ইরাকের ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪১ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতার অভিযোগে ইরাকের ৯ নাগরিক ও ২টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। দেশটির ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ওই ৯ ইরাকি নাগরিককে যুক্ত করেছে। লেবানন, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিরা হলেন খালদুন নাসের মারইউশ আল-আবাদা, আবদুল্লাহ নাজিম লুয়াইবি আল-আমেরি, হুসেইন আহমেদ হুসেইন আল-দুহাইবাওয়ি, কারার মোহাম্মদ কাসেম আল-হারাইশাওয়ি, আলি হাসান ফারহান আল-লামি, আবদুলহাসান আলি আকবর নামদার আল-মানদালাওয়ি, মাজিদ আলি আকবর নামদার আল-মানদালাওয়ি, মোহাম্মদ আমিন ফাধিল আলি আল-শাইখলি এবং আব্বাস জাওয়াদ কাজেম আল-তামিমি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আল-দুহাইবাওয়ি, আল-হারাইশাওয়ি, আল-লামি ও আল-শাইখলির সঙ্গে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সম্পর্ক রয়েছে। অন্য পাঁচজনের সঙ্গে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী বা ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাগদাদভিত্তিক ‘আইন আল-ইরাক ফর প্রোটেকশন সিস্টেমস টেকনোলজি অ্যান্ড অডিও, ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড কমিউনিকেশনস সলিউশনস কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ‘আল ব্রুজ ফর জেনারেল কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের রাজস্বের উৎস, তেল লেনদেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার নেটওয়ার্ক এবং অর্থনৈতিক চ্যানেলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ত্র কেনা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন এলাকায় এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ থাকবে। পাশাপাশি সাধারণভাবে তাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত ইরাকি নেটওয়ার্কগুলোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেশি নজর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মে মাসেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত তেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তেহরান ও তার মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ইরাকের এক উপ-তেলমন্ত্রী ও কয়েকজন গোষ্ঠী নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ অনুমতির নীতিও আরও কঠোর করেছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়া সাধারণত এসব অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। তবে জীবন, শারীরিক নিরাপত্তা বা পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি হলে কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে কাজ করা, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ইরানি উৎস থেকে লভ্যাংশ গ্রহণ এবং ইরানে সম্পত্তি কেনার অভিযোগে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারের সমঝোতাও করেছে ওএফএসি।
সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি
