এশিয়ার অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকটের দ্বিতীয় ধাক্কা আসছে
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬
অর্থনীতির ইতিহাস দেখাচ্ছে, যতবারই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, ততবারই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছুর আশা করা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে ও মানুষ খরচ কমাতে শুরু করেছে। কর আদায় কমার শঙ্কায় কিছু দেশের সরকার আরো বেশি ঋণ করছে। যা এরইমধ্যে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের বড় ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। এ অঞ্চলে এরইমধ্যে জ্বালানি সংকটের দ্বিতীয় ধাক্কার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মুদ্রার মান কমে গেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের খাদ্য ও জ্বালানির দাম আরো বাড়বে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে মন্দার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিজনেস স্কুল ইনসিড-এর অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দত্ত পুশান বলছেন, এশিয়া সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত অবস্থায় আছে। কারণ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বাদে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই বড় মাপের তেল আমদানিকারক। দেশগুলো শিল্পোন্নত হওয়ায় প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
যদি জুন মাসের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির (এনটিইউ) সহযোগী অধ্যাপক চেন চিয়েন-মিং এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। এই প্রণালি প্রায় ৭০ দিন ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে ঘাটতির পরিমাণ ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি দাঁড়িয়েছে।
তবে আপাতত তেলের বাজার দর তুলনামূলক স্বাভাবিক। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দামও গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। অধ্যাপক চেন বলছেন, বাজারে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেলেও স্পষ্টতই তেলের ঘাটতি আছে। যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে- এমন আশায় দামের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাজার বনাম বাস্তব পরিস্থিতি
জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বৈশ্বিক তেলের মজুত তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। এই মজুত মূলত একটি ‘শক অ্যাবজরবার’ বা অভিঘাত প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম খুব বেশি বাড়েনি।
অধ্যাপক চেন বলছেন, ‘দামের চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। আমরা এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছাইনি যেখান থেকে আর ফেরার পথ নেই।’ তবে সেই চরম সীমাটি দ্রুতই ঘনিয়ে আসছে।
জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে মজুত থাকা ৮৪০ কোটি ব্যারেল তেলের মধ্যে মাত্র ৮০ কোটি ব্যারেল প্রকৃতপক্ষে ব্যবহারযোগ্য। এর বাইরে মজুতে হাত দিলে পুরো ব্যবস্থাটি চরম সংকটে পড়বে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ বিভিন্ন দেশের সরকার এই যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে ইতোমধ্যে ২৮ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে।
জেপি মরগানের বৈশ্বিক কমোডিটি রিসার্চ প্রধান নাতাশা কানেভার নেতৃত্বাধীন একটি বিশ্লেষক দল সম্প্রতি তাদের নোটে লিখেছে, স্থলভাগে মজুতের মাত্র একটি অংশ (প্রায় ৫৮ কোটি ব্যারেল) সহজেই ব্যবহার করা যায়। বাকি তেল মূলত পাইপলাইন পূর্ণ রাখতে, ট্যাংকের সর্বনিম্ন স্তর ধরে রাখা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যত আটকে আছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণও তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সংকট সেই সংঘাতের চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। তখন তেলের দাম বেড়েছিল মূলত রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে। বর্তমানের মতো তখন সরবরাহ ঘাটতি ছিল না।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির এশিয়া-প্যাসিফিক রিফাইনিং ও তেল বিষয়ক গবেষণা পরিচালক সুশান্ত গুপ্ত বলছেন, রাশিয়া তখনো বিকল্প উপায়ে বাজারে তেল বিক্রি করেছিল। তাই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে ইরান সংঘাতের তুলনা করা ঠিক হবে না।
একটি ‘ব্যাকওয়ার্ডেটেড’ বাজার
মজুত ব্যাপক হারে কমলেও সুশান্ত গুপ্তের মতে বাজার এখন ‘ব্যাকওয়ার্ডেটেড’ অবস্থায় আছে। এর অর্থ- তেলের বর্তমান দামের চেয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দাম কম। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ‘চাহিদা হ্রাসের’ বিষয়টি মাথায় রেখে দাম নির্ধারণ করেছেন। কারণ, উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তা ও কোম্পানিগুলো তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে।
এশিয়ার উন্নয়নশীল অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইন চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। থাইল্যান্ডের সরকার কর্মীদের হাফ হাতার শার্ট পরার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর ওপরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং বাড়িতে বসে কাজ করার অনুরোধ করেছেন।
দ্বিতীয় ধাক্কা: খাদ্য সংকট, মুদ্রার পতন ও মন্দা
এশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এনটিইউ-এর অধ্যাপক চেন। তিনি বলছেন, অর্থনীতির ইতিহাস পর্যালোচলা করলে দেখা যায়, তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর প্রতিবারই মন্দা দেখা দিয়েছে। সবকিছুর দাম বেড়ে যায়, মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়, সরকারের ট্যাক্স আদায় কমে যায় এবং আরো বেশি ঋণ নিতে হয়। এই ঋণ আবার মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়। এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।
ইনসিড-এর অধ্যাপক পুশানের পূর্বাভাস হলো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ যেমন- থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মুদ্রার মানে পতন ঘটতে পারে। তেল আমদানিকারক বড় দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ওই দেশের অর্থনীতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। নিজেদের অর্থ সরিয়ে নিতে শুরু করবেন।
অধ্যাপক পুশান জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে ভারতীয় রুপি, ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া এবং ফিলিপাইনের পেসোর মতো এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব কৃষিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও পড়তে পারে। ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন, যা আশঙ্কাজনকভাবে খাদ্য সংকট তৈরি করবে। অধ্যাপক চেন সতর্ক করে বলছেন, এশিয়ায় শস্য রোপণের প্রথম মৌসুম আসছে। কিন্তু থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর কৃষকরা চাষাবাদের কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না, লোকসানের শঙ্কায় আছেন। অনাহারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পরিকল্পনা করা উচিত।
(আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার।)
- ড.ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তায় তীব্র ক্ষোভ সাবেক ১২ উপদেষ্টার
- ইরানে ফের হামলার ছক?
- ইরান নিয়ে সম্ভবত আমরা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
- তেলের দাম বাড়াতে হুতিরা হামলা চালাচ্ছে: ট্রাম্প
- সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের হামলা
- কেন হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি?
- এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে না, কোথাও পেলে দাম বেশি
- রিয়াদে হামলা আতঙ্ক, ঢাকায় চরম ভোগান্তি
- ড. ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তায় সাবেক ১২ উপদেষ্টার ক্ষোভ
- নিউইয়র্কে হেনস্তার শিকার ড. ইউনূস
- সৌদি আরবে কাজ হারানোর শঙ্কায় হাজার হাজার প্রবাসী
- গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ৩ ফিলিস্তিনি
- স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কক্সবাজার থেকে হোটেল কর্মচারী রাজু আটক
- আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী আখ্যা কঙ্গনার
- ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়
- ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ জনের মৃত্যু
- নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল ৪০ বাড়ি
- সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ও আহত ২৬ বাংলাদেশি
- গাজায় যুদ্ধবিরতি শুধু নামেই
- এত কিছু করেও নোবেল পেলাম না, ক্ষোভ ট্রাম্পের
- যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি, শিশুসহ নিহত ৯
- ট্রাম্পের নতুন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রেস সেক্রেটারি কেটি জ্যাকারিয়া
- যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ১৭০ কিমি বেগে আঘাত হানল হ্যারিকেন ‘ইসাইয়াস’
- ‘ঢাকা থেকে পাশে আছি’, ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি নাহিদ
- টিএলসি লাইসেন্স ফিরে পেলেন একাধিক চালক
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
- রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
- বিজনেস আমেরিকা ম্যাগাজিনের ‘সফল ৫০ বাংলাদেশী’ তালিকায় চট্টগ্রামের
- সৌদিগামী ২ ফ্লাইট স্থগিত, যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ
- ৫৯ শতাংশ মানুষই জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে: গবেষণা
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- আজকাল ৯২১
- আজকের সংখ্যা ৯১৭
- ফেসবুক থেকে উধাও শাওনের আইডি!
- আজকাল ৯১৫
- ১২০ ডলারের খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে নিউইয়র্কের শিশুরা
- শীর্ষ গোয়েন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় সফর
- নতুন নামে করোনার ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট
- ব্রংকসে বাকার মেলায় মানুষের ঢল
- এনটিভি ও গোল্ডেন এজের হোম কেয়ার গালা ডিনার আজ
- নিউইয়র্কে আলোচনায় শামীম ওসমান
- আজকাল ৯২৪
- আজকাল ৯১৬
- এবার স্টেডফাস্টের ১০ লাখ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
- বট বাহিনীর নৃত্য, আমিনুলের তেল ও বিব্রত জাইমা
- আজকাল ৯৩২
- আসামে মাটির নিচে মিললো মাছের সন্ধান, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা
- আজকাল ৯৩৮
- হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু সোমবার, রাতেই মিনায় যাবেন হাজিরা
- উৎসব মুখর পরিবেশে নিউইয়র্কে ঈদ জামাত
- মালিতে অতর্কিত হামলায় ওয়াগনারের ৫০ সৈন্য নিহত
- তালিকা বানাবে পাঁচ প্রতিষ্ঠান ঢাকা অফিস
- খিজির হায়াৎ হত্যার পরিকল্পনাকারী ২ জঙ্গি রিমান্ডে
- ৫ কোম্পানির বোতলজাত পানি মানহীন
- মসজিদ ভাঙা নিয়ে চীনে বিক্ষোভ চলছে
- ইসরায়েলের হামলায় ১৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত
- দণ্ডপ্রাপ্তকে নির্বাচনের সুযোগ দিলে সংবিধান লঙ্ঘন হবে
- হাওলাদার-নাসিরের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ
- আবার ধেয়ে আসছে কানাডার ধোঁয়া
- স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন জাহাজ ‘অনুপ্রবেশের’ দাবি চীনের
- শ্রীনগরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
- রানির শেষকৃত্যে যে তিন দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি ব্রিটেন
- নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার হাজিরা সোমবার
- শীতে জবুথবু পুরো ভারত
- যুক্তরাজ্যের শরণার্থী হোটেলের বাইরে সহিংস বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১৫
