ইসলামে আইনের শাসন ও সুবিচার
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২
সামাজিক অস্থিরতা আর অবক্ষয় যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে ন্যায়বিচারের অভাব। কেননা দেখা যায় বড় ধরনের অপরাধ করার পরও অপরাধীকে একটি মহল সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে।
অথচ পবিত্র কুরআনের শিক্ষা হচ্ছে-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যদি নিজ পিতা-মাতার বিরুদ্ধেও সাক্ষ্য দিতে হয় তা যেন দেওয়া হয়। আর আমরা আজ করছি উলটো, অপরাধী নিজের আত্মীয়স্বজন হলে তাকে কীভাবে রক্ষা করা যায় সেই চেষ্টায় রত হই। আজ যারা সমাজ ও দেশে নানা অপকর্ম করছে তারা তো কোনো না কোনো পরিবারেরই সদস্য।
অপরাধীদের পরিবার যদি প্রথমে সোচ্চার হতো তাহলে অপরাধের মাত্রা এমনিতেই অনেক কমে যেত কিন্তু আমরা তা করছি না। এ জন্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলাম অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ পাক হচ্ছেন সবচেয়ে বড় ন্যায়বিচারক। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যেহেতু আল্লাহরই কাজ, তাই ইসলামি-রাষ্ট্রের প্রধান ও শাসনকার্যে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আল্লাহপাক এ নির্দেশই প্রদান করেন যে, তারা যেন ন্যায়পরায়ণতা, দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য পালন করেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে যারা ইমান এনেছ! আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সাক্ষ্যদাতা হিসাবে তোমরা দৃঢ়ভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী হও, এমনকি সেই সাক্ষ্য তোমাদের নিজেদের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে গেলেও। যার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে, সে ধনী হোক বা গরিব, আল্লাহ উভয়েরই সর্বোত্তম অভিভাবক। অতএব, তোমরা যাতে ন্যায়বিচার করতে সক্ষম হও, সে জন্য তোমরা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ কর না আর তোমরা যদি পেঁচানো কথা বল অথবা সত্য এড়িয়ে যাও, তবে মনে রেখ, তোমরা যা কর সে বিষয়ে নিশ্চয় আল্লাহ পুরোপুরি অবগত আছেন’ (সূরা নিসা : ১৩৫)।
এ আয়াতে শুধু সুবিচারের কথাই স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়নি, বরং সুবিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্তাবলিও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, শুধু সুবিচার প্রতিষ্ঠাই নয়, বরং সুবিচারের পতাকাকেও সমুন্নত রাখতে হবে। যেখানেই ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হতে দেখা যাবে, সেখানে তা সমুন্নত করাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। মামলায় কোনো পক্ষের হার-জিতের জন্য সাক্ষ্য নয়, বরং শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই সাক্ষ্য দিতে হবে। কেননা, সত্য সাক্ষ্য ব্যতিরেকে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সত্য সাক্ষ্য দিতে গিয়ে যদি নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগে অথবা নিজ পিতা-মাতার বা নিকটাত্মীয় পরিজনের প্রতিকূলেও যদি যায়, তবুও সত্য সাক্ষ্য দিতে হবে। ন্যায়বিচারের উচ্চ মানদণ্ড ছাড়া সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে একমাত্র সত্যকেই মাধ্যম বানাতে হবে।
ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম এবং এর শিক্ষা অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের। ইসলামের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সমাজ ও দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত নবি (আ.)-এর আগমন ঘটেছে, তাদের প্রত্যেককে আল্লাহতায়ালা বিশেষ যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহতায়ালার নির্দেশ অনুযায়ী সব নবিই (আ.) দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং এক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন।
ইসলামে ন্যায়বিচারের শিক্ষা এমন এক অনিন্দ্য সুন্দর শিক্ষা, যা ন্যায়পরায়ণ প্রত্যেক অমুসলিমও শুনে প্রশংসা না করে পারে না। পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করাই মহানবি (সা.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য এবং তিনি নিজ আমল দ্বারা সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষমও হয়েছিলেন। আল্লাহতায়ালার অনুপম শিক্ষা এবং ইসলামের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বহিঃপ্রকাশ তখনই সম্ভব হবে, যখন প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহপাকের প্রতিটি আদেশের ওপর আমল করবে।
ন্যায়বিচারের আদর্শ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেদের ঘর, সমাজ, আপন-পর, এমনকি শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবার সঙ্গে ন্যায়সুলভ ব্যবহারের মাধ্যমেই আমরা মহানবি (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী বলে দাবি করতে পারি। সর্বক্ষেত্রে আমরা যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব, তখনই আমরা আল্লাহর প্রেমিকও হতে পারব আর খায়রে উম্মত হিসাবে নিজদের প্রকাশ করতে পারব এবং আল্লাহর দরবারে মুমিন হিসাবে বিবেচিত হব।
সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য আমাদের যদি নিজ আত্মীয়স্বজন ও বয়োজ্যেষ্ঠদের অসন্তুষ্টিরও সম্মুখীন হতে হয়, তারপরও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। আজকে ন্যায়বিচারের বড়ই অভাব আর এ কারণেই সর্বত্র বিশৃঙ্খলা, সামাজিক অস্থিরতা আর অরাজকতা দেখা দিচ্ছে। সবাইকে আল্লাহতায়ালা ন্যায়বিচার করার তৌফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
- এবার পাকিস্তানে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’
- যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নতুন নির্দেশনা
- দুই দেশের সীমান্তে ইসরায়েলের হামলা
- ক্যালিফোর্নিয়ায় যেকোনো সময় বিস্ফোরণ
- ইরানের হামলায় মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস
- বেঁচে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের পাশে ভারতীয় ৩ কর্মকর্তার সেলফি
- ফের মার্কিন হামলার আশঙ্কা
- হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু
- রামিসার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হস্তান্তর
- রামিসার হত্যাকারীর শাস্তি এক মাসের মধ্যে: প্রধানমন্ত্রী
- নিউইয়র্কে ঈদমেলা ও বিনোদন অনুষ্ঠান ২৪ মে
- সিটিতে প্রি-কে’র আসন সংখ্যা বাড়লো
- ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলকারীসহ নিহত ৫
- রিয়েল স্টেট, মর্টগেজ ও ট্যাক্স শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
- প্রধানমন্ত্রীর এসিড টেস্ট ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন’
- ‘দেশী প্যারেডে বিদেশী নৃত্য’
- লাল-সবুজের পতাকায় বাংলাদেশ ডে প্যারেড
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরা না ফেরার প্রশ্নে হঠাৎ আলোচনা কেন?
- ব্রঙ্কসে নতুন প্রিসিংক্ট উদ্বোধন করলেন মামদানি
- নিহত রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- রাজনৈতিক বংশতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছেন শামসুল হক
- সম্পাদকের ঈদ শুভেচ্ছা
- নিউইয়র্কে ঈদ জামাত কখন কোথায় হবে
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ বুধবার - রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় তোলপাড় বাংলাদেশ
- আজকাল ৯২৩
- ধর্ষককে শাস্তি দিতে মবজাস্টিস চান ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র শুভ
- কিউবাকে কি ভেনেজুয়েলা ভেবেছে ওয়াশিংটন?
- ভারতে ইবোলা ঠেকাতে বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি
- ট্রাম্প-পুতিনের পর এবার চীনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
- বসুন্ধরা যেন রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- টেলিগ্রামে ১০৮ পর্নোগ্রাফি চ্যানেল শনাক্ত, বন্ধে চিঠি
- আজকাল ৮৯৫
- আজকের সংখ্যা ৯০৩
- আজকাল ৯০২
- আজকাল ৯০০
- যে কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে বিপর্যয়
- তারেকের দেশপ্রেম, মাতৃভক্তি ও বিদেশি নাগরিকত্ব!
- আজকাল ৮৯৭
- বেগম রোকেয়া পদক পেলেন ফুটবলার ঋতুপর্ণা
- আজকাল ৯০৪
- উস্কানির অভিযোগে ইলিয়াসের আরেক পেজ সরাল মেটা
- আজকাল ৯০১
- আজকাল ৮৯৮
- গ্রেফতারের আগে খালেদাকে নিয়ে শওকত মাহমুদ
- ফেসবুক অ্যাপে ফের বড় পরিবর্তন
- আজকাল ৮৯৬
- কাবা শরিফ ও মদিনায় ৩০ দিনে ৭ কোটি ৮৮ লাখ মুসল্লি
- অর্ধশতাব্দী পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নাসার
- আজকাল ৯০৫ তম সংখ্যা
- স্বামী-স্ত্রী সর্বোচ্চ কতদিন কথা না বলে থাকা জায়েয?
- শিয়া সুন্নী দ্বন্দ্বের আদ্যোপান্ত
- পাঁচ অবস্থার আগে পাঁচ অবস্থার মূল্যায়ন করুন
- দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ নেককার স্ত্রী
- মৃতের আত্মা কখনও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসে না
- কবরে কি নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্নোত্তর করা হবে?
- কেমন হবে হাশরের ময়দান
- হিজামার স্বাস্থ্য উপকারিতা
- পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে নবীজির ১০ বাণী
- জীবনে সুখী হওয়ার পাঁচ পরামর্শ
- কোরআন-হাদিসের আলোকে কবর জিয়ারতের দোয়া
- পথ চলার আদব!
- মুসলিম হিসেবে মৃত্যু লাভের দোয়া
- নামাজে মনোযোগী হওয়ার উপায়
- তাকদিরে বিশ্বাস না করলে ঈমান থাকেনা
