শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬   কার্তিক ১ ১৪৩৩   ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ট্রাম্পকে নির্বাচনে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার দিলেন ইলন মাস্ক

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৯ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার


 
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন খ্যাতিমান ব্যবসায়ি ইলন মাস্ক। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি রিপাবলিকান সমর্থক বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নিজের সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিতে (সুপার প্যাক) ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্ক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচিত রাজনৈতিক দাতা।
মাস্কের অনুদানের সবচেয়ে বড় অংশ ১৫৮ মিলিয়ন ডলার সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে দেয়া হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের নির্বাচনে সহায়তা এবং দলটির সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্যে কাজ করে এই সুপার প্যাক। মাস্কের এ অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় একক রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 
নিজের প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা প্যাককে মাস্ক দিয়েছেন ৭৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি। সংগঠনটি রিপাবলিকান ভোটারদের সংগঠিত করা এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনী এলাকা এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৩০টি আসনে তাদের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তাকারী কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডে মাস্ক দিয়েছেন ২০ মিলিয়ন ডলার। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন তিনি।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন মাস্কের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে অর্থ ব্যয় করে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে ফেডারেল পর্যায়ের রাজনৈতিক কমিটিগুলোতে মাস্কের মোট অনুদান প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রে তিনি প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ফলে বর্তমান নির্বাচনী চক্রে তার রাজনৈতিক অনুদান আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তবে প্রকাশ্যে জানা ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারের হিসাবই তার রাজনৈতিক ব্যয়ের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব সংগঠনকে দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হয় না, সেসব মাধ্যমেও মাস্ক সাত অঙ্কের ডলারের অনুদান দিয়েছেন। ফলে তার মোট রাজনৈতিক ব্যয় আরো বেশি হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালের মে মাসে মাস্ক বলেছিলেন, রাজনৈতিক ব্যয় কমানোর সময় এসেছে। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য তার বিপুল অর্থায়ন সেই অবস্থান থেকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের তুলনায় এবার তিনি প্রকাশ্য প্রচার-সমাবেশে তুলনামূলক কম সক্রিয় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আইন ও নীতি বাস্তবায়নের পথ সহজ হতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয়কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে।
মাস্কের বিপুল অনুদান রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। তবে এই অর্থ ভোটারদের সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাবিত করবে, তা নির্ভর করবে প্রার্থীদের অবস্থান, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনমত এবং ভোটদানের হারের ওপর।