হোয়াইট হাউজে পদত্যাগ ও বদলী আতংক
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৫০ এএম, ৭ নভেম্বর ২০২৬ শনিবার
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে কৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকানরা। হোয়াইট হাউস প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবিকে জোরালো হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের ভেতরে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। জানুয়ারিরতে ডেমোক্র্যাটদের দায়িত্ব নেবার আগেই অনেকে সরে পড়তে চাচ্ছেন। তদন্তের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেকেই হতে চাচ্ছেন না। কংগ্রেস চাইলে নির্বাহী ক্ষমতা ও প্রশাসনকে যেকোন ইস্যুতে তদন্তের ক্ষমতা রাখে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলটি সে পথে হাঁটবে তা নিশ্চিত। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সকল কমিটিতেই সভাপতির দায়িত্ব পাবেন। ট্রাম্পকে নির্বাহী আদেশ দেয়া ছাড়া প্রতিটি বিষয় নিয়ে বারবার এই সব কমিটির দ্বারস্থ হতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যেও কর্মি রদবদলের গুঞ্জন চলছে। কে থাকবেন, আর কাকে বাদ দেয়া হবে তা এখন হোয়াইট হাউজের ভেতরের আলোচিত বিষয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কৌশল পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন রিপাবলিকানরা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রাটদের হাতে চলে গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরগুলোয়, রিপাবলিকান মিত্র ও কৌশলবিদরা তাঁকে হোয়াইট হাউসের কর্মী কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরাজয়ের জন্য দায়ী নীতিগুলো (যেমন ইরান যুদ্ধ ও শুল্ক নীতি) বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রবীণ রিপাবলিকান কৌশলবিদ জন ফিহেরি এই ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য একটি ‘বিশাল বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। ফিহেরি বলেন, তার প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এখন থেকে প্রতিটি দিন তিনি আরও বেশি দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়বেন।
এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, আমি এটিকে আমার ওপর কোনো আঘাত হিসেবে দেখছি না। হেরেছে রিপাবলিক্যান পার্টিও প্রার্থীরা।
এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়া, তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করা এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা থাকবে। বিচার বিভাগ ও বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগগুলোর জন্য ডেমোক্র্যাটদেও সর্মথনের কোন বিকল্প নেই।
ট্রাম্পকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি তার বর্তমান এজেন্ডা বা কর্মপরিকল্পনাতেই অটল থাকবেন কিনা। বিশেষ করে ২০২৮ সালের নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অংশ নিতে আগ্রহী সম্ভাব্য প্রার্র্থীরা ট্রাম্পের এজেন্ডাগুলোকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে আগামীতে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বুধবার থেকে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। কৌশলবিদ ও দলীয় কর্মকর্তাদের মতে, রিপাবলিকানরা যদি মনে করেন, দলের ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ছে, তবে এ ধরনের বিচ্ছিন্নতার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
হোয়াইট হাউসে কর্মী রদবদল ও তদন্তের প্রস্তুতি
রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে এখন কর্মী বিদায়, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে তদন্তের প্রস্তুতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে এখানে থাকাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। সবার মনোবল একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। ভবিষ্যতে তদন্তের মুখোমুখি হবার চেয়ে ভালো ভালোই আগে সরে যাওয়া উচিৎ।
তিনি জানান, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জরিপে সতর্ক করা হয়েছিল, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই পরাজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে রাজি হননি। তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এসব নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাননি। তিনি কারও কথাই শুনতে চাননি।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেন আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তিনি সংঘাত শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গান।
রিপাবলিকানদের উদ্বেগ কেবল যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মিশিগান ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে, যেখানে সিনেট আসন নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, সেখানে আয়োজিত ফোকাস গ্রুপগুলোতে রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টারা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মুখে পড়েন। কারণ, অনেক রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটার হোয়াইট হাউসের বলরুম এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কারের ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগের বিরোধিতা করেছিলেন।
একজন রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ট্রাম্প যদি আগামী দুই বছর ধরে এই একই বাজে বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকেন, তবে পরবর্তী নির্বাচনেও আমাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটবে। অথচ বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের নিয়ে বলরুম নির্মাণের স্থানটি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন এবং এই প্রকল্পে তার ব্যয় করা সময়ের পক্ষে সাফাই গান। তিনি বলেন, এটি আমার ভালো লাগে।
হোয়াইট হাউসও জনসমক্ষে এক আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। ইঙ্গিতর্পূন পোষ্ট দিচ্ছেন। লেখা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনও আপনাদের প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে। হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন এবং ফেডারেল ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাহী আদেশ (এক্সিকিউটিভ অর্ডার) তৈরির কাজ করেছে। এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি তার এজেন্ডার কিছু অংশ এগিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু নির্বাহী ক্ষমতা প্রশাসনকে কংগ্রেসের তদন্তের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা বলেন, কেউই এসব তদন্তের মুখোমুখি হতে চায় না। (তথ্যসূত্র-রয়টার্স)
