শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   আশ্বিন ১০ ১৪৩৩   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

বোয়িংতো কিনলামঃ বিমান কি আসবে!

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৪২ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার

মন্তব্য প্রতিবেদন

 

 



‘তা বলে কি প্রেম দেবে না/ যদি মারি কলসির কানা...’ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা বিখ্যাত একটি গানের কলি এটি। ঘটনাক্রমে এমন অনেক কিছুই ঘটে। আবার না চাইলেও কিছু ঘটনা ঘটে যায়। একতরফা প্রেম তো আগের যুগেও ছিল না। এই যুগেও নেই। তা হলে বোয়িং কেনার ক্ষেত্রেই বা একতরফা এতো প্রেম কিভাবে হয়ে যায়! কি জানি বাপু উপরের স্তরে কোথায় কি হয়। প্রথমে ১৪টা বোয়িং কেনার আশ্বাসের পর আবার  নতুন করে ১১টা বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ! প্রেম যেন উথলে উঠছে। এই বিপুল মোটা দাগের টাকা দেবে কোন গৌরিসেন? বিলিয়ন ডলারের কারবার। অথচ নিউইয়র্কের বিখ্যাত জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কোন ‘ল্যান্ডিং স্লট’ অনুমতি নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের জন্য কোন ল্যান্ডিং স্লট না থাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা কোন বিমান জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তা বন্ধ করে রেখেছে নিরাপত্তার কথা বলে। তারা অনেক দিন থেকে তা তদন্তও করছে এবং ফলাফল হচ্ছে ‘প্যান্ডিং’। 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাবার কথা। এখন বোয়িং কোম্পানির কাছে মোটা দাগের একজন ক্রেতা বাংলাদেশ। চারদিকে গুঞ্জন ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও একটি বৈঠক অথবা সৌজন্য সাক্ষাৎ হবার কথা। কিন্তু বাস্তবে তার কিছ্ ুঘটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু অভিনন্দন জানিয়েছেন বোয়িং কোম্পানির কর্মকর্তাদের তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায়। গত এপ্রিল মাসে ১৪টি এয়ারক্রাফট যার আটটি হচ্ছে ৭৮৭-১০ ড্্িরমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং বাকী চারটি হচ্ছে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। ওই সব বিমান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ। তারপর জাতিসংঘ অধিবেশন চলার সময় আরেক দফা এই সেপ্টেম্বর মাসে আরও ১১টি বোয়িং কেনার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকার। যার মধ্যে পাঁচটি হচ্ছে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি হচ্ছে ৭৩৭-৮ জেট। অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনুমান করলে বিশাল ঘটনা বাংলাদেশের জন্য। মোট ২৫টি নতুন বোয়িং বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশে যাবে তার রুট ঠিক করা হয়নি। বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোতে যাত্রী পরিবহন করার মত ক্ষেত্র তৈরি করতে না পারলে গলার কাটা হয়ে দাঁড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এসব ফ্লাইট হাতে আসার আগেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি দানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা জরুরী ছিল। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে থাকা অবস্থায় এক বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয় মানে নিজেদের মুখ রক্ষা হয় এমন কিছু করা জরুরী ছিল। অন্যদিকে বিমানের লাভ যে পিঁপড়ারা বসে বসে খায় আর মোটাতাজা হয় তাদেরকে সরকার একহাত না নিলে এতোগুলো বোয়িং কেনার কোন মানেই হয় না।
বাংলাদেশ সরকারের এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে গিভ এন্ড টেক একটি বিষয় অবশ্যই বিদ্যমান থাকে। এখানে একতরফা সব ঘটার কারণে কোটি কোটি প্রবাসী প্রশ্ন রাখছেন বাংলাদেশ বিমান যুক্তরাষ্ট্রে আগামী দিনে আসতে পারবে তো! তা না হলে কেবলই মরিচিকা হয়ে থাকবে। হাজার হাজার মানুষের স্বপ্নও অপূর্ণ হয়ে থাকবে। বিমানের জন্য কবে নিরাপত্তা ইস্যুটি প্রত্যাহার করা হবে তা বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লক্ষাধিক প্রবাসীর প্রাণের দাবী নিউইয়র্কে বিমান চালু হোক। নিশ্চয়ই তারেক রহমান এই বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে নিগোসিয়েট করবেন।