মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৯/৬ আসনই গেমচেঞ্জার
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:২৭ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
সিনেটের ৯টি আর হাউজের ৬টি আসনই ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। কংগ্রেসের পাশা উল্টে গেলে হাতে শিকল পড়বে ট্রাম্পের। এককচ্ছত্র ক্ষমতা ব্যবহারে শিকল পড়বে হাতে। কংগ্রেসে (সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) রিপাবলিক্যানদের একক মেজোরিটি থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লাগামহীন ক্ষমতা ব্যবহারের উৎসব করছেন। ৩ নভেম্বরের কংগ্রেসের যেকোন একটি চেম্বারে ডেমোক্যাটরা মেজোরিটি পেলে লাগাম পড়বে ট্রাম্পের হাতে। নির্বাচনী জরিপগুলোতে সে আভাসই দিচ্ছে। সিনেটে রিপাবলিক্যানের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি (২ জন স্বতন্ত্রের সর্মথন সহ)। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিজেদের আসন রক্ষা সহ সিনেটে ৪টি ও হাউজে ৬টি আসনে রিপাবলিক্যান প্রার্থীদের পরাজিত করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে মেজোরিটি দলে পরিণত হতে পারবে। আর টেনে ধরতে পারবে অসীম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। এদিক থেকে ৩ নভেম্বর আমেরিকানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।
রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১০০ আসনের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ , পেতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে চারটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে। যদিও এ নির্বাচনে ৩৫টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা সিনেটর নির্বাচন করবেন। তবে স্বতন্ত্র বিশ্লেষকদের মতে এর মধ্যে মাত্র নয়টি নির্বাচনী লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনা
নর্থ ক্যারোলিনায় একটি আসন জয়ের ভালো সুযোগ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। সেখানকার বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস অবসরে যাচ্ছেন। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান নেতা মাইকেল হোয়াটলির চেয়ে বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। হোয়াটলি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তিনি সম্প্রতি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নর্থ ক্যারোলিনার ভোটারদের কাছে কুপার বেশ পরিচিত মুখ; তিনি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে চারটি নির্বাচনে এবং ২০১৬ ও ২০২০ সালে গভর্নর হিসেবে আরও দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এমনকি ওই বছরগুলোতে ট্রাম্পও এই রাজ্যে জয়ী হয়েছিলেন।
রাজনীতিতে হোয়াটলিরও কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে তিনি আগে কখনও কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ট্রাম্পের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন রয়টার্স/ইপসোস-এর জরিপ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের জনসমর্থনের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ-যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন।
মিশিগান
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটরা মূলত নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে। তারা অবসর গ্রহণকারী সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে চায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই রাজ্যে পরাজয় ঘটলে আইনসভার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ও প্রগতিশীল নেতা আব্দুল আল-সায়েদকে এখনো কিছুটা সন্দেহের মুখে পড়তে হচ্ছে। একটি তিক্ত প্রাইমারি নির্বাচনে মধ্যপন্থী প্রতিনিধি হেলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করার পর তিনি এখন নিজের প্রতি সমর্থন সুসংহত করার চেষ্টা করছেন। ইসরায়েলের সমালোচনা এবং বামপন্থী স্ট্রিমার হাসান পিকারের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের এই সাবেক কর্মকর্তা দলের বামপন্থী অংশের সমর্থন জোরালো করতে পারলেও, রাজ্যের অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারের বিরাগভাজন হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রিপাবলিকান মাইক রজার্স-হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সাবেক সদস্য। যিনি এর আগে সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।
টেক্সাস
রিপাবলিকান-অধ্যুষিত এই রাজ্যটি এ বছর অপ্রত্যাশিতভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো এবং রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
আলাস্কা
পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান দুটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন: একজন ডেমোক্র্যাটের কাছ থেকে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ব্যালট পেপারে একই নামের আরেক ব্যক্তির উপস্থিতি।
ডেমোক্র্যা মেরি পেলটোলা এর আগে রাজ্যের একমাত্র 'হাউস' (প্রতিনিধি পরিষদ) আসনটিতে এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরে প্রচার চালিয়েছেন। আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত রাজ্যের নির্দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি ৮২,০০০ ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে সুলিভান পেয়েছিলেন ৬৯,০০০ ভোট-বর্তমান সিনেটরের জন্য এটি একটি অশনিসংকেত হতে পারে।
আইওয়া
এক দশক ধরে রিপাবলিকানদের আধিপত্যের পর, এ বছর আইওয়ায় বেশ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই দেখা যাচ্ছে; কারণ কৃষিপ্রধান এই রাজ্যটি ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সিনেটর জনি আর্নস্ট অবসরে যাওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অ্যাশলি হিনসন আসনটি রিপাবলিকানদের দখলে রাখার লক্ষ্য নিয়ে লড়ছেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক-একজন প্রাক্তন প্যারালিম্পিক বাস্কেটবল খেলোয়াড়, যিনি রাজ্য আইনসভায় বিভিন্ন দলের সাথে মিলে কাজ করার (দ্বিদলীয় সহযোগিতার) ওপর জোর দিয়েছেন।
জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, এই শরতে এটি অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
মেইন
জুলাই মাসে ডেমোক্র্যাটরা গ্রাহাম প্ল্যাটনারের বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। প্রগতিশীল মতাদর্শের ঝিনুক চাষি ও রাজনীতিতে নতুন মুখ প্ল্যাটনার যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মুখে সরে দাঁড়িয়েছিলেন (যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন)। দল দ্রুত ট্রয় জ্যাকসনের ওপর আস্থা রাখে। প্রাক্তন কাঠুরে ও রাজ্য আইনসভার সদস্য জ্যাকসন প্ল্যাটনারের মতোই প্রগতিশীল রাজনীতির অনুসারী।
৫৮ বছর বয়সী জ্যাকসন বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিরুদ্ধে লড়ছেন। কলিন্স একজন মধ্যপন্থী নেতা, যিনি মাঝেমধ্যে দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কলিন্স সহজেই পুনর্নির্বাচিত হয়ে আসছেন, যদিও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটি ধারাবাহিকভাবে ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে জ্যাকসনকে তিন থেকে চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
জর্জিয়া
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন অসফ পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে। কলিন্স একজন রক্ষণশীল নেতা যাকে ট্রাম্প সমর্থন দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে জর্জিয়া একটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্য (ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্যে অল্প ব্যবধানে জয়ী হন; অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সী ওসফ ২০২১ সালের রান-অফ নির্বাচনে নিজের আসনে সামান্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন। বিশ্লেষকরা তাঁকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
কলিন্স সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন এক উসকানিমূলক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন যা মাঝেমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধেই গেছে। অধিকাংশ জনমত জরিপে কলিন্সের চেয়ে ওসফকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। আরও ২টি আসন ওহিও ও নিউ হ্যাম্পশায়ারেও ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেরিয়ে আসতে পারে।
