যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
আজকাল রিােপর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৪৭ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
- মুদ্রাস্ফীতির কারনে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়াবে
মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের আপত্তি উপেক্ষা করে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়াল মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির বড় রকমের ধাক্কা জনসাধারণ সহসাই টের পেতে শুরু করবে। ইরান যুদ্ধের ব্যয় সামলাতেই জনগনের ওপর সুদের চাপ বাড়নোর হলো। ইরান যুদ্ধেই ব্যয় হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলার। দেশটির ঋণের পরিমান এখন ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু ঋনের পরিমান দেড় লাখ ডলারের উপরে। তেলের দাম আকাশচুম্বি। জিনিষপত্রের দাম হুহু করে বাড়ছে। নতুন করে সুদ বাড়ানোর ফলে জনগনের ভোগান্তিও বাড়বে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্তে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে দ্রব্যমূল্যের জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে হবে সাধারণ মানুষকে। ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট (০.২৫%) বাড়িয়েছে। এর ফলে সুদের হারের পরিসীমা ৩.৭৫% থেকে ৪.০০%-এ উন্নীত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে বছরের পরবর্তী সময়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে সংস্থাটি। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই সিদ্ধান্তটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিফলন যা আংশিকভাবে ইরান কেন্দ্রিক সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সৃষ্ট। সুদের হার কমানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বানের সাথে এই সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তেলের দাম ৭৫% এর বেশি বেড়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে পেট্রোলের দাম ৪৫%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগস্ট মাসে মুদ্রাস্ফীতিকে ৩.৪%-এর কাছাকাছি নিয়ে গেছে অথচ একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৩.১%-এর কাছাকাছি। নীতিনির্ধারকরা সতর্ক করেছেন যে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা এখনো বেশি। তবে এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো মুদ্রাস্ফীতিকে ২%-এর লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপটিকে সুদের হার বাড়ানোর একটি চক্রের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছেন। যা ভবিষ্যতের তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিস্থিতি মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা এবং বাহ্যিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল, যা ভবিষ্যতে হার বৃদ্ধির গতি পরিবর্তন করতে পারে।
ফেডারেল রিজার্ভ ‘ফেডারেল ফান্ডস টার্গেট রেঞ্জ’ বা সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রার পরিসীমা ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫%-৪.০০% এ উন্নীত করেছে। এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের প্রবণতা যদি পরিস্থিতি দাবি করে, তবে বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও একবার বাড়ানো হতে পারে।
সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রকাশিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, এফওএমসি-এর দুজন সদস্য ছাড়া বাকি সবাই এ বছর আরও একবার সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। এটি অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যে ঋণের খরচ বৃদ্ধির দিকে একটি সতর্ক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
এই সিদ্ধান্তটি সুদের হার কমানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দাবির বিপরীত; ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় থেকেই তাঁর এই অবস্থান ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নিয়ে জনমনে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। পণ্যের দামের অস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে দায়ী করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপটি সুদের হার বাড়ানোর একটি চক্রের সূচনা হতে পারে; সাধারণত প্রাথমিক বৃদ্ধির পর ধারাবাহিকভাবে হার বাড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যায়, এটি তারই একটি অংশ হতে পারে। যা মুদ্রাস্ফীতির পরিবর্তনশীল তথ্য এবং বাহ্যিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি-না এবং তা ঋণ গ্রহণের খরচ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা যাচাই করতে বাজারগুলো মূল্যস্ফীতির গতিপথ, জ্বালানির দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে।
(তথ্যসূত্র-রয়টার্স ও এমএসএনবিসি)
