শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   আশ্বিন ৩ ১৪৩৩   ০৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৮:০২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

 

  •     পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যাবে

৫০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সহ আর্ন্তজাতিক ছাত্রছাত্রীদেও সুখবর দিল আদালত। স্টুডেন্ট ও সাংবাদকেদেও ভিসার মেয়াদ সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের একজন ফেডারেল বিচারক। ট্রাম্পের আদেশের ফলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের মধ্যে কোর্স শেষ করে দেশে ফিরে যেতে হতো। সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ করা হয়েছিল মাত্র ২৪০দিন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। ১৪ সেপ্টম্বর মাননীয় আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ স্থগিত করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জারিকৃত আদেশে দীর্ঘদিনের প্রচলিত একটি ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছিল। আগে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত লাখ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকার সুযোগ পেতেন। কিন্তু তা আটকে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এতে শিক্ষার্থীদেও মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নেমে এসেছিল। নতুন নিয়মটিতে শিক্ষার্থী, গবেষক, অধ্যাপক বা অন্যান্য শিক্ষাবিদের অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪ বছরে সীমাবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। এমন একটি পরিবর্তন পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের  প্রভাব ফেলত। এছাড়া, এই নিয়মের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একই স্তরের দ্বিতীয় কোনো ডিগ্রি নেওয়া, সাবজেক্ট পরিবর্তন করা বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ত।

বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদও মাত্র ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করা হতো। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারতেন ঠিকই, কিন্তু সেই অনুমোদন নির্ভর করত ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর। আর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার বিরুদ্ধে কোনো আপিল করার সুযোগ থাকত না। সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করার আদেশও বাতিল করেছে আদালত। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক এফ. ডেনিস সেইলর চতুর্থ এ রায় দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশটি অযৌক্তিক ও বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে।

ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি। এর পরিবর্তে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে: "গণমাধ্যম যদি সত্যিই প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যত্নশীল হতো, তবে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাত। কারণ, তিনি ব্যাপক জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে কেবল তারাই এই সুযোগ পেতেন যাদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার প্রকৃত উদ্দেশ্য রয়েছে।"

বিচারক সেলোর তাঁর ৪৮ পৃষ্ঠার রায়ে লিখেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই নিয়মটির পক্ষে যে যুক্তি দিয়েছিলেন তা “মূলত গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি; অথচ নতুন এই নিয়মটি সেসব ঘটনা প্রতিরোধ বা এমনকি প্রশমনেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। শিক্ষার্থী সেজে আসা অভিবাসীদের দ্বারা ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ”

তিনি আরও বলেন, এই নিয়মের ফলে “যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতির যে ক্ষতি হবে তা বিপর্যয়কর হতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নিয়মটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে নিরুৎসাহিত করবে। 

 তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই নিয়মটি প্রয়োজনীয়-ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবি “হাস্যকর পর্যায়ের”। এছাড়া কর্মকর্তারা “ব্যাখ্যা করেননি যে কীভাবে চার বছরের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি জালিয়াতির মাধ্যমে ভিসা পাওয়া রোধ করবে।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নতুন নিয়মটির যৌক্তিকতা বা গুণাগুণ নিয়ে কোনো জোরালো সাফাই গাওয়ার চেষ্টাই করেনি। বস্তুত, তারা জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা জালিয়াতি ও অপব্যবহার সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ বা কোনো সুচিন্তিত ব্যাখ্যাই উপস্থাপন করেনি।