মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২৮ ১৪৩৩   ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নিউইয়র্কে হেনস্তার শিকার ড. ইউনূস

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:২২ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় তাকে ঘিরে আক্রমণাত্মক স্লোগান ও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজনাও দেখা যায়।

স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণের কথা থাকলেও ৩৫ মিনিট দেরিতে, অর্থাৎ ৩টা ২৫ মিনিটে অবতরণ করে। পরে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮-এ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে চিৎকার করছেন। এ সময় তাকে ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ (আপনি একজন সন্ত্রাসী) এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ (আপনি এখানে কেন এসেছেন) বলতে শোনা যায়।

জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার জাগো নিউজকে জানান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল ও যুবলীগ নেতা সাগরসহ অন্যরা।

তানভীর কায়সার বলেন, ড. ইউনূসের নিউইয়র্কে আসার খবর আগে থেকেই আমাদের জানা ছিল। তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করতে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই আমরা বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভ সমাবেশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে কোনো জনসভার আয়োজন করিনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। সেখানে সভা করতে হলে লিখিত অনুমতি লাগে। কর্মসূচিটি হঠাৎ হওয়ায় আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ইউনূসকে প্রতিবাদের মুখোমুখি করতে চেয়েছি।’

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগও তোলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তার দাবি, ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। দেশের নাগরিক হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই তারা এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তানভীর কায়সার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অধিকার রয়েছে, সেই অধিকার থেকেই তারা ড. ইউনূসকে প্রশ্ন করেছেন।

বিক্ষোভের সময় ড. ইউনূস কোনো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদও কোনো কথা বলেননি। তাদের কাছে কোনো জবাব নেই। জবাব থাকলে অবশ্যই দিতেন।’

এ সময় ড. ইউনূসের অসুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, অসুস্থতার কারণে জার্মানি সফরে যেতে না পারার কথা বলা হলেও ড. ইউনূস বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তবে তার এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ড. ইউনূসকে ঘিরে আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তানভীর কায়সার বলেন, ‘ইউনূস যেখানেই উপস্থিত থাকবেন, আমরা সেখানেই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করব। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী আমাদের যে অধিকার রয়েছে, তার মধ্যেই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ড. ইউনূস কিংবা তার প্রতিনিধিদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।