শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ১৭ ১৪৩৩   ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিদেশি কর্মিদের লাখ ডলারের ভিসা ফি স্থগিত

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৫০ এএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার


 
বিদেশি কর্মিদের জন্য ১ লাখ ডলারের ভিসা ফি’র ট্রাম্পের আদেশ আটকে দিয়েছে মার্কিন আদালত। স্থানীয় সময় বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর একজন দ্বিতীয় ফেডারেল বিচারক সেই অভূতপূর্ব ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন। যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে আরোপ করেছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ হেউড গিলিয়াম রায় এই রায় দেন। ট্রাম্পের এই ফি কার্যকর করার আগে 'ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' (ইউএসসিআইএস)) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম-প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক গিলিয়াম ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা এবং অলাভজনক সংস্থাগুলোর একটি জোটের অনুরোধ মঞ্জুর করেছেন। এই জোটটি অক্টোবরে একটি মামলা দায়ের করেছিল এবং মামলার ফলাফল না আসা পর্যন্ত ট্রাম্পের ফি কার্যকর করা থেকে সংস্থাগুলোকে বিরত রাখার আবেদন জানিয়েছিল।
২০টি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা একটি পৃথক মামলার রায়ে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক জুন মাসে সাময়িকভাবে এই ফি আটকে দিয়েছিলেন। জুলাই মাসে বোস্টন-ভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানায়।
আগস্ট মাসে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। তা আটকে দিল মাননীয় আদালত। এই মামলাগুলোতে মূলত প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে এমন ফি নির্ধারণের ক্ষমতার বিষয়টিকেই কেন্দ্র করা হয়েছে।
মামলার রায়ের এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী বামপন্থী আইনি সংগঠন 'ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড' এক বিবৃতিতে এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেন, "আজকের এই সিদ্ধান্ত... এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা রাতারাতি বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছিল।"
দেশের বৃহত্তম ব্যবসায়িক লবিং গ্রুপ 'ইউএস চেম্বার অফ কমার্স' এই ফি-র বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলাটি দায়ের করেছে। ট্রাম্পের এই ফি নির্ধারণের কোনো এখতিয়ার ছিল না-এমন দাবি খারিজ করে দেওয়া বিচারকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চেম্বারটি আপিল করছে।
এইচ-১বি  কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া উচ্চতর ডিগ্রিধারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। যার মেয়াদ তিন থেকে ছয় বছর পর্যন্ত হতে পারে।
ট্রাম্পের আদেশের ফলে এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আগে এর জন্য সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মতো ফি লাগত।
এই ফি আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ফেডারেল অভিবাসন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের সেই বিশেষ ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ সীমিত করার সুযোগ দেয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান কর্মীদের বদলে কম খরচের বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভিসার জন্য এমন একটি নতুন বাছাই প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছে যা অধিক দক্ষ ও বেশি বেতনভুক্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেবে। (তথ্যসূত্র-রয়টার্স)

‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্ক উডসাইডের ৫৮ মেনর পার্টি হলে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।