শিশুর পাসপোর্ট পেতে বাবা-মা’র নাগরিকত্ব লাগবে
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৩:৪০ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব কিংবা বৈধ অভিবাসন অবস্থার সনদপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আসছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই নতুন প্রস্তাব এনেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে ট্রাম্পের প্রাথমিক এক আদেশে বলা হয়েছিল, মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নিলেই শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না; অন্তত বাবা বা মায়ের যেকোনো একজনকে মার্কিন নাগরিক কিংবা স্থায়ী গ্রিনকার্ডধারী হতে হবে। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে ৬-৩ ভোটে সেই আদেশটি বাতিল করে দেন। সুপ্রিম কোর্টের বাধার পর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আদেশটি কেবল প্রসূতি পর্যটন এবং নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নতুন প্রস্তাবিত খসড়া অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ট্রাম্পের নতুন আদেশের অধীনে আবেদনকারী শিশুটি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি-না, তা যাচাই করতে বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সনদের প্রমাণ চাওয়া হবে। আদেশ কার্যকর হলে পাসপোর্টের দরখাস্ত জমা দেওয়ার সময় অভিভাবকদের নিজস্ব পাসপোর্ট, মার্কিন জন্মসনদ, আই-৯৪ ফরম কিংবা স্থায়ী বসবাসের গ্রিনকার্ড সংযুক্ত করতে হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর পাসপোর্টের জন্য অভিভাবকদের কেবল সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ ও নিজেদের ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখালেই চলে। নথিপত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের কোনো আলাদা প্রমাণ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না।
এদিকে ট্রাম্পের এই আদেশ ঠেকাতে ইতিমধ্যে দুটি ভিন্ন বিচারকের আদালতে মামলা করেছেন নাগরিক অধিকার বিষয়ক আইনজীবীরা। শুক্রবার মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে শুনানিকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান ট্রাম্পের নতুন এই পদক্ষেপের নজির ও বৈধতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের এই আদেশ স্থগিতের আর্জি বিবেচনার জন্য বাদীপক্ষকে আবেদন সংশোধনের সময় দিয়েছেন বিচারক।
