ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি মার্কিন অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে
প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও রাজনেতিক কারণে তাদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের খড়গ নেমে এসেছে। অভিবাসন খাত বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রম ঘাটতিও পূরণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি নাগরিক আশ্রয় ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে গিয়ে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। অভিবাসন খাত মার্কিন অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও অভিবাসীরা রাজনৈতিক বিভাজনের শিকার। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের অভিবাসন নীতিতে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। তিনি একইসঙ্গে বৈধ ও অননুমোদিত উভয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নিয়েছেন। এই অবস্থায় মার্কিন শ্রমবাজারে অভিবাসীদের অর্থনৈতিক ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের জরিপ অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অবদান ছিল অভিবাসীদের। ওই বছর তারা স্থানীয়, রাজ্য ও ফেডারেল কর হিসেবে প্রায় ৬৫২ বিলিয়ন ডলার প্রদান করে। অনথিভুক্ত অভিবাসীরাও মার্কিন অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। ২০২৩ সালে অ-নথিভুক্ত অভিবাসীদের ব্যয় সক্ষমতা ছিল ২৯৯ বিলিয়ন ডলার। তাদের সম্মিলিত আয় ছিল প্রায় ৩৮৯ বিলিয়ন ডলার। যা থেকে তারা ৯০ বিলিয়ন ডলার কর পরিশোধ করেন।
তবুও অভিবাসনে বিধিনিষেধ সমর্থনকারীদের যুক্তি, অ-নথিভুক্ত অভিবাসীরা অর্থপাচার করে থাকে; যা রাজ্য ও স্থানীয় বাজেটের ওপর এর প্রভাব পড়ে। তাছাড়া বিরাট সংখ্যক অভিবাসীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় অংকের ব্যয় করতে হয় মার্কিন সরকারকে।
তবে বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, অভিবাসীরা মার্কিন অর্থনীতির জন্য ভাল। কারণ তাদের কারণে শ্রমশক্তির আকার বাড়ে। তারা কর রাজস্ব ও ভোক্তা চাহিদা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। তবে মজুরির ওপর অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ বোর্জাসের মতো কিছু গবেষক স্বল্পদক্ষ শ্রমশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে অর্থনীতিবিদ জিওভানি পেরির মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কর্মীর মজুরির ওপর খুব কম প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা
শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) অনুসারে, ২০২৪ সালেও প্রায় ৩১ মিলিয়ন অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে কর্মে যুক্ত ছিলেন। এই সংখ্যা দেশটির মোট বেসামরিক কর্মী বাহিনীর ১৯.২ শতাংশ। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমখাতে বিদেশি বংশোদ্ভূত কর্মীর অংশগ্রহণ ছিল ৬৭ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নাগরিকের অংশগ্রহণ ৬২ শতাংশ। বিদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বৈধ অভিবাসী, শরণার্থী, অস্থায়ী বাসিন্দা এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীরা অন্তর্ভুক্ত।
কোন খাতে কাজ করেন অভিবাসীকর্মীরা
বিএলএসের জরিপ বলছে, অভিবাসীরা বিভিন্ন শিল্প ও পেশায় কাজ করেন। মার্কিন অভিবাসীদের বড় সংখ্যায় পরিষেবা খাতে কাজ করে। এই খাতে তাদের অংশগ্রহণ ২২ শতাংশ। তাছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ১৩.৯ শতাংশ এবং উৎপাদন, পরিবহন ও উপকরণ স্থানান্তর খাতে ১৫.৫ শতাংশ অভিবাসীকর্মী যুক্ত রয়েছেন।
২০২৫ সালের একটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ১৮.৫ শতাংশ অভিবাসীকর্মী তাদের প্রাথমিক বা গৌণ কাজ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কাজে অংশ নেন। যারা সাধারণত উবারের মতো অ্যাপ-ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজ পান; অথবা নির্মাণ ও উৎপাদনসহ শিল্পখাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকেন।
অভিবাসীরা বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা করেন- যেমন স্থানীয় ছোট দোকান থেকে শুরু করে বৃহৎ আকারের উদ্যোগ পর্যন্ত। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের মতে, ২০২৪ সালে ‘ফরচুন ৫০০’ তালিকায় স্থান পাওয়া ৪৬ শতাংশ কোম্পানিই অভিবাসীর সন্তানদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। এসব কোম্পানির মধ্যে অ্যাপল, অ্যামাজন এবং ডোরড্যাশের মতো কোম্পানিও রয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনকাজে যুক্ত কর্মী ছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশই ছিল অভিবাসীর সন্তানদের দখলে।
মার্কিন অর্থনীতিতে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রভাব
ট্রাম্প প্রশাসন শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। অনিরাপদ দেশের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাছাড়া নির্দিষ্ট ভিসা ফি বাড়ানোসহ বহু অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ মার্কিন শ্রমশক্তির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
অভিবাসন নীতি কঠোর করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল, রেস্তোরাঁ, নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত সংকটে পড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশটির ৬৮ শতাংশ কৃষি শ্রমিক ছিলেন বিদেশি বংশোদ্ভূত। চলতি বছরের অক্টোবরে শ্রম বিভাগ সতর্ক করেছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি শ্রমিক ঘাটতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে। বিএলএসের তথ্যমতে, দেশব্যাপী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে অভিবাসীকর্মী কমেছে দশ লাখের বেশি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার যুক্তি, অভিবাসন সীমিত করলে শ্রমিকের মজুরি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, শ্রমশক্তি বৃদ্ধির জন্য মার্কিন নাগরিকের অভাব নেই।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, শ্রমশক্তি কমে গেলে তা অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও পরিষেবার পরিমাণও কমতে পারে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি প্রধান উপাদান।
ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি) গবেষণায় বলা হচ্ছে, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ২০৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমাতে পারে। এনএফএপির সিনিয়র ফেলো মার্ক রেগেটস মনে করেন, অভিবাসীকর্মীরা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সব জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধা বয়ে আনে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৪০ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসী রয়েছে। পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্স ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, ১৩ লাখ থেকে ৮৩ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করলে ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত জিডিপি ৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে। কর্মীদের ব্যাপকভাবে বহিষ্কার এবং বৈধ অভিবাসনে বিধিনিষেধ মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’
- বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ট্যাক্স নেওয়ার প্রস্তাব
- হাজার ছাড়াল লাশ নিখোঁজ অর্ধলাখ
- ধসে পড়া ভবন থেকে দুদিন পর গোঙানির শব্দ
- বিবাহিত ছেলের প্রেমে পড়া নিয়ে যে উপদেশ প্রভার
- ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা
- মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, প্রতিরোধে বিজিবি
- বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম
- এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ
- জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আটক
- তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ
- সমঝোতা লঙ্ঘন করলে জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত: ইরানের হুঁশিয়ারি
- ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে ৮৮ বিলিয়ন ডলার চাইলেন ট্রাম্প
- মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠিত
- বিএনপির জিল্লু ৬ মাস পর ফিরলেন
- শত্রুর বিরুদ্ধে মিন্টুর হুংকার
- ৩০ জুনই নির্বাচনী মহড়ার প্রাথমিক দৃশ্য
- যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইস’র গ্রেপ্তার সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ
- নতুন তারকার জন্ম হয়নি এবারের বিশ্বকাপে
- বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের পুরস্কার বিতরণ
- নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
- অভিবাসী বিতারণে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের বিজয়
- প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ভারত চাপে
- সেই রাজকুমার হারলেন
- বিশেষ একাউন্ট: প্রবাসীরা বিনিয়োগ ফেরত আনতে পারবে
- ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি
বাংলাদেশি প্রার্থীরা কে কোথায় - রাজনীতিতে কিংমেকার মামদানি!
- সিটিজেনশীপ আবেদন ফি ১৩৩০ ডলার হচ্ছে
- আমাদের ছিলেন একজন শামসুল হক
- আজকাল ৯২৮
- ‘বিশ্বকাপ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে’
- প্রতিমন্ত্রী নূরসহ বিগ বাজেটের মিডিয়া বিনিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য
- আজকের সংখ্যা ৯০৩
- আজকাল ৯০২
- আজকাল ৯০০
- বেগম রোকেয়া পদক পেলেন ফুটবলার ঋতুপর্ণা
- আজকাল ৯০৪
- আজকাল ৯০১
- উস্কানির অভিযোগে ইলিয়াসের আরেক পেজ সরাল মেটা
- গ্রেফতারের আগে খালেদাকে নিয়ে শওকত মাহমুদ
- ফেসবুক অ্যাপে ফের বড় পরিবর্তন
- কাবা শরিফ ও মদিনায় ৩০ দিনে ৭ কোটি ৮৮ লাখ মুসল্লি
- আজকাল ৯২১
- অর্ধশতাব্দী পর ফের চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নাসার
- আজকাল ৯০৫ তম সংখ্যা
- সিনেটে ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী ‘স্টপ সিটিজেনশিপ অ্যাবিউজ’ বিল উত্থাপ
- নির্বাচনের আগে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা
- আজকাল ৯০৬ তম সংখ্যা
- এটা আমার নতুন অধ্যায়ের সূচনা, বহিষ্কার হওয়ার পর রুমিন ফারহানা
- আজকাল ৯০৭
- আজকাল ৯০৮
- অবৈধদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না
- আমি আমার ৩টি টার্গেট ঠিক করে নিয়েছে : এসপি হারুন
- নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পাশে নেই বিএনপি
- নতুন ইমিগ্র্যান্ট ঠেকাতে সিনেটে বিল পাস
- রোববার থেকে স্টুডেন্ট লোন মওকুফ কার্যক্রম শুরু
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ১১ বাংলাদেশির নাম
- কাল ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিন
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাতভর ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ
- ডিপোর্টেশন আতংকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
- ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত গ্যাস
- ট্রাম্প-বাইডেন দু’জনই বুড়ো, কাউকে পছন্দ না ভোটারদের
- নাগরিকত্ব পেতে ইন্টারভিউ দিতে হবে না
- অনিশ্চয়তার মুখে ২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
- ইংরেজিতে দুর্বলদের জন্য দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তন আসছে - যুক্তরাষ্ট্রে ২৫২ বাড়ি আমলা-পুলিশের
