শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ২৭ ১৪৩৩   ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ট্রাম্প ইরানে অন্তহীন যুদ্ধের পথে হাঁটছেন!

মনোয়ারুল ইসলাম

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৪৮ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার


 
 

ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী নির্বাচনের পথেই হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতে বিশ্বের শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটি ‘অন্তহীন যুদ্ধ বা ফরেভার ওয়ার’ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও শাসকদল রিপাবলিক্যান পার্টির ধরাশায়ী হবার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার এই ইরান যদ্ধের কারনেই। নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে ও জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং জ্বালানির দাম কমবে। তাও আবার সাংবাদিকদেও বলেছেন, ডালাসে অনুষ্ঠিত রিপাবলিক্যান মিডটার্ম কনভেনশনে যাবার আগে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ এ উঠার আগে। ডালাসে এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই রিপাবলিক্যান প্রতিনিধিরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। 

প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধ বিরোধী নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনী প্রচারণাকালে বলেছিলেন, তিনি হবেন ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’। তিনি নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু করবেন না। বরং বিদেশের মাটিতে চলমান যুদ্ধগুলো বন্ধ করবেন। বিধিবাম, তিনিই এক অনপ্রিয় সংঘাতের জালে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও আফগান কিংবা ইরাকের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিতে বা কোনো স্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ (যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল) তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক-ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’ সিনা তুসি বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় ও অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে থাকা যুদ্ধ শুরু না করতে ওয়াশিংটনে অলিখিত বিধিনিষেধ বা সতর্কতা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু তা ট্রম্প ভেঙ্গে ফেলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিদ্যমান।” অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরান যুদ্ধের অবসান হবে। 

ইরাক ও আফগানিস্থানে সরকারগুলোকে আমেরিকা ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। হাজার হাজার স্থলসেনা মোতায়েন করে ভূখণ্ড দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। ব্যাপক ট্রাণহানি ঘটেছিল। ইরানযুদ্ধের চিত্রটি ভিন্ন। এখনও ভূখন্ড দখল কিংবা স্থল বাহিনী ইরানের মাটি স্পর্শ করতে পারেনি। মূলত বিমান ও নৌ-শক্তি নির্ভর যুদ্ধ চলছে। । আফগান ও ইরাক স্টাইলে সরকারেরও পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। ৬ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে এখনও বিজয় অর্ঝন করেনি তা পরিষ্কার। বরং ক্লান্তিকর এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পটভূুমতে মাত্র। এক হরমুজ প্রণালী দখল নিতেই হিমশিম খাচ্ছে। গত ৩ দিন ইরান সমান্তরালে মার্কিন হামলার চ্যালেঞ্জ করেছে। যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না। অথচ যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে তেল পরিবহনে তেহরানের বাধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে গেছে। এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থনের হার কমিয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে দুর্বল করেছে।