গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’!
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৫৬ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোববার
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে নতুন মোড় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করেছে, এতে তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বীরা সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সেনা মোতায়েন বা স্পর্শকাতর খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর আওতায় চীন ও রাশিয়ার মতো দেশও পড়বে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক স্থাপনা গড়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসলে কতটা নতুন ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে?
কারণ ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির আওতায় দেশটি এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও সেনা মোতায়েনের বিস্তৃত অধিকার ভোগ করছে। সেখানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পিতুফিক স্পেস বেস রয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রকে দিচ্ছে না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, চুক্তিটি দ্বীপটির নিরাপত্তা জোরদার করবে।
এর আগে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্কেও চাপ তৈরি করেছিলেন। ফলে নতুন চুক্তিকে শুধু সামরিক সমঝোতা নয়, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সংকট নিরসনের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ন্যাটোও জানিয়েছে, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের বিরল খনিজ সম্পদও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে নতুন চুক্তির প্রকাশিত তথ্যগুলোতে এসব সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট অধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই। ফলে ‘স্পর্শকাতর বিনিয়োগ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। এরপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ফলে ট্রাম্প ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ বললেও, এর বাস্তব ক্ষমতা কতটা হবে তা নির্ভর করবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এবং পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়ার ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা
