সিনেটের যে ৮টি আসনে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প
মনোয়ারুল ইসলাম
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৪৭ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেটে রিপাবলিক্যান পার্টির আসন ৫৩। ২ জন স্বতন্ত্র সিনেটরের সর্মথন সহ ডেমোক্র্যাটদের আসন ৪৭ টি। রিপাবলিকানরা সিনেটে এই ৫৩-৪৭ ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অবতীর্ণ হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য ডেমোক্র্যাাটদের নিজেদের সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কমপক্ষে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে হবে। যা একটি কঠিন কাজ। যদিও সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বাইরের দল ভালো ফলাফল করে থাকে। এবারে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের এই সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা। এই অজনপ্রিয়তার প্রধান কারন ইরান যুদ্ধ ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি।
অধিকাংশ জনমত জরিপে রিপাবল্যিানদের ৮টি সিনেট সিট ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সাথে দৌড়ে তাদের প্রার্থী পিছিয়ে অথবা সমানে সমান। এরমধ্যে কয়েকটি আসন রয়েছে গত ২০ বছর ধরে রিপাবলিক্যানরা জিতে আসছে। তাদের জন্য ঝুকিঁপূর্ন আসনগুলো হচ্ছে টেক্সাস, আইওয়া, অহিও, আলাস্কা, ক্যানসাস, নেব্রাস্কা, মেইন ও নর্থ ক্যারোলিনা। রিপাবলিক্যানদের দখলে থাকা এই ৮টি আসনের মধ্যে ৪টি আসন ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তাদের সিনেটে আসন হবে ৫১টি। ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানের আসনে এবার দলের হয়ে লড়ছেন মুসলিম আব্দুল আল-সায়েদ। তার বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজারস। রিপাবলিক্যানদের চোখ এই আসনের উপর। তবে অধিকাংশ জরিপে আল-সায়েদকেই এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ৯ অক্টোবর ওয়েজউড এর জরিপে দেখা গেছে সায়েদের সর্মথন ৫৩% ও রজার্সের ৪৭%। এই স্টেটে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প শতকরা ১ ভাগ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন।
টেক্সাস
টেক্সাস রেড স্টেট হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের এই আসনটি রিপাবলিক্যানরা ধরে রেখেছে। গত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প টেক্সাসে শতকরা ১৪ ভাগ বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। অথচ এবার রিপাবলিক্যানদের এই সিনেট আসনে জরিপে শতকরা ৪ থেকে ৬ ভাগ ভোটে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। ট্রাম্প এই আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া। গত ২ মাসে তিনি ৩ বার নির্বাচনী প্রচারনায় গিয়েছেন। সর্বশেষ নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে ছিল ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোর সর্মথন ৫১%। আর রিপাবলিক্যান প্রার্থী ক্যান প্যাক্সটনের সর্মথন ৪৫%।
আইওয়া
আইওয়াতে রিপাবলিক্যান সিনেটর জনি আর্নস্ট নির্বাচন করছেন না। তার শূন্য আসনে রিপাবলিক্যান প্রার্থী আশলি হিনসন । এখানে তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরিখ সমানতালে লড়ছেন। জরিপে সম্ভাবনা উভয়েরই শতকরা ৪৫ ভাগ। সর্বশেষ ইমারসন কলেজ পোলে দেখা গেছে, রিপাবলিক্যান প্রার্থী আশলি ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী টুরিখের চেয়ে। এই আসনটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি।
অহিও
অহিও’তে রিপাবলিক্যান সিনেট পদপ্রার্থী জন হাস্টেডে হারতে বসেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা’র সর্বশেষ জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট ও সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন ৪৯% বনাম ৪৬% ব্যবধানে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের চেয়ে এগিয়ে আছেন। অথচ ট্রাম্প ২০২৪ সালে শতকরা ১১ ভাগ ভোট বেশি পেয়ে কমলা হারিসকে পরাজিত করেছিলেন সেখানে।
আলাস্কা
আলাস্কাতে ম্যারি পেলটোলা ডেমোক্র্যাট হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ৪৩ শতাংশের বিপরীতে তিনি ৫০ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন। আলাস্কা সার্ভে রিসার্সের জরিপেও পেলটোলা ৫১ ভাগ ও সুলিভানের সর্মথন ৪৯ ভাগ সেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প পেয়েছিলেন শতকরা ৫৪ ভাগ ভোট। ডেমোক্র্যাট নমিনি কমলা হারিস পেয়েছিলেন ৪১% ভোট।
ক্যানসাস
সিনেটের এই আসনটিতে জিততে পারে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিক্যান সিনেটর রজার মার্শাল দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ভোট চাইছেন। ইউগভ জরিপে শতকরা ৩ ভাগ ভোটে পিছিয়ে আছেন। ডেমোক্র্যাট এডাম হ্যামিল্টন জরিপে ৪৮% সর্মথন পেয়ে এগিয়ে আছেন। রজার মার্শালের সর্মথন ৪৫%। অবশ্য নিউইয়র্ক টাইমস জরিপ বলছে উভয়েই সমানে সমান। উভয়েরই সর্মথন ৪৫%। রিপাবলিক্যান স্টেট হিসেবে খ্যাত সিনেটে এই আসনটি হাত ছাড়া হওয়া মানেই ক্ষমতাসীনদের দরজায় বড় আঘাত। সেখানে ২০২৪ সালে ৫৭% ও কমলা হারিস ৪১% ভোট পেয়েছিলেন।
নেব্রাস্কা
এই আসনে পুর্নবার নির্বাচন করছে রিপাবলিক্যান সিনেটর পিটি রিকেটস। জরিপে তিনি পাচ্ছেন ৪৭% সর্মথন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান ওসবর্ন জরিপে ৪৮ ভাগ সর্মথন পেয়ে এগিয়ে। তার সর্মথনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আসন হারানোর ভয়ে প্রেসিডেন্ট সেখানে জনসভা করেছেন পিটির পক্ষে। সেখানে ট্রাম্প জিতেছিলেন ৫৯% ভোট পেয়ে। কমলার ছিল ৪১%।
মেইন
ওয়াশিংটন পোস্ট/জর্জ ম্যাসন ইফনিভারসিটির জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৫৪% সর্মথনে এগিয়ে আছেন। সেখানে রিপাবলিক্যান ইনকামব্যান্ট এমএস কলিন্সের সর্মথন ৪৬%। ধরে নেয়া হচ্ছে সেখানে ডেমোক্র্যাটরা জিতবেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫২% ভোট পেয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হারিস। আর ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৪২%।
নর্থ ক্যারোলিনা
ইস্ট ক্যারোলিনা ইফনিভারসিটির পোল অনুসারে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী রয় কুপারের জয়ের সম্ভাবনা ৫০ ভাগ। আর রিপাবলিক্যান মাইকেল হোয়াটলির সর্মথন শতকরা ৪৩ ভাগ। রিপাবলিক্যান সিনেটর থম টিলিসের ছেড়ে দেয়া আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এই স্টেটে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ৫১% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকা প্রায় ৫টি সিনেট আসনে নিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থীদের। মাত্র ৪ টি আসনে জিতলেই ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করবে। সর্বশেষ প্রকাশিত জরিপগুলো রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই বছর আগে ট্রাম্প যেসব রাজ্যে সহজেই জয়ী হয়েছিলেন, সেখানে এখন ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছেন অথবা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। এর পাশাপাশি এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে যে, ল্যাটিনো ভোটাররা-যারা তাকে হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।তারা এখন দলটির দিক থেকে সরে যাচ্ছেন। (সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, সিয়েনা ও ইউগভ সহ বিভিন্ন জরিপের উপর ভিত্তি করে রিপোর্টটি তৈরি।)
