শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও অস্ট্রিয়ায় স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতীয় শিক্ষার্থীর হাত-পা বাঁধার ভিডিও রুশ-যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা আলোচনা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড কী, কখন মোতায়েন করা হয়? যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কমিটির সবাইকে বরখাস্ত করলেন কেনেডি ফ্রান্সগামী উড়োজাহাজে চড়ে ইসরাইল ছাড়লেন গ্রেটা থুনবার্গ না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ সিঙ্গাপুরের ঘাম ঝরিয়েও হার বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন ইরান-ইয়েমেনের কাছাকাছি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েন কফিতে মশগুল ব্রিটেনে পলাতক সাবেক মন্ত্রীরা! নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধে বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে ভূমিকম্পে ১৭০ প্রিয়জন হারালেন এক ইমাম ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত ট্রাম্প কি আসলেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন লিবিয়ায় অপহৃত ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার দুদিনে নিহত ১৩, চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া যেভাবে মরণফাঁদ হয়ে উঠলো বাংলাদেশের অর্থপাচার তদন্তে ব্রিটিশ এমপিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের সাভারে চলন্ত বাসে আবার ডাকাতি, চালক ও সহকারী আটক ছুটিতে এটিএম সেবা সবসময় চালু রাখার নির্দেশ উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতার আওতায় ২৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ এনসিপি নেতা হান্নানের পথসভায় হামলা, আহত ‘অর্ধশতাধিক’ নির্বাচনী ট্রেনে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্র্রঙ্কসের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাবওয়ে ট্রেনে সন্তান প্রসব নিউইয়র্কে আইস পুলিশের বিশাল অফিস উদ্বোধন মেয়রের মামলা প্রত্যাহারে প্রসিকিউটরের পদত্যাগ হাসিনা নিজেই হত্যার নির্দেশদাতা জন্ম নাগরিকত্ব বাতিল আদেশ আটকে দিল আদালতে নিউইয়র্কে ডিমের ডজন ১২ ডলার নিউইয়র্কে ভালোবাসা দিবস উৎযাপন আমেরিকান বাংলাদেশী টেক কোয়ালিশন’র আত্মপ্রকাশ জামালপুর সমিতির সভাপতি সিদ্দিক ও সম্পাদক জাস্টিস শেখ হাসিনার আমলে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশিদের অস্ত্রোপচার বাতিলে কলকাতাজুড়ে হাসপাতালে হাহাকার দি‌ল্লি যাওয়া ছাড়াই পাওয়া যাবে মে‌ক্সি‌কান ভিসা বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন কেউ আপনার স্ত্রীকে ‘হট’ বললে সেটা কি ভালো লাগে, প্রশ্ন সানার পাচারের ১৭ লাখ কোটি ফেরাবে কে এবাদুলের মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হংকং-দুবাইয়ে পাচারকারীরা বেপরোয়া ছিল শেখ পরিবারের প্রশ্রয়ে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কতটুকু সত্য? দিনে মাত্র একবেলা খাচ্ছে গাজার অনেক মানুষ পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে বদলে দেয়া হয় মেট্রোরেলের নিয়োগবিধি যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক ১৩৯ কোটি টাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর চার খাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হাথুরুসিংহের অপকর্ম ধামাচাপা দেন পাপন ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আমেরিকার জন্য বিশাল হুমকি হবে’ নীরবে সরবে চাঁদাবাজি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের উপায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাইডেনের ভাড়া ফাঁকিবাজদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরীকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ ভিসা ফি ছাড়াই এবার পাকিস্তান যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফি আটক সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল সফরে ২৬ ব্যাংক এমডি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ সাবেক সেনাপ্রধান ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা দিনের বেলায় মরুভূমির চেয়েও উত্তপ্ত চাঁদ ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৩২৭ ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি অক্টোবরের মধ্যেই ‘আন্দোলনের ফসল’ ঘরে তুলতে চায় বিএনপি শর্তসাপেক্ষে নিউইয়র্কে মসজিদে আজানের অনুমতি বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া গেলেন ৩১ কর্মী খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নির্দেশ জার্মানে পাঁচ বছর বাস করলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব বিএনপি-জাপা বৈঠক সিঙ্গাপুরে বাইডেন প্রশাসনকে হাসিনার কড়া বার্তা এবার হাসিনার পাশে রাশিয়া বঙ্গ সম্মেলনের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক ঘটনা স্টুডেন্ট লোন মওকুফ প্রস্তাব বাতিল বাংলাদেশিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগে নিজ দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা: শেখ হাসিনা তামিমের অবসর অভিযোগের তীর পাপনের দিকে নিউইয়র্কে এখন চোরের উপদ্রুব যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, পাঁচ দিনে নিহত ৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে বাখমুত থেকে পিছু হটেছে সেনারা, স্বীকার করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোন হবে না, দাবি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সুদানে যুদ্ধে সাড়ে ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে সারা দেশে ভোগান্তি রুশ হামলা সামলে ফের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে ইউক্রেন রিজার্ভ সংকট, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের দুর্বল নীতিও দায়ী পূজার ‘জিন’ একা দেখতে পারলেই মিলবে লাখ টাকা! সিরিয়ায় আর্টিলারি হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাইডেন না দাঁড়ালে প্রার্থী হবেন কে নাইজেরিয়ায় ৭৪ জনকে গুলি করে হত্যা ভারতে বাড়ছে করোনা, বিধিনিষেধ জারি তিন রাজ্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

স্যাটেলাইটে উঠে এলো ইসরায়েলের বর্বরতা

প্রকাশিত: ৫ জুন ২০২৬  

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে দুই বোন রিম ও ওয়ালার কবর জিয়ারত করতে চান ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহান্নাদ কিশতা। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পথে একটি নির্মম বাস্তবতার সম্মুখীন হন তিনি; মানচিত্রে আর সেই কবরস্থানই নেই।

খান ইউনিসের মান এলাকার শেখ মোহাম্মদ কবরস্থান সম্প্রতি হালনাগাদ হওয়া স্যাটেলাইট চিত্রে সম্পূর্ণ মুছে গেছে। এর জায়গা নিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তাঁবু ও সাঁজোয়া যানসমৃদ্ধ একটি সামরিক ঘাঁটি। গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া উচ্চ রেজুলেশনের এই চিত্র ধারণ করা হয়েছে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

আলজাজিরাকে কিশতা বলেন, এই যুদ্ধে মৃতরাও রেহাই পায়নি। আমি যদি গিয়ে দেখি জায়গাটা মরুভূমির মতো হয়ে গেছে, আমার বোনদের কবর নেই, তাদের জন্য দোয়া পড়ার কোনো স্থান নেই, তাহলে আমার অনুভূতি কী হবে?
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ গাজা, স্যাটেলাইটে উঠে এলো ইসরায়েলের বর্বরতা  
ট্রাম্পকে কড়া বার্তা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের, ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাস

নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, পুরো অঞ্চলজুড়ে অসংখ্য পাড়া-মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে অস্থায়ী শিবিরে, যেগুলো ভূমধ্যসাগরের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ গাজা, স্যাটেলাইটে উঠে এলো ইসরায়েলের বর্বরতা  
লেবাননে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই হালনাগাদ মানচিত্র চলমান ধ্বংসযজ্ঞের এক বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষের প্রাণহানির বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।

ইউরো-মেড মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯৪ শতাংশ কবরস্থান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্মৃতি বহনকারী এসব স্থানকে সামরিক ব্যারাকে রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংস্থাটির।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গাজার বড় বড় আবাসিক কেন্দ্রগুলো প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে উপত্যকার ভূগোলই বদলে গেছে। রাফাহ শহরে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই ব্যাপক যে একেকটি পাড়া অন্যটির সঙ্গে আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাল আল-সুলতানের সৌদি পাড়া সাতশ বাহান্ন ইউনিটের বিশাল আবাসন প্রকল্প এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ।

২০২৪ সালের শুরুতে রাফাহ অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লাল রেখা টেনেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল সেখানেও অভিযান চালায় এবং এ নিয়ে কার্যত কোনো পরিণতির মুখোমুখি হয়নি। বর্তমানে রাফাহর অধিকাংশ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। রাফাহর সামগ্রিক দৃশ্যে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রাস্তার অস্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়।

শহরের পশ্চিমাংশে অবস্থিত সুইডিশ গ্রামটিও প্রায় পুরোপুরি মানচিত্র থেকে মুছে গেছে। একসময় ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী প্রাণবন্ত এই জনপদে প্রায় ১৩০০ মানুষ বাস করতেন। ১৯৬৫ সালে আন্তর্জাতিক সহায়তায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আশ্রয়ের জন্য এটি গড়ে তোলা হয়েছিল।

এই গ্রামের অর্থনীতি পুরোপুরি সমুদ্রনির্ভর ছিল। স্থানীয় জেলেদের নৌকা প্রতিদিন এখানকার উপকূল থেকে মাছ ধরতে যেত। সমুদ্রতীরবর্তী ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নৌকা মেরামতের ঘর এবং সুইডিশ জনগণের উপহার হিসেবে নির্মিত একটি কমিউনিটি সেন্টার ছিল গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

বর্তমানে এলাকাটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। দাঁড়িয়ে আছে মাত্র পাঁচটি বাড়ি। একসময় অবরুদ্ধ গাজার বাইরের বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র সংযোগপথ হিসেবে পরিচিত রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংও ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যাত্রী আগমন-প্রস্থান টার্মিনাল, ভিআইপি অভ্যর্থনা কেন্দ্র, মানবিক সহায়তা ট্রাকের জন্য নির্ধারিত লজিস্টিকস সুবিধা এবং প্রশাসনিক কার্যালয়ের জায়গায় এখন রয়েছে শক্তিশালী সামরিক পর্যবেক্ষণ পোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া।

খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলের বানি সুহাইলা, আবাসান ও আল-জানা এলাকার মধ্য দিয়ে সামরিক করিডোর তৈরি করা হয়েছে। এসব এলাকার আবাসিক ভবনের মাঝেই অবস্থান নিয়েছে ট্যাংক। যুদ্ধের আগে এসব অঞ্চল ছিল খান ইউনিসের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ কৃষি ও আবাসিক এলাকা। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বহু প্রজন্মের পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।

তীব্র বোমাবর্ষণ ও সামরিক সরবরাহপথ তৈরির জন্য পুরো ব্লক ধ্বংস করার পর অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। অনেকে উপকূলীয় আল-মাওয়াসির জনাকীর্ণ তাঁবুশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর স্কুল ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।

কাতারের অর্থায়নে নির্মিত হামাদ সিটিও এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একশ পঁয়ত্রিশ মিলিয়ন ডলারের এই আবাসন প্রকল্পে তিপ্পান্নটি আধুনিক পাঁচতলা ভবনে প্রায় তিন হাজার আবাসিক ইউনিট ছিল।

ধ্বংসের আগে এখানে প্রায় পনেরো হাজার মানুষ বাস করতেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন নিম্নআয়ের পরিবার এবং পূর্ববর্তী সংঘাতে বাস্তুচ্যুত মানুষ। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ভবনগুলো এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ।

জাতিসংঘের শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, গাজার সাতানব্বই শতাংশের বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে ৬ লাখ ৫৮ হাজার শিশু দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয় ধ্বংস করা হয়েছে, নয়তো বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা এবং ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দক্ষিণ গাজার আল-ইসরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এসব ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রিত সামরিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

রাফাহ ও খান ইউনিসের কৃষিজমি এবং গ্রিনহাউস একসময় পুরো গাজার খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানকার জমিতে টমেটো, শসা, মরিচ, জলপাই ও বিভিন্ন সাইট্রাস ফল উৎপাদিত হতো। শত শত গ্রিনহাউস গাজার দৈনন্দিন খাদ্যচাহিদার চল্লিশ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করত।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গাজার ৫ শতাংশেরও কম কৃষিজমি ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। শাকুশ এলাকায় ইসরায়েলি বুলডোজার গ্রিনহাউস ধ্বংস করেছে এবং উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে খাদ্যসংকট আরও তীব্রভাবে বেড়েছে।

খান ইউনিসের সাংবাদিক ওলা আবু মোআমের বলেন, খাবারের সন্ধানে মানুষের ছুটে চলার দৃশ্য অত্যন্ত নির্মম। আমরা এমন এক দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা যে কোনো সময় শুরু হতে পারে। অনেক পরিবার স্যুপ রান্নাঘর থেকে খালি হাঁড়ি নিয়ে ফিরে আসে। তারা কোনো খাবারই সংগ্রহ করতে পারে না।

২ দশমিক ৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেককে দশবারেরও বেশি স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। জনসংখ্যার ষাট শতাংশ পুরোপুরি ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে আল-মাওয়াসি এলাকার তাঁবুগুলোর চরম ঘনত্ব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সমুদ্রতীর ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে এসব শিবির। এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্যমান প্রমাণের পাশাপাশি গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল বারোর ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে গাজায় নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছি। আমার নির্দেশ হলো তা ৭০ শতাংশে উন্নীত করা। আমরা সেখান থেকেই শুরু করবো।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় একটি ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা দখলকৃত অঞ্চল চিহ্নিত করত। কিন্তু এরপরও সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে আরও এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতি হামাসের সঙ্গে হওয়া সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থাকে যে মানচিত্র সরবরাহ করে, তাতে দেখা যায় তারা গাজার ৬৪ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের জন্য উপত্যকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে।

চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলের সরে যাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নামমাত্র যুদ্ধবিরতিও সহিংসতা থামাতে পারেনি। আল জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪০০ ইসরায়েলি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বোমাবর্ষণের গতি আরও বেড়েছে।

গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বোর্ড অব পিসের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই সংকট কেবল ভবন ধ্বংসের গল্প নয়। সাংবাদিক ওলা আবু মোআমের বলেন, অনেক সময় সাংবাদিকরা শিশুদের কান্নার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্যামেরা বন্ধ করে দেন, কারণ হারিয়ে যাওয়া শৈশবের বেদনা ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব নয়।

মুহান্নাদ কিশতা বলেন, স্যাটেলাইট ধ্বংস হওয়া ভবনের ছবি তুলতে পারে। কিন্তু যে মানুষটি নিজের বাড়ির খোঁজে ফিরে এসে কিছুই খুঁজে পায় না, তার অনুভূতি কোনো স্যাটেলাইট ধারণ করতে পারে না। সবচেয়ে কঠিন বিষয় ধ্বংস নয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা গল্পগুলো। 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর