আজ ৯/১১ ভয়াবহ হামলার ২৫ বছর
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৫৫ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
কেউ ভাবতেই পারেননি এমন বেদনাদায়ক একটি দিন অপেক্ষা করছে। এমন ১১ সেপ্টম্বর ২০০১ সালের সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানলো। ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ আঘাত করে দক্ষিণ টাওয়ারে। ততক্ষণে মানুষের চোখ চলে গেছে টেলিভিশনের পর্দায়। কিন্তু মিডিয়াসহ কেউ বুঝে উঠতে পারেনি আসলে কী ঘটছে এসব! এরপরই তৃতীয় আঘাত। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭। আর চতুর্থ উড়োজাহাজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩, যাত্রীদের প্রতিরোধের পর সকাল ১০টা ৩ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয়, ছিনতাইকারীরা সেটি ওয়াশিংটনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় আছড়ে ফেলতে চেয়েছিল। চারটি উড়োজাহাজে ছিলেন ২৪৬ জন। তাদের কেউ আর বেঁচে ঘরে ফেরেননি। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার সেই মাঠ মিলিয়ে নিহত হন মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন। ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের হিসাবে, নিহতদের তালিকায় ছিলেন ৯০টি দেশের মানুষ। নিউ ইয়র্কের আকাশে সেদিন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল। ধসে পড়ছিল টুইন টাওয়ার। পেন্টাগনের দেয়ালে আগুন জ্বলছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছিল মানুষ। পরের ২৫ বছরে সেই ধ্বংসস্তূপের বিস্তার ঘটেছে আফগানিস্তান থেকে ইরাক, পাকিস্তান থেকে সিরিয়া, ইয়েমেন থেকে সোমালিয়া, সাহেল থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত। একটি সন্ত্রাসী হামলার জবাবে শুরু হয়েছিল ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ আমেরিকার যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ বদলে দিয়েছে যুদ্ধের সংজ্ঞা। বদলে দিয়েছে নিরাপত্তার ধারণা। বদলে দিয়েছে নাগরিকের ওপর রাষ্ট্রের নজরদারির ধরণ। কিন্তু এই ২৫ বছরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এই পৃথিবীকে কতটা নিরাপদ করতে পেরেছে?
আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে, ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের অভিযানে নিহত হয়েছেন। ৯/১১-এর মত বিশাল মাত্রার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আর ঘটতে পারেনি। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠের চিত্র আরও ভয়াবহ। আফগানিস্তানে দুই দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে সেই তালেবানই আবার ক্ষমতায় ফিরেছে। ইরাক যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যকে চুরমার করে দিয়েছে; সেই যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে জন্ম নিয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মত আরও ভয়ংকর গোষ্ঠী। আল-কায়েদা এখন আর আফগানিস্তানের গুহায় সীমাবদ্ধ নেই, তারা ছড়িয়ে পড়েছে আফ্রিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নানা প্রান্তে।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস ১৫ দেশের ১৬ জন বিশেষজ্ঞের একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। তাদের মতামতের একটি অভিন্ন সুর হল সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কিছু কৌশলগত সাফল্য এলেও, ৯/১১ পরবর্তী সামরিক প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই তার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আর ২৫ বছর পর, যুক্তরাষ্ট্র আবারও পশ্চিম এশিয়ায় এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান যুদ্ধকে অনেক বিশ্লেষকই আফগানিস্তান ও ইরাকের সেই দীর্ঘ ‘ফরএভার ওয়ার’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
৯/১১-এর হামলার পর তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সামনে প্রথম লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। হামলার পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করা। আল-কায়েদাকে ধ্বংস করা। ওসামা বিন লাদেনকে বিচারের মুখোমুখি করা। আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন তখন আফগানিস্তানে। তালেবান সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, তাকে হস্তান্তর করতে হবে।
তাতে রাজি না হওয়ায় ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ‘অপারেশন এন্ডিওরিং ফ্রিডম’ নামের সেই অভিযানে খুব দ্রুতই তালেবান সরকারের পতন ঘটে। আল-কায়েদার ঘাঁটিগুলোতে হামলা হয়। বিন লাদেন ও সংগঠনের অন্য নেতারা আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যান।
