সাবেক চিফ প্রসিকিউটরে তাজুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময়
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:১৪ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় গত ১৬ অক্টোবর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অগ্রগতি ও সংকট’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয় অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ও সংগঠনের আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সাবেক সিনেটর-অ্যাট-লার্জ শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া, বিচারিক চ্যালেঞ্জ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিচার এবং জবাবদিহির প্রসঙ্গও উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ও ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান, নাগরিক সচেতনতা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিরোধে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে অতিথি, প্যানেলিস্ট, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিচারের অগ্রগতি, বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার এবং ভবিষ্যৎ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন করেন। মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম নিজের আইনগত অভিজ্ঞতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতার আলোকে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আলোচনা প্যানেলে অংশ নেন ড. জুন্নুন চৌধুরী, সোহেল হামিদ, আজিজুর রহমান ও ড. শেখ মিজান ।অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রখ্যাত লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মীর মাসুম আলী, ‘বাগ’র সেক্রেটারি শাহানা মাসুম, সাংবাদিক কাজী শামসুল হক, এনসিপি ডায়াসপোরার রওশন হক, ‘মুনা’র প্রসেসর শহীদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুল চৌধুরী, নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তা জোহেব আহমেদ চৌধুরী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এবং প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যাডভাইজার জাগপার কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এস. এম. রহমতুল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আইসএনএ’র সোশ্যাল জাস্টিস ডিরেক্টর মাহতাবউদ্দিন খান, ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ এর ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার সাইফুল্লাহ খান, ইউবিএম-এর সিইও আব্দুল আলিম, শামীম আহমেদ ও দীপন গাজী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, পাশাপাশি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সামাজিক সচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান এবং অনুষ্ঠানে মূল্যবান সময় দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকরা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়াসহ সব অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠান আয়োজনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আইজিপিডি) এর সদস্যরা সাংগঠনিক ও সমন্বয়মূলক ভূমিকা পালন করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি, সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নে আন্তরিক পরিশ্রমের জন্য ইমাম আশ্রাফুজ্জামান খান ও ইমাম বেলালকে আয়োজকরা বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
