মসজিদে হামলায় ৩ জন নিহত
১৭ বছরের কিশোরী হত্যা মামলায় আসামী
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৩:০৫ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
ক্যালিফোরনিয়ায় মসজিদে হত্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৭ বছর এক কিশোরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলা লাইভ করার অভিযোগে কিশোরীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচনায় সে অভিযুক্ত। সে ক্যালিফোরনিয়ার সান দিয়েগোর একটি মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন।সেলাইভস্ট্রিম রেকর্ড করেছিল এবং হামলাকারীদের শ্বেতাঙ্গ-আধিপত্যবাদী লেখাগুলো ছড়িয়ে দিয়েছিল। কার্যত হামলাকারীদের লেখা বা কথিত ম্যানিফেস্টো প্রকাশে সহযোগিতা করার পরিকল্পনায় ওই কিশোরী আগে থেকেই যুক্ত ছিলেন। উইনস্টন-সালেমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও’নিল জানান, আদালতের নথিতে ‘সারাহ এল. সান্তিয়াগো’ হিসেবে চিহ্নিত এই কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করেছে। এপি ও সিএনএন এ খবর প্রকাশ করেছে বুধবার।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ও’নিল বলেন, উত্তর ক্যারোলিনার আইনে কোনো ব্যক্তি নিজ হাতে অপরাধের সব কাজ না করলেও, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার প্রমাণ থাকলে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী করা যেতে পারে।
তবে সান্তিয়াগোর আইনজীবী অ্যালান দোরাসামি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সান্তিয়াগো অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তদন্তের নথিপত্র পুরোপুরি হাতে না পাওয়ায় তিনি মামলার প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে তার ভাষ্য, তার মক্কেল এসব অভিযোগে নির্দোষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে ২০২৬ সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলা চালায় ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ। হামলার পর দুজনই আত্মহত্যা করে মারা যায়। হামলায় আমিন আবদুল্লাহ, নাদির আওয়াদ ও মনসুর কাজিহা নিহত হন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলার আগেই সান্তিয়াগো হামলাকারীদের সঙ্গে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার, সেই ভিডিও প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার দাবি করা একটি ম্যানিফেস্টো প্রকাশের বিষয়ে পরিকল্পনা ও সম্মতিতে যুক্ত ছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, হামলার পর তিনি এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নও করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হামলার আগে সান্তিয়াগো ভাসকেজকে একটি সনেনরাড প্রতীকযুক্ত প্যাচ কিনে পাঠিয়েছিলেন এবং হামলার সময় ভাসকেজ সেটি পরেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সনেনরাডকে নব্য-নাৎসি ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘৃণার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উত্তর ক্যারোলিনার এফবিআই কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রেইড ডেভিস বলেন, প্রযুক্তির আড়ালে থেকে কেউ অপরাধের দায় এড়াতে পারবে না। মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেললে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রসকিউটররা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করবে।
মসজিদে হামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তিনটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের পিস্তল, রাইফেল ও শটগান। এছাড়া একটি ক্রসবো, কৌশলগত সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসও উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে উগ্রপন্থী মতাদর্শের আদান-প্রদান হয়েছিল। পুলিশ উদ্ধার করা কথিত ম্যানিফেস্টোতে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম নিয়ে উগ্র বক্তব্য এবং ঘৃণাত্মক ভাষার সন্ধান পেয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত একটি অস্ত্রেও ঘৃণাত্মক বক্তব্য লেখা ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। হামলাকারীদের একজনের রেখে যাওয়া আত্মহত্যার নোটেও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে লেখা ছিল বলে জানানো হয়েছে।
