কালো ও সংখ্যালঘুদের স্কলারশীপ বন্ধ করতে হবে
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪৬ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
হার্ভার্ড ও এমআইটিকে ট্রাম্পের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এবার ট্রাম্প প্রশাসনের থাবায় পড়তে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষ্ণাঙ্গ বা সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বন্ধ হতে চলেছে। যদি কোন বিশ্ববিদ্যালয় তাদেরকে স্কলারশিপ বা আর্থিক সহায়তা দেয় তবে প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ‘কর মুক্ত স্টেটাস’ বাতিল করার হুমকি দিয়েছে। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এমন নিয়ম প্রকাশ করেছে যা জাতি-ভিত্তিক কর্মসূচি থাকা স্কুলগুলোকে কর মুক্ত স্টেটাস পাওয়ার যোগ্যতা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করবে। যা উচ্চশিক্ষা এবং বেসরকারি স্কুল উভয়ের জন্য বড় এক হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে। এই নতুন নিয়মে হার্ভার্ড, ইয়েল ও এমআইটি’র মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের কর মুক্ত স্টেটাস হারাতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করেন, এই বৃত্তি আমেরিকার হোয়াইট ছাত্রছাত্রীদের বৈষম্যমূলক আচরণ (ডিসক্রিমিনেশন)। তথ্যসূত্র-নিউইয়র্ক টাইমস।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই ধরনের কর্মসূচিগুলোকে শ্বেতাঙ্গ এবং এশীয় আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এক ধরনের বৈষম্য হিসেবে দেখেন এবং ফেডারেল নাগরিক অধিকার আইনজীবীরা এই যুক্তিতে হার্ভার্ড, ইয়েল এবং অন্যান্য স্কুলের ভর্তি নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়মে কৃষ্ণাঙ্গ বা অন্যান্য সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো স্কুলের কর মুক্ত স্টেটাস বাতিল করতে পারে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের ঘটনায় আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালাটি, ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) কর মুক্ত স্টেটাস পাওয়ার জন্য স্কুল এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোকে নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ যেকোনো স্কুল যদি ভর্তি ও বৃত্তিসহ এমন কোনো নীতি বা কর্মসূচি গ্রহণ করে, যা আইআরএস-এর মতে বর্ণবৈষম্যমূলক, তবে সেই স্কুল কর মুক্ত স্টেটাস পাবে না।
কর-মুক্ত মর্যাদা হারানোর এই হুমকি, ফেডারেল গবেষণা তহবিল আটকে রেখে উচ্চশিক্ষার ওপর প্রশাসনের আরোপিত আর্থিক চাপকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইআরএস-কে আহ্বান জানিয়েছিলেন, হার্ভার্ডের কর-মুক্ত স্টেটাস কেড়ে নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ফেডারেল আইনের পরিপন্থী হবে। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর-মুক্ত স্টেটাস হারালেও ফেডারেল আয়কর হিসেবে খুব বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই নিয়মগুলোতে প্রায় ১৮,০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষা সংগঠনগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা নতুন এই নিয়মের বিরোধিতা করবে। আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশন-এর সভাপতি টেড মিচেল বলেছেন, ট্রেজারি বিভাগের জনমত গ্রহণের সময়কালে সংগঠনটি এই নিয়মের বিরোধিতা করবে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস-এর পক্ষ থেকে এই নিয়মটি একটি আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে যে, এই কর প্রবিধানগুলো ১৯৮৩ সালের একটি সুপ্রিম কোর্টের মামলার উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে, যেখানে বলা হয়েছিল যে কোনো সংস্থা যদি একটি ‘মৌলিক জননীতির’ বিরোধী হয়, তবে তারা কর মুক্তির স্টেটাস পেতে পারে না। সেই মামলায়, আই.আর.এস. একটি রক্ষণশীল খ্রিস্টান স্কুল, বব জোন্স ইউনিভার্সিটির কর মুক্তির স্টেটাস বাতিল করে দেয়, কারণ স্কুলটির একটি নীতি ছিল যা আন্তঃবর্ণ সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে।
