বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২৮ ১৪৩৩   ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

তেলের দাম বাড়াতে হুতিরা হামলা চালাচ্ছে: ট্রাম্প

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৯:৫৬ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়িয়ে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক চাপে ফেলতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন শেষে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক হামলা আরও তীব্র করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। তার এই বক্তব্যে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতির যোগসূত্র নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হুতিরা আবারও সক্রিয় হয়েছে। ইরানের নির্দেশে তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

পোস্টে ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে দেশটির নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও অর্থনীতি নিয়ে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০১ শতাংশ বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণের উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।

হুতিদের কর্মকাণ্ডকে ‘খুব খারাপ আচরণ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই কর্মকাণ্ড ‘মোটেও ভালো নয়’।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগও বেড়েছে। জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক চাপ এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, যুদ্ধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশা করছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইনগত ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

মঙ্গলবারের পোস্টে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিষয়টি ‘কখনো ভুলবেন না’। নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী নন উল্লেখ করে বলেন, তিনি ইতোমধ্যে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তবে নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হলেও তিনি ক্ষমতায় থাকবেন এবং হুতিদের কর্মকাণ্ড ভুলে যাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান জোরদারের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও পোস্টে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা পরিকল্পনা জানাননি তিনি।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নভেম্বরের ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, এই তিনটি বিষয়ই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা