৫০ কোটি ডলার খরচের ঘোষণা ট্রাম্পের
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:১৭ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের কর্তৃত্ব ধরে লাখতে ৫০ কোটি ডলার খরচের ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সাথে যত অর্থই লাগুক কংগ্রেসে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন যে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তার জন্য তিনি তার 'ম্যাগা ইংক' (গঅএঅ ওহপ.) সুপার প্যাক থেকে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি এই অর্থ ব্যয় করবেন না দলের ভেতর এমন উদ্বেগ প্রশমনের লক্ষ্যেই তিনি এই ঘোষণা দেন। রয়টার্স এ তথ্য পরিবেশন করেছে।
হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, "নির্বাচনে জয়লাভের করার জন্য যেকোনো পরিমাণ অর্থই আমি ব্যয় করব। এটি 'ম্যাগা ইংক'-এর অর্থ। এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেই।ওই তহবিলে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার রয়েছে।” প্রশ্ন উঠছে কেন নির্বাচনে জিততে মরিয়া হয়ে উঠছেন ট্রাম্প? ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তাকে কি ইমপিচমেন্টের শিকার হতে হবে? এমন প্রশ্ন আমেরিকানদেরও।
রিপাবলিক্যান ভোটারদের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রভাব স্পষ্ট এবং তাঁর সম্পদের ভাণ্ডারও বিশাল। কিন্তু তাঁর কম জনসমর্থন এর কারণে দোদুল্যমান ভোটারদের কাছে তিনি এখন একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সর্বশেষ রয়টার্স জরিপ অনুসারে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এ বছর ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরপর দুটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে এই রিপাবলিকান নেতার কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ৬৭ শতাংশই না। যা ট্রাম্পের প্রথম বা দ্বিতীয় মেয়াদে রয়টার্স/ইপসোস-এর জরিপগুলোতে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন হার। এমতাবস্থায় ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার মিডটার্ম ইলেকশন হতে যাচ্ছে। উচ্চ কক্ষের (সিনেট) ১০০ আসনের মধ্যে ৩৩টিতে এবার নির্বাচন। লোয়ার হাউজ সদস্যদের ২ বছর মেয়াদের কারনে ৪৩৫টি হাউজ অব রিপ্রেজেনটিভস আসনেই (সকল আসন) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তার ওপর ভর করে সিনেট ও হাউজে বিজয় ছিনিয়ে আনতে চাইছে। বর্তমানে তারা সিনেটে ৬ ও হাউজে ৭টি আসেনে পিছিয়ে রয়েছে। স্থান করে নিয়ে বিরোধী দলে। উভয় কক্ষেই এখন রিপাবলিক্যানরা মেজোরিটি। বর্তমানে হাউজে রিপাবলিক্যান ২১৯ (একজন স্বতন্ত্র সহ)। ডেমোক্র্যাট ২১২। ৪টি আসন শুন্য রয়েছে। সিনেটে রিপাবলিক্যানের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি (২ জন স্বতন্ত্রের সর্মথন সহ)। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিজেদের আসন রক্ষা সহ সিনেটে ৪টি ও হাউজে ৬টি আসনে রিপাবলিক্যান প্রার্থীদের পরাজিত করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে মেজোরিটি দলে পরিণত হতে পারবে। আর টেনে ধরতে পারবে অসীম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। এদিক থেকে ৩ নভেম্বর আমেরিকানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।
৩ নভেম্বর নির্বাচনের দিন আসতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। শেষ মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় করলেও তা হয়তো রিপাবলিকানদের কাক্সিক্ষত ফল বয়ে আনবে না। কারণ অনেক ভোটার হয়তো ইতিমধ্যেই তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগও সীমিত হতে পারে।
রিপাবলিকানরা বিশেষ করে টেক্সাসের একটি নির্বাচনী লড়াই নিয়ে চিন্তিত, যেখানে রিপাবলিকান প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করছেন। এ আসনটি এখন রিপাবলিক্যানদের দখলে।
