মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প থেকে দূরে থাকছেন প্রার্থীরা
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:২১ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রায় ২ মাস বাকি। কংগ্রেসের রশি কাদের হাতে থাকবে? ডেমোক্র্যাটরা কি তা রিপাবল্যিক্যানদের কাছ থেকে মেজোরিটি ছিনিয়ে নিতে পারবেন? ডেমোক্র্যাটদের পাল্লা ভারী।জরিপগুলো তাই বলছে। অস্থিরতা বিরাজ করছে অনেক রিপাবলিক্যান প্রার্থীর মধ্যে। তাদের ধারণা, হয়তো ট্রাম্পের কারণেই তারা হারতে পারেন। ট্রাম্পের অনজপ্রিয়তার কারণে রিপাবলিক্যান পার্টি অনেক প্রার্থীই শংকিত। নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ন কিংবা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এমন রিপাবলিক্যান প্রার্থীরা নিজেদের ট্রাম্প থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, কানাডার সাথে বানিজ্য যুদ্ধ ও তেল গ্যাসের বৃদ্ধিতে তারা ট্রাম্পের সাথে একমত হতে পারছেন না। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানীতে। যা শতকরা ৩০ ভাগেরও কম। সম্প্রতি আইওয়া থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য মারিয়ানেট মিলার-মিকস ও জ্যাক নান প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তাদের ২ জনের আসনই ঝুঁকিপূর্ণ। গেল সপ্তাহে তারা জন সহ ৭ জন সদস্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দক্ষিণ ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের সদস্য মারিয়া এলভিরা সালাজার একটি বিজ্ঞাপনে বলেছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ "সীমা ছাড়িয়ে গেছে"। কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোর একদল রিপাবলিকান তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তারা সম্প্রতি ট্রাম্প কর্তৃক বিদেশি গরুর মাংসের ওপর শুল্ক স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অ্যারিজোনার প্রতিনিধি জুয়ান সিসকোমানি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করছেন। এসব জনপ্রতিনিধিরা অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করার উপায় খুঁজছেন।
ডেমোক্র্যাটরা কানসাস, টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো কট্টর রিপাবলিকান সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তাদের নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার করছে। সেখানে তারা ভালো করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। সাধারন মানুষের সহানুভূতি পাবার জন্য ট্রাম্পের বিরোধীতায় নেমেছেন অনেক রিপাবলিক্যান। ট্রাম্প এ ধরনের সমালোচনা আগে সহ্য করতেন না। কিন্তু এবার তিনি কিছুটা নমনীয়। যারা তার বিরোধীতা করছেন তাদের টার্গেট করে নেতিবাচক কিছু বলছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএন-এর সাথে আলাপকালে একজন রিপাবলিকান দলীয় কর্মী বলেছেন, "প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প দলীয় সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করতেন না। এবার হয়তো বুঝতে পেরেছেন। কংগ্রেসে জিততে হলে দলের সদস্যদের কিছুটা নমনীয়তা দেওয়া প্রয়োজন।"
রাজ্যব্যাপী তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা একজন রিপাবলিকান কর্মী জানান, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে-এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা "ফরমান" আসেনি। বরং হোয়াইট হাউসের মনোভাবে বুঝা যায়, নির্বাচনে জিততে আপনাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করুন।"
রিপাবলিক্যান পার্টির মুখপাত্র নাটালি বালদাসারে এক বিবৃতিতে বলেছেন যে রিপাবলিকানরা "ঐক্যবদ্ধ এবং একই অভিমুখে এগিয়ে চলেছে", তবে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও স্বীকার করেছেন। বালদাসারে বলেন, "দিনশেষে আমাদের কাছে জয়লাভই মুখ্য এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।"
সিনেটে রিপাবলিক্যানের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি (২ জন স্বতন্ত্রের সর্মথন সহ)। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিজেদের আসন রক্ষা সহ সিনেটে ৪টি ও হাউজে ৬টি আসনে রিপাবলিক্যান প্রার্থীদের পরাজিত করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে মেজোরিটি দলে পরিণত হতে পারবে। আর টেনে ধরতে পারবে অসীম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। এদিক থেকে ৩ নভেম্বর আমেরিকানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। রিপাবলিক্যানরা মরণ কামর দিচ্ছেন কংগ্রেস তাদের হাতে রাখতে।
