শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ১৭ ১৪৩৩   ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদের ইমামকে বহিস্কারের রায়

আজকাল রিােপর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৩৭ এএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার


 
যুক্তরাষ্ট্রের একটি মসজিদের ইমামকে বহিস্কারের পক্ষে আদেশ দিল আদালত। প্যালেস্টাইনে জন্ম নেয়া ফলিস্তিনি-আমেরিকান সালাহ সারসুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার করতে পারবে। সারসুর উইসকনসিনের বৃহত্তম মসজিদের সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। তাকে 'স্নায়ুযুদ্ধ-যুগের' একটি আইনের আওতায় বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সমপ্্রদায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। সারসুর এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন,  তার আইনি দল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।  তিনি রায়টিকে "অত্যন্ত হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "ফিলিস্তিনে ন্যায়বিচার ও সঠিক কাজের পক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে আমি বিরত থাকব না।" আইনি লড়াইয়ের সমস্ত সুযোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারসুরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না। তিনি দাবি করেন, তাকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উইসকনসিনের বৃহত্তম মসজিদ 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি' জানিয়েছে , সারসুর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তারা বলেন, "ফিলিস্তিনি ও মুসলিম পটভূমি এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার কারণেই সারসুরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।"

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেড়ে ওঠা সারসুরকে মার্চ মাসের শেষের দিকে 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট' (আইস পুলিশ) সংস্থা আটক করেছিল। তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, কারণ একজন ফেডারেল বিচারক মত দিয়েছিলেন যে, সারসুর বাক-স্বাধীনতার চর্চার জেরে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার হওয়ার যে দাবি তুলেছেন, তা যথেষ্ট জোরালো এবং এর ফলে তার আটকাদেশ বেআইনি বলে গণ্য হতে পারে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে শিকাগো অভিবাসন আদালতের বিচারক জেমি সালিনার্দি সরকারের পক্ষের যুক্তিকে সমর্থন করেন। সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে, স্নায়ুযুদ্ধ-যুগের 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট'-এর আওতায় সারসুর জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তবে বিচারক সারসুর বিরুদ্ধে  গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে, বিচারক এই মামলায় তাকে বহিষ্কারযোগ্য সাব্যস্ত করার একাধিক কারণ বা ভিত্তি বহাল রেখেছেন। 
ট্রাম্প ফিলিস্তিন-পন্থী বিদেশি বিক্ষোভকারীদের বহিষ্কারের চেষ্টা করেছেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন, অভিবাসীদের সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম চালু করেছেন এবং ইসরায়েলের সমালোচকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ফিলিস্তিন-পন্থীরা ইহুদি-বিদ্বেষী (অ্যান্টি-সেমিটিক) এবং তারা চরমপন্থীদের সমর্থন করে। তবে অধিকারকর্মীরা-যার মধ্যে কিছু ইহুদি গোষ্ঠীও রয়েছে-বলেন যে গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের সমালোচনা করাকে ইহুদি-বিদ্বেষ বলা যায় না। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে চরমপন্থাকে সমর্থনের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। (তথ্যসূত্র-রয়টার্স)