শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২৪ ১৪৩৩   ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

বাগ’র টাউন হল সভায় নির্বাচনী আলোচনা

আজকাল রিােপর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:১১ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

 


আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক ও নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্কের উডসাইডে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাগ লিডারশিপ টাউন হল : নির্বাচন ২০২৬’ আলোচনা সভা।। নিউইয়র্কের উডসাইডে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (বাগ)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৪ অক্টোবর রোববার দুপুরে। টাউন হলে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সংগঠক, অ্যাডভোকেট ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। টাউন হলের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল- বাংলাদেশি আমেরিকানদের ভোটার হিসেবে আরও সচেতন ও সক্রিয় করে তোলা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানো, কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশি আমেরিকানদের কণ্ঠ ও প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করা। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি কমিউনিটির জনসংখ্যা বা অর্থনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তার কার্যকর উপস্থিতি নির্ভর করে সংগঠিত নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর। ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কমিউনিটির দাবি ও প্রত্যাশা সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরার বিষয় হলো তাই বিশেষ গুরুত্ব পায় আলোচনায়।
বাগ-এর সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির আরও সক্রিয় ও সমন্বিত অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা, নিয়মিত ভোট দেওয়া এবং কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নীতিনির্ধারকদের সামনে কার্যকরভাবে তুলে ধরাও জরুরি। তিনি কমিউনিটির রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও সুসংগঠিত করার ওপরও  গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে। ব্যক্তি বা সংগঠন কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি একটি অভিন্ন কমিউনিটি এজেন্ডা তৈরি করা গেলে বাংলাদেশি আমেরিকানদের দাবি ও প্রত্যাশা আরও কার্যকরভাবে সামনে আনা সম্ভব হবে। বাগ-এর সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম ভোটার শিক্ষা ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বাড়ানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা, নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। আলোচনায় আরো অংশ নেন- অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, নিউইয়র্ক পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ও মূলধারার রাজনীতিক শামসুল হক, মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ সাবুল উদ্দিন, টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাব্বী সৈয়দ, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জে মোল্লা সানী, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সেক্রেটারি আমেনি মেহেদী বাবু, সিপিএ জাকির চৌধুরী, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ। 
আলোচনায় উঠে আসে, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি, জনপ্রশাসন, অ্যাডভোকেসি ও জনসেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজন্ম ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
টাউন হলে বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা হয়। কোন উদ্যোগগুলো কার্যকর হয়েছে, কোথায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পাওে এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া কমিউনিটির শক্তি ও সীমাবদ্ধতা, ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম, তরুণদের সম্পৃক্ততা, নেতৃত্ব বিকাশ, বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা এবং নির্বাচনের আগে ও পরে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
আয়োজকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে শুধু একটি নির্বাচনী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নাগরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
টাউন হল থেকে উঠে আসা মূল বার্তাও ছিল স্পষ্ট- সংখ্যায় বড় হওয়ার পাশাপাশি সংগঠিত ও সক্রিয় হওয়া জরুরি। শক্তিশালী অংশগ্রহণ থেকেই তৈরি হবে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব, আর শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বই গড়ে তুলবে আরও প্রভাবশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি।