রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬   আশ্বিন ১১ ১৪৩৩   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

তারেক রহমানের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৫৯ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোববার

একদিকে কমিটি নেই ১৮ বছর। আবার নেই কোনো মূল্যায়ন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে তৈরি হয়েছিল বিপুল উদ্দীপনা। সেজন্য দলীয় প্রধানকে একনজর দেখা করার আকুলতা আর শুভেচ্ছা জানাতে অনেকেই ছুটে এসেছিলেন নিউইয়র্কে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর চোখ ছিল হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের লবিতে। তবে আকুলতা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা—সবই রূপ নিলো চরম ক্ষোভ আর হতাশায়। প্রবাসজীবনে শত ব্যস্ততার ফাঁকে প্রচুর টাকা খরচ করে বিভিন্ন স্টেট থেকে নিউইয়র্কে এসেছিলেন তারেক রহমানকে দেখা করে একটি ছবি তোলার জন্য। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চরম বিশৃঙ্খলা ও আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণে মাত্র হাতেগোনা ও শীর্ষ কয়েকজন সাক্ষাৎ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পাননি।

ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নেতাকর্মী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বহু প্রতীক্ষিত এই সাক্ষাতের অন্তিমে বিমর্ষতা আর ক্ষোভের ছায়াই ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তৃণমূলের চোখে-মুখে। দীর্ঘ বিশ বছর পর নিউইয়র্কে এসেও দলীয় প্রধানকে না দেখার আক্ষেপ নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে নেতাকর্মীদের।

এদিকে নেতাকর্মীদের স্লোগান এবং হইচই শুনে হোটেলের চারপাশে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ও সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার জন্য একজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সহসম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়ী করেন বিভিন্ন স্টেট বিএনপির নেতারা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সফরের সময় আয়োজক কমিটির আরও সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। প্রিয় নেতার সাক্ষাৎ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিষণ্ণ মনেই হোটেল ত্যাগ করতে হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ নেতাকর্মীদের।

উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে দীর্ঘ বিশ বছর পর নিউইয়র্ক আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সফরসঙ্গী ছিলেন। সবমিলিয়ে ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে স্থানীয় প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে নিজেদের না বলা কথাগুলো অনেকেই বলতে চেয়েছিলেন। সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। অথচ এই অনুষ্ঠানের জন্য তৃণমূল তথা বিভিন্ন স্টেট কমিটির নেতারা মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনও করেছেন। কিন্তু শেষ অবধি ওই সংবর্ধনা বাতিল হয়েছে।

নানা নাটকীয়তার পর শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে নেতাকর্মীদেরকে সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং সাক্ষাতপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে অনুষ্ঠানটি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অথচ নিউইয়র্কের বাইরে অনেক দূর থেকে আসা নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে কোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আয়োজক সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পাওয়ার খবরে সকাল থেকেই হোটেল প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন মিশিগান, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, বোস্টন, ফ্লোরিডা, পেনসিলভেনিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা হাজারো নেতাকর্মী। প্রিয় নেতাকে একনজরে দেখা ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলের লবিতে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান শুরু হলেও বাধে চরম বিপত্তি।

বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে মাত্র হাতেগোনা কিছু নেতাকে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই লবিতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাক্ষাৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন। আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই তারেক রহমানকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসেও প্রিয় নেতার সাক্ষাৎ না পাওয়ায় অনেক নেতাকর্মীকে বিমর্ষ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট ফুটে ওঠে হতাশা আর ক্ষোভের ছাপ।

তারেক রহমানকে দেখার জন্য ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার তার কমিটির ১৫ জনসহ নিউইয়র্কে এসেছিলেন। অন্যরা হলেন- মোহাম্মদ মহসীন, মোহাম্মদ করিম ইকবাল, মো. মাসুদ, মোহাম্মদ এম হোসেন, কামরুল হোসেন, আলী হোসেন, মোহাম্মদ বাবর, মোহাম্মদ আলমগীর, মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান খান, ফখরুল ইসলাম, মোহাম্মদ দিনাজ খান, আরিফ আহমেদ, আব্দুর রশিদ খান, শাহ ফিরোজ ও মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। কিন্তু কেউই তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পাননি।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বড় প্রত্যাশা নিয়ে আমার নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য করতে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে এসেছিলাম। কেউ কেউ তিন থেকে চারদিন ধরে একই হোটেলে অবস্থান করছিলেন; যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু কর্মীরা তো দূরে থাক, স্টেট বিএনপির সভাপতি হয়েও প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার সৌভাগ্য হলো না। এমন অব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ করে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং আব্দুল লতিফ সম্রাট ও নাহিদুল ইসলাম দায়ী। আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ফ্লোরিডা চলে গেলাম।

নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি যুক্তরাষ্ট্রে। হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে আমাদের যে অবদান সেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবগত আছেন। তার যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমাদের মাঝে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছি। সবাই প্রতিদিন হোটেলের সামনে আসছি এক নজর তাকে দেখার জন্য। সম্বর্ধনা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের মাঝে এসেও আমরা কেউ দেখা করতে পারিনি। এই অব্যবস্থাপনার কারা দায়ী? অথচ কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীলরা বিশেষ করে ইউএনএ এবং কনস্যুলেট অফিসে যারা আছে তারা সমন্বয় করে সুন্দর আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু মাত্র ৫০ জনের মতো মানুষ দেখা করলেন এবং শতশত লোক বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত স্টেটের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারিসহ সুপার ফাইভের নেতারা বাইরে ছিলেন। তারা কেউই হোটেলের ভেতর ঢুকতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির চারজন মেম্বার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাহিদ খান দাঁড়ানো ছিলেন। অথচ নিউইয়র্কে তিনটি কমিটির সভাপতি সেক্রেটারি এতদিন পর্যন্ত আমরা এত কষ্ট করতেছি একটা সপ্তাহ পর্যন্ত রাত নাই দিন নাই আমরা সেই মিছিল মিটিং করতেছি এই আওয়ামী লীগ যে হুংকার দিয়েছিল তাদের প্রতিহত করার জন্য আমরা বলেছি যে তোমরা রাস্তায় দাঁড়াতে পারবে না এবং তারা দাঁড়াতেও পারে নাই। আজকে আমাদেরও ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। আমরা নেতাকর্মীদের কাছে অসহায়ত্ব ফিল করছি। আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী এসবের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করবেন।

বোস্টন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম সাইফুল বলেন, আমরা প্রবাসে গত ১৭ বছর ধরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে। সেখানে আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবো এবং তাকে আমরা সংবর্ধনা দেব। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের নেতৃত্বের অযোগ্যতা এবং কারণে আমরা সেই কাঙ্খিত অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের দাবি হচ্ছে- এ ধরনের চক্রান্তে জড়িত ও গণসংবর্ধনা বাতিলের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। কিন্তু আমার কর্মীরা আজকে হতাশ নিরাশ হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ফিরে গেছে। তারা সাক্ষাৎ করতে পারেনি। আমি অত্যন্ত মর্মাহত আজকে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া ঘুরাঘুরি করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতো হাইসিকিউরড দেশে এসএসএফ এর বেস্টনি নিয়ে চলতে হচ্ছে কেন? অনেকের মনে হয়, উনি মিসগাইডেড হয়েছেন। কেউ তাকে মিডগাইড করে কর্মীদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। যার জন্য কর্মীরা আজকে বড় হতাশ। আমরা কি দিয়ে কর্মীদেরকে সান্ত্বনা দিব, এই সান্ত্বনার ভাষা জানা নেই।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিএনপির সেক্রেটারি এম ওয়াহিদ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা পরিচয় পর্ব ও একটা ফটোসেশনের ব্যাপার ছিল। কেননা, বহু বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও ধন্য হয়েছি। যেহেতু আমাদের ১৭ বছর আন্দোলনের পর তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আজকে দেখলাম যে, উনার সঙ্গে যেসব কর্মকর্তারা এসেছেন বিশেষ করে সিকিউরিটির যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা সঠিকভাবে সমন্বয় করতে পারেননি। ক্যালিফোর্নিয়াসহ অন্যান্য স্টেট বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিমত যারা অনুষ্ঠান পণ্ড করার পেছনে দায়ী তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আগামী দিনে যাতে এমন অব্যবস্থাপনা না ঘটে।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ অলিউল্লা আতিকুর রহমান বলেন, আমরা অবশ্যই হতাশ। কারণ দুইজন সিনিয়র লিডার একজন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা ও উত্তরের আহবাব চৌধুরীসহ আমাদের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী বিগত দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আমরা একবার হোটেল, একবার এয়ারপোর্ট, একবার জ্যাকসন হাইটস এত কষ্ট আমার সহযোদ্ধাদেরকে দিয়েছি। এখন আমরা ব্যথিত। কেন এই কাজটা হলো? আমরা হোটেল বের হতে পারছি না। নেতাকর্মীদের কাছে কোনো জবাব দিতে পারছি না। এই কাজগুলো যারা করেছেন আমরা তাদেরকে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করার আহ্বান করছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রী সেটি করবেন। কারণ এভাবে দল চলতে পারে না।

নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী বলেন, আমার কমিটির শত শত নেতাকর্মী আসছিল। কিন্তু ওরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। এজন্য আমি এবং আমার সভাপতিও দেখা করিনি। কিন্তু দেখা গেছে বিগত ১৭ বছর অনেককে কোনো অনুষ্ঠানে বা প্রোগ্রামে দেখি নাই। অথচ তারাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছে। এইজন্য যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় চার নেতা এবং আরেকজন নতুন সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদককে দায়ী করবো।

ফ্লোরিডা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যখন বিএনপির খুব করুণ অবস্থা তখন থেকে আমরা ফ্লোরিডা থেকে এইভাবে ২০-২৫ জন লোক নিয়ে নিউইয়র্কে আসি। আমাদের একেকজনের খরচ অলমোস্ট ৩ হাজার ডলার। সুতরাং, সবাই মিলে গত ৫ দিনে আমাদের প্রায় ৫০ হাজার ডলার আমরা ইনভেস্ট করছি খালি আমার নেতার খুশির জন্য। অথচ দেখা করতে পারলাম না। তাহলে এই দল করে লাভ কী?

ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দ নিয়ে ফ্লোরিডা থেকে দলবল নিয়ে এসেছি, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে একটা সাক্ষাতের আশায়। তাকে একনজর দেখার প্রত্যাশায়। যার জন্য দীর্ঘ ১৮ বছর আমরা ওয়াশিংটনে নিউইয়র্কে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় নেতার সাক্ষাৎ আমরা পাইনি। এখানে তাদের দায়িত্ব ছিল তাদের অবহেলার কারণে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারি নাই। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং দুঃখিত।

টেক্সাস থেকে আসা এক বিএনপি কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, নেতাকে একনজর দেখার জন্য শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে এসেছিলাম। কিন্তু আয়োজকদের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের ভেতরেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।