প্রতিবাদে ব্রুকলিনে বিক্ষোভ
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:১১ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
- ড. ইউনূস ও মেজর আখতারুজ্জামানকে হেনস্তার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কে হেনস্তা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকায় বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার এবং প্রবাসীদের বিমান বন্দরে হেনস্তার প্রতিবাদে ব্রুকলিনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ সময় প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি করেন উপস্তিত প্রবাসীরা।
গত ১৪ অক্টোবর ব্রুকলিনের কেনসিংটন প্লাজায় প্রবাসী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এস এম রহমতুল্লাহ এবং জেএসএফ সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, মাওলানা জাকির হোসেন, আশরাফুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ কাশেম এবং আব্দুল হুদা প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘিরে ধরে স্লোগান দেওয়া ও মৌখিক হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার যেমন স্বীকৃত, তেমনি কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানি করার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক জনপ্রতিনিধি কিংবা সাধারণ নাগরিক-প্রত্যেকের সমান আইনি অধিকার রয়েছে। কোনো নাগরিকের রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।
সমাবেশে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার, অযৌক্তিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং যাত্রীসেবার অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। অথচ বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সমাবেশে উত্থাপিত প্রধান দাবি ও আলোচ্য বিষয়: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের ঔঋক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে কথিত দুর্ব্যবহার ও তাঁর গ্রেফতারসংক্রান্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করা; বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ নাগরিক, সাবেক জনপ্রতিনিধিসহ সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা; রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা; প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, জনসচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনসম্মত নাগরিক অ্যাডভোকেসি জোরদার করা।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ বলেন, মানবাধিকার ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র-যেখানেই হোক, যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে অপমানজনক আচরণ ও হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত নাগরিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা উচিত।
সমাবেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উভয় ঘটনার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত এবং প্রবাসীদের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
