শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   আশ্বিন ৩ ১৪৩৩   ০৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৮:০১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

#    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকেই দায়ি করা হয়েছে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এর জন্য দায়ি করা হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকেই। এতে বিশ্ববাসী ক্ষুব্ধ নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে বিক্ষোভের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনন একাধিক রিপোর্টে গ্যাসের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রে এখন গ্যালন প্রতি ৬.৪ ডলার। এজন্য দায়ি করা হয়েছেইরানের সাথে একতরফা যুদ্ধে জড়ানোকে। এর পরিণতিতে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটতে যাচ্ছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিক্যান পার্টি। হারাতে পাওে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ হাউজ ও সিনেটের মেজোরিটি। 

নিউইয়র্ক টাইমসের ১৫ সেপ্টেম্বরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গুয়াতেমালা, সিরিয়া, পর্তুগাল, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে গুয়াতেমালা ও সিরিয়ায় বিক্ষোভকারীরা টায়ার ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

পর্তুগালে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৯ ডলার ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রতিবাদে রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি করে চালকরা অনবরত হর্ন বাজিয়েছেন।

বিশেষ করে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো-যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধের প্রভাবে সেখানে পরিবহন ব্যবস্থা ও সরকারগুলো চরম চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানি সংকট ও পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ধর্মঘট করছেন ট্যাক্সি চালক ও শ্রমিকরা, কারণ জ্বালানির খরচ মেটাতেই আয়ের বড় অংশ চলে যাওয়ায় কাজ করার কোনো যৌক্তিকতা তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

অনেক দেশই এখন এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি। মূল্যবৃদ্ধির বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, নাকি ভর্তুকি ও সহায়তা বাড়ানো উচিৎ? কোনটি বেছে নেবে তারা?
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও এশিয়ায় সংঘাত ও রাষ্ট্র-গঠন বিষয়ক গবেষক সানা জাফরি বলেন, "এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার মতো কতটা আর্থিক সক্ষমতা এশিয়া বা সামগ্রিকভাবে উন্নয়নশীল বিশ্বের রয়েছে? সেই সক্ষমতা যখন ফুরিয়ে আসতে শুরু করবে, তখন বিশ্ব আর্থিক বাজারের কী হবে?"

তিনি আরও বলেন, "একটা পর্যায়ে গিয়ে এটি সবার সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।"

নিচে এমন কিছু বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হলো যার ওপর 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' নজর রাখছে। ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরে বাসিন্দারা এই সপ্তাহে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি, পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং হঠাৎ করে পেট্রোল রেশনিং বা সীমিতকরণের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।

অভিনব প্রতিবাদ দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির রাজধানীজুড়ে চালকদের খালি ট্যাঙ্কের মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে অথবা জ্বালানি-শূন্য পাম্পের কাছে দীর্ঘ লাইনে গাড়ি ফেলে রাখতে দেখা গেছে। সোমবার ট্যাক্সি চালকরা লাইসেন্স প্লেটের নম্বরের জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে নতুন রেশনিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন।সোমবার শিক্ষার্থীরা জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল-কিন্তু সরকার-পন্থী উগ্র সংগঠনগুলো তাদের সমাবেশ পণ্ড করে দেয়।

ফিলিপাইনের ম্যানিলা উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব জেলে ডিজেল বা গ্যাসচালিত নৌকা ব্যবহার করেন, তারা কয়েক সপ্তাহের মৌসুমি বৃষ্টির পর এই সপ্তাহে সমুদ্রে যাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু এখন তাদের বড় একটি অংশ বন্দরেই অবস্থান করছেন।

গুয়াতেমালা সিটির রাস্তায় পরিবহন শ্রমিক ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা মিছিল করেছেন। তাঁরা কেবল মূল্যসীমা নির্ধারণ বা ভর্তুকির মতো সাময়িক পদক্ষেপের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ তার ব্যবহৃত পেট্রোলিয়ামের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে এবং এর সিংহভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ঘাটতির কারণে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত পোশাক কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাত শুরুর পর অনেকেই বিকল্প হিসেবে ডিজেলের দিকে ঝুঁকেছিলেন, কিন্তু এখন সেই ডিজেলের দামও বেড়ে চলেছে।


বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কেন্দ্রস্থল গাজীপুরের একটি কারখানার কর্মকর্তা রবিউল হাসান মেহেদি মঙ্গলবার জানান, এখন দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।

কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ বন্ধ থাকা-যার সাথে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য কারখানা ও হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মবিরতি-এখন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সংসদের বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম ঢাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বলেছেন, মানুষের এই মিছিল মূলত তাদের বিরুদ্ধে যারা গ্যাস, তেল ও বিদ্যুৎ নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে এবং দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে।