নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তনে ট্রাম্পের আবারও আহবান
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:০৯ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটি নিউ মেক্সিকো। এই অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ নামকরণে মরিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সোমবার নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যকে তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি তার সর্বশেষ পদক্ষেপ।
হোয়াইট হাউস থেকে কানসাসে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার ঠিক আগে সোমবার ট্রাম্প ‘ট্রুুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “নিউ মেক্সিকোর উচিত অবিলম্বে তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখা। আমরা মেক্সিকো নই, আমরা হলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা)!”
নিউ মেক্সিকো নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন রিপাবলিকানরা নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন। জনমত জরিপে ভোটাররা জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট দেশের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিক্যান পার্টি উভয় চ্যাম্বার সিনেট ও হাউজে পরাজয় বরণ করতে পারে। আর তার প্রধান কারন ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা।
ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে, নাম পরিবর্তনের ফলে “বাড়ির মূল্য ও মানুষের আয় বৃদ্ধি পাবে”। এছাড়া, তিনি নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে যোগ করেন, “হয়তো নিউ মেক্সিকো যে ‘কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনের’ জন্য পরিচিত, তা-ও আবার সৎ ও সুষ্ঠু হয়ে উঠবে!”
ট্রাম্প এর আগেও নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, তবে এবারের মতো এতটা জোরালোভাবে নয়। সেপ্টেম্বরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অঙ্গরাজ্যটির একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে তার নিচে ‘আমেরিকা’ লেখা ছিল। এই ছবিটি হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও পুনরায় শেয়ার করা হয়েছিল।
কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে, আগস্ট মাসে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ‘লেক অন্টারিও’র নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে এসেছিল ঘোর আপত্তি। গত বছর তিনি ‘গালফ অব মেক্সিকো’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার মতো একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এছাড়া, তিনি বেশ কয়েকবার ইরানের ‘স্ট্রেট অব হরমুজ’র নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেট’ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
‘জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম’-এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান বা জলাশয়ের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা ট্রাম্পের রয়েছে। তবে কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম আইনত পরিবর্তন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা তার নেই। অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভেতর থেকেই সম্পন্ন হতে হবে। ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স’ এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার অনেক আগে, ষোড়শ শতাব্দীতেই ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি অস্তিত্ব লাভ করেছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম ট্রাম্পের মন্তব্যকে নাকচ করে দিয়েছেন। এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি আবারও বলছি: যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই নিউ মেক্সিকো ছিল নিউ মেক্সিকো এবং চিরকালই তা নিউ মেক্সিকো হিসেবেই থাকবে।”
নিউ মেক্সিকোর সিনেটর বেন রে লুজান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, অঙ্গরাজ্যটির নামের সাথে জড়িয়ে আছে “বহু প্রজন্মের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য-যা আজও আমাদের পরিচয় গড়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নিউ মেক্সিকোর বাসিন্দা। আমরা আমাদের নাম নিয়ে গর্বিত, আমাদের আবাসস্থল নিয়ে গর্বিত; আর আমরা এই দুটোকেই ধরে রাখব। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার অনেক পরেও, আমরা নিউ মেক্সিকো হিসেবেই টিকে থাকব।”
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ট্রাম্পের দাবির প্রতিবাদ করেছেন। তারা অনেকেই উল্লেখ করেছেন, ‘দ্য ল্যান্ড অফ এনচ্যান্টমেন্ট’ বা ‘মায়াময় ভূমি’ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ।
একজন সমালোচক টুইট করেছেন, “আমাদের দেশে গুরুতর সমস্যা রয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে-আর এই বোকা লোকটা ব্যস্ত একটি অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে? ধুর ছাই, ট্রাম্প! এটা প্রেসিডেন্সি, আপনার কোনো বাজে হোটেল ব্যবসা নয়।”
অন্য একজন লিখেছেন, “তিনি কি আমাদের জীবনযাত্রার উন্নতির দিকে নজর দিতে পারেন না? কিন্তু না... তাঁর কাজ হলো নাম পরিবর্তন করা, তোরণ ও গলফ কোর্স তৈরি করা, আর কমিউনিস্ট স্বৈরশাসকদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা।”
এই প্রথম নয় । রিয়্যালিটি শো থেকে উঠে আসা এই সাবেক তারকা ৪৭তম অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি ‘ট্রুুথ সোশ্যাল’ এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “সম্ভাবনাময় এই চমৎকার অঙ্গরাজ্যের মানুষের জন্য এটি অনেক বেশি সম্মানজনক ও সুন্দর হবে।”
