংকট শুরু হলে সশস্ত্র বাহিনী আমার নেতৃত্বে সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসে। ওই সময়ে আমি ০৬/০৮/২০২৪ তারিখ পূর্বাহ্নে মাত্র ২/৩ ঘণ্টার মধ্যে আমার অন্তর্নি️হিত ক্ষমতাবলে বেগম খালেদা জিয়াসহ দুই হাজারের বেশি রাজবন্দীর মুক্তি দিয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রার সূচনা করি। উল্লেখ্য যে, পরবর্তী সময়ে দেশের সর্বে️াচ্চ আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে নির্দোষ গণ্য করে খালাসের আদেশ প্রদান করেন। দেশে সরকার নেই, প্রধানমন্ত্রী নেই, মন্ত্রিসভা নেই, সংসদ নেই। এমন এক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা, সাংবিধানিক ধারা বজায় রাখা এবং একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ নিশ্চিত করা ছাড়া আমার সামনে অন্য কোনো বিকল্প পথ ছিল না।’
প্রশ্ন: ৫ই আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনি রয়ে গেলেন। এর কারণ কী ?
উত্তর: ৫ই আগস্টের পরের ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি সরকার পতনই হয় নাই, দেশে গভীর সংকটেরও সূচনা হয়েছিল। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী দেশ ত্যাগের পর আইনগতভাবে মন্ত্রিসভার কার্য️কারিতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরে সংসদ ভেঙে দেয়ার পর কার্য️ত নির্ব️াচিত সরকারের আর কোনো সাংবিধানিক অস্তিত্ব অবশিষ্ট ছিল না। দেশ তখন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। সরকারের দৃশ্যমান কাঠামোর অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। তখন যদি সশস্ত্রবাহিনী ও আমি দায়িত্ব না নিতাম তা হলে রাষ্ট্রীয় শূন্যতা আরো গভীর হতো। তখন কি হতো তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না।’
প্রশ্ন: ওই রকম উত্তাল পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের আশঙ্কা করছিলেন অনেকে। অথচ তারা সেটি করেনি। কি ঘটেছিল আসলে ?’
উত্তর: ‘তখনকার সময় চরম সংকটকালে সশস্ত্র বাহিনী কখনোই অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ খোঁজে নাই বা চিন্তাও করে নাই। বরং তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রুত নির্ব️াচন এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্ব️াচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেনাবাহিনীর অবস্থান ছিল পরি®️‹ার, দেশকে গণতান্ত্রিক পথে সামনে এগোতে হবে। নির্বাচন হবে, জনগণের ভোটে নির্ব️াচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামানসহ নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ আমাকে বলেছিলেন, আপনি স্যার সহযোগিতা করুন, আমরা রাষ্ট্রকে নির্বাচন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এ নির্ব️াচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকার গঠন ও সংকট নিরসনের উপায় খুঁজতে গিয়ে বঙ্গভবনে আমার সভাপতিত্বে সর্ব️দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারী ছাত্র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ৫ ও ৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান উক্ত সভা পরিচালনা করেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে আমার ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়া ছিল আলোচনা নির্ভর। সরকার গঠনে কোনো একক সিদ্ধান্ত ছিল না। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্যারিসে অবস্থানরত প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং আলোচনা হয় প্রফেসর ড. মুহাম্ম ইউনূসের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। সময়ক্ষেপণ না করে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্যারিস থেকে দেশে ফেরার সময়ই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘ভিভিআইপি লাউঞ্জে’ সেনাবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান এবং নৌবাহিনী প্রধান মিলিত হবেন এবং তার কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা পরিষদের সম্ভাব্য নাম চূড়ান্ত করা হবে মর্মেও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ০৮/০৮/২০২৪ তারিখ সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জ️াতিক বিমানবন্দর, ঢাকার ভিভিআইপি লাউঞ্জে বৈঠকে বসে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সদ্য মনোনীত প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার উপদেষ্টাদের নাম চূড়ান্ত করার কথা জানান। আসলে তিনি প্যারিস থেকে আসার সময় উপদেষ্টাদের একটি তালিকা তৈরি করে সাথে নিয়ে এসেছিলেন। কারো সাথে তখনো তাঁর আলোচনাই হয়নি। তাঁদের বিমানবন্দরের বৈঠক শেষ করার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাপ্তরিক পদ্ধতিতে সংবিধানের অনুচ্ছে ৫৬ (২) এর বিধানমতে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদেরকে নিয়োগ প্রদান করি। তৎপর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে তা প্রেরণ করে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়।’
প্রশ্ন: অস্থির ওই মুহূর্তে সুপ্রিমকোর্টের রেফারেন্স নেয়ার চিন্তা এলো কীভাবে?
উত্তর: ‘আমাদের সংবিধানের ৭, ৭(ক), ৭(খ) অনুচ্ছেদ তথা সংবিধানের প্রাধান্য, বাতিল বা স্থগিতকরণ, সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধনের অযোগ্য বিধানসমূহের প্রতি দৃৃষ্টি রেখে ক্রান্তিলগ্নে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হয়েছিলাম। সেই পথ খুঁজতে গিয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ এ বর্ণিত সুপ্রিম কোর্টের উপষ্টোমূলক এখতিয়ার সংক্রান্ত বিধানের আশ্রয় গ্রহণ করা সঙ্গত হবে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়। পরিস্থিতি যখন প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে চলে যেতে উদ্ভূত হয় তখন আমি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ওই রকম একটা সময়ে আমাকে কেউ এই পথ দেখায়নি। আইন ও বিচার অঙ্গনে আমার ৩৩ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। আমি নিজেই সংবিধানের আওতায় থাকা এই পথ বেছে নিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টে️র প্রধান বিচারপতির কাছে আমি রেফারেন্স পাঠাই। যা রেফারেন্স ১/২০২৪ নম্বরে নিবন্ধিত হয়। অ্যাটর্নি️ জেনারেল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ০৮/০৮/২০২৪ তারিখে এই মর্মে পরামর্শ প্রদান করেন যে, ‘‘এ বিষয়ে বাংলােেশর অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান এর বক্তব্য শোনা হলো। এমতাবস্থায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কোনো বিধান না থাকায় উল্লিখিত প্রশ্নের বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই মতামত প্রদান করছে যে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরী প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিযুক্ত করতে পারবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির উক্তরূপে নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টাগণকে শপথ পাঠ করাতে পারবেন।’’
আপিল বিভাগের উক্তরূপ মতামত পাওয়ার পর আমি নিশ্চিত হই যে, রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয়তার মতবাদ অর্থাৎ অপরিহার্যতার নীতি (উড়পঃৎরহব ড়ভ ঘবপবংংরঃু), বিশেষত রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার (চড়ষরঃরপধষ ঘবপবংংরঃু) উপাদানও তখন বিদ্যমান ছিল। একই সঙ্গে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের প্রয়োগের ফলে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় বলে আমি বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে গণ্য করা যায়। রাষ্ট্রের একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতে রাষ্ট্রপতিকে তৎসময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। সেনাশৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ ও প্রধান উপদেষ্টার সুপারিশের ভিত্তিতে অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগ এবং তাদের শপথ গ্রহণ সব কিছুই রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক কর্তৃত্বের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অর্থাৎ বর্তমান ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা অর্থাৎ বর্তমান ক্ষেত্রে মন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত হয়।’
উপদেষ্টাদের শপথ, ১৩৩ অধ্যাদেশ জারি এবং বর্তমান বিতর্ক প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে অন্য উপদেষ্টাদের দাপ্তরিক পদ্ধতিতে নিয়োগ দিলাম আমি। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের শপথও পড়ালাম আমি। রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যা যা প্রয়োজন ছিল তার সবই তো রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমাকেই করতে হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা সংবিধানের ৫৫(৪) অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক রাষ্ট্রপতির নামেই গৃহিত হয়েছে এবং তদরূপেই প্রকাশিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো ও টেকসই পরিবর্তনসহ বিবিধ বিষয়ে সংস্কারের নিমিত্ত একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছিলো। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশসমূহ ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নামে গৃহিত হয়। সে অনুযায়ী গণভোট অধ্যাদেশ ও জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশও করা হয়েছিল। উভয় অধ্যাদেশ সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমার স্বাক্ষরে জারি করা হয়। আমি ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে ১৮ মাস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আইনত: সরকার পরিচালনার পথ সুগম করে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’’ উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য আইনগত বৈধতার প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনকে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা ঐকমত্য কমিশনের সভায় মত দিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এই প্রক্রিয়াকে আইনগত ভিত্তি দেবে। পরে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত আদেশ স্বাক্ষরের জন্য মূখ্য সচিব ও আইন সচিব নথি নিয়ে আমার কাছে আসেন এবং আমাকে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং জানান যে আমার স্বাক্ষরের পর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ চূড়ান্ত হবে এবং জারি করা হবে। উক্ত দুই কর্মকর্তা আরো বলেন যে, এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এর ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে সাধারণ নির্বাচনকেন্দ্রিক ভাষণ দিবেন বিধায় আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমতে আমি যেন চূড়ান্ত স্বাক্ষর করি। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে ১৩/১১/২০২৫ তারিখে আমি উক্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এ স্বাক্ষর করি।
আমি এখন সবচাইতে বড় রাজনৈতিক বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের দাপ্তরিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি নিয়োগ দিলাম, আমার কাছেই শপথ নিলেন, আমার স্বাক্ষরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলো। যে সনদ নিয়ে এখন সরকার ও বিরোধী রাজনীতি সরব হচ্ছে সেটার চূড়ান্ত অনুমোদনও আমিই দিয়েছি। এখন আমার প্রশ্ন, তাহলে আমি হঠাৎ কেন কোনো বিতর্কের সম্মুখিন হবো ? এটাই এখন আমার কাছে সবচাইতে বড় বিস্ময় মনে হয়। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এর বাস্তবায়ন প্রশ্নে সংসদে আলোচনা চলছে। উচ্চ আদালতেও বিষয়টি বিচারাধীন আছে বলে জেনেছি’। রাজনীতির মাঠেও বর্তমান জুলাই সনদ সর্বোচ্চ আলোচনার বিষয়বস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তা স্বাভাবিক।’
প্রশ্ন: চব্বিশের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে যা কিছু হয়েছে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব আপনারই স্বাক্ষরে। সবাই সেটি মেনেও নিয়েছে। অথচ এখন বিতর্ক হচ্ছে কেন।
উত্তর: ‘৫ই আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির পদটি কার্যকর না থাকলে বা সংবিধান বহির্ভুত রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হলে দেশে গভীর সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হতো। আমি রাষ্ট্রপতি না থাকলে বৈধভাবে সরকার গঠন হতো না। রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ভেঙে যেত। নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে যেতো। আমি যা করেছি তা দেশের স্থিতিশীলতা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের স্বার্থেই করেছি। রক্তপাত এড়িয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়াই ছিল আমার প্রধান লক্ষ্য ও দায়িত্ব। আমার জীবনে এখন আর ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই।
আমার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক আক্রমণ চলতেই পারে। তবে ইতিহাস একদিন সবকিছুর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করবে। আমি যা করেছি তা রাষ্ট্রের স্বার্থে, সংবিধানের স্বার্থে এবং দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে। গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদল নিজ নিজ দলের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে তর্ক বিতর্কের মাধ্যমে তাদের মহান দায়িত্ব পালন করছেন। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সফলতা আসুক এই কামনা করি।’
- জুড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির পিকনিকে মানুষের ঢল
- জুলাই স্মরণ করল এনসিপি ডায়াস্পোরা
- নিউজার্সিতে দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার
- চুরাশিয়ান মহামিলনে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস
- নিউইয়র্কে আতংকিত অভিবাসীরা
- নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মারামারি
- ভাঙ্গন ও পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারেই জিবিএ’র পরিচিতি
- আনিস আলমগীরের কলাম চেহারা দেখানো ছাড়াই হাসিনার সংবাদ সম্মেলন
- বাড়ছে সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট
- কুইন্স ব্যরো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শাহ নেওয়াজের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনার আগুনে অসুস্থ
- ৫ আগষ্ট জীবনহানির আশংকায় ছিলাম
- হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উত্তপ্ত
- মিশিগানে আল সাইয়িদের ঐতিহাসিক বিজয়
- আজকাল ৯৩৩
- ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়তে চায় ভারত
- মাঝ আকাশে মুখোমুখি ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান, অতঃপর
- যুক্তরাষ্ট্রের ৭ প্রতিষ্ঠানে চীনের নিষেধাজ্ঞা
- বিটিভির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেলেন কাজী জেসিন
- ভিসা নিয়ে নতুন নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রের
- ‘২ দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সিদ্ধান্তটা ভারতকে নিতে হবে’
- বিমানবন্দরে সবার জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকলের নির্দেশ
- আমেরিকা নির্ভর না হয়ে ইউরোপকে নিজস্ব ‘যুদ্ধকৌশল’ গড়তে হবে
- মিয়ানমারের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময়ের কথা ভাবছে ভারত
- যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়
- আরও চার জেলায় ছাত্রদল ছাত্রশিবির সংঘর্ষ
- চাঁদে আছড়ে পড়েছে ৪ হাজার কেজির রকেট
- মোদির ভিডিও অপসারণ ইস্যুতে জাকারবার্গকে ৩ দিনের আলটিমেটাম
- জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ফারুকী
- ইসরাইলের সমালোচনা করলে কী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মিলবে না
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- কাবা শরিফ ও মদিনায় ৩০ দিনে ৭ কোটি ৮৮ লাখ মুসল্লি
- অর্ধশতাব্দী পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নাসার
- আজকাল ৯২১
- সিনেটে ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী ‘স্টপ সিটিজেনশিপ অ্যাবিউজ’ বিল উত্থাপ
- আজকাল ৯০৬ তম সংখ্যা
- আজকাল ৯০৭
- আজকের সংখ্যা ৯১৭
- আজকাল ৯০৮
- আজকাল ৯১০
- মেটার ঘোষণা: ব্রাউজার ও ডেস্কটপে বন্ধ হচ্ছে মেসেঞ্জার
- আজকাল ৯১১
- আজকাল ৯১৫
- আজকাল ৯০৯
- নতুন নামে করোনার ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট
- আজকাল ৯১২
- শীর্ষ গোয়েন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় সফর
- আজকাল ৯২৪
- আজকাল ৯১৩
- আজকাল ৯১৬
- মার্কিন ভিসা বাতিল ৫১ বাংলাদেশির!
- প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করবে যুক্তরাষ্ট্র
শলা-পরামর্শ করতে আসছেন হাস - তারেকের অপচেষ্টা প্রতিহত করবে ভোটাররা
- অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ৩৫ লাখ মামলা প্রত্যাহার
- নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে নারায়ণগঞ্জ প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা
- এনবিআরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে রোববারও
- ছাত্রলীগ নেত্রীর ভিডিও ভাইরাল
- গণসংযোগকালে যুবলীগ নেতা হত্যা
- মুখোমুখি বাইডেন-হাসিনা
জিতবে কে? - আমেরিকার ‘ধমকে’ প্রথম কুপোকাত আজম
- ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধোকা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায়:সালমা ওসমান
- বাংলাদেশে বাজেট পেশ
যেসব পন্যের দাম বাড়বে-কমবে - বাংলাদেশের নির্বাচন
বাইডেন-মোদী বৈঠকেই হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ? - সুন্দর আগামীর জন্য আবারও নৌকায় ভোট দিন: সোহেল তাজ
- রাষ্ট্রদূত হাস আসছেন ফাইলে কি থাকছে?
