কুনু-ফিরোজ প্যানেলের ইশতেহার প্রকাশ
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:০৮ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠাসহ সাত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কুনু-ফিরোজ প্যানেল। প্যানেলের নির্বাচনী ইশতেহারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরা হয়। গত বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর জ্যাকসন হাইটসে প্যানেলের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যানেলের প্রধান দুই মুখ সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম এ আজিজ, প্যানেলের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বেলাল মাহমুদ, এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, প্রধান সমন্বয়কারি বাবুল চৌধুরী, মিডিয়া কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান মঈনুল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ। এরপর বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু।
লিখিত বক্তব্যে ফিরোজ আহমেদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুনু-ফিরোজ পরিষদের একমাত্র চাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যান। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরছি।
প্যানেলের প্রথম প্রতিশ্রুতি হচ্ছে বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে একটি আধুনিক ও স্থায়ী বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব তহবিল, সাধারণ সদস্যদের সহযোগিতা এবং প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দাতাদের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ফিউনারেল হোম সেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংকটের সময় যেন কোনো পরিবার অসহায় বোধ না করে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সেবার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নিউইয়র্ক থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, আলোচনা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যা ও জটিলতা নিরসনে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি সহায়তা হেল্পলাইন চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কমিউনিটির সকলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রত্যেক ব্যরোতে কনস্যুলেট সেবার ব্যবস্থা করা হবে। জব সেমিনারের মাধ্যমে যোগ্য বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণ-তরুণী ও পেশাজীবীদের জন্য নিউইয়র্ক সিটি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হবে। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় স্বল্প খরচে আইটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ প্রজন্মকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্দ্যোগে প্রতিবছর 'ইয়ুথ কনভেনশন' আয়োজন করবে। একই সঙ্গে সকল জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা আরো সুদৃঢ় করা হবে। মূলধারার রাজনীতিতে যারা অংশগ্রহন করবে বাংলাদেশ সোসাইটি তাদেরকে সমর্থন জানাবে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিশেষ শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমেরিকার স্বনামধন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এবং অনুদানের মাধ্যমে উন্নতমানের কোচিং, শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকর নেতৃত্ব এবং সকল সদস্যের সমান মর্যাদা। আমাদের অঙ্গীকার শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা চাই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে।
এ সময় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আজমল হোসেন কুনু অভিযোগ করে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মাদার সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটিতে পরিবর্তন চায়। কারণ বর্তমান কমিটি তাদের কোন প্রতিশ্রুতিই পূরণ করতে পারেনি। ভবন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করতে পারেনি। বরং গত দুই বছরে বিভিন্ন খাতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে। যা সদস্যদের জন্য কল্যানকর নয়। এ পরিষদ নির্বাচিত হলে সব ধরনের কর্মকান্ড বা লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ সোসাইটির বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করনে।
