বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ৬ ১৪৩৩   ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১০:৫৬ এএম, ২১ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে জড়াতে চান না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেই মনোযোগ দিতে চান। খবর আলজাজিরার।

সাংবাদিক মার্ক হালপেরিনকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অবস্থান জানান ভ্যান্স। এর মাত্র এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমি তাকে সমর্থন না দেওয়ার পক্ষেও নই, আবার সমর্থন দেওয়ার পক্ষেও নই। ইসরায়েলের নির্বাচনে আমি জড়াতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের সমর্থন করি। আর আমার মনোযোগ এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনেই।’

গত এপ্রিলে সর্বশেষ কোনো বিদেশি নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ভ্যান্স। সে সময় তিনি হাঙ্গেরির সাবেক ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে পিটার মাগিয়ারের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন অরবান। যদিও ট্রাম্প তার দুই মেয়াদেই নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

ভ্যান্স অবশ্য বলেছেন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকা উচিত। তবে এই জোটের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ইহুদি সদস্যদের কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির একটি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল ইসরায়েল। সে সময় ভ্যান্স ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু মানুষ হত্যা করে যাওয়া যায় না।’

ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট না করার বিষয়েও নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। ভ্যান্স বলেছিলেন, ইসরায়েলের হাতে এখন ট্রাম্পই একমাত্র শক্তিশালী মিত্র।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে পশ্চিম জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন, গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেন এবং ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এ ছাড়া আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একাধিক চুক্তির উদ্যোগ নেন তিনি। এসব উদ্যোগে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পরও ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার মধ্যে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এ সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতেও জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্সকে ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অসন্তোষের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ অসন্তোষ আরও গভীর হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা