জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে আবারও ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪৫ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে আবারও ধাক্কা খেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইমিগ্র্যান্ট সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের নতুন আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক।
বিচারক বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট আগেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে 'ক্লাস অ্যাকশন' বা সমষ্টিগত মামলার আওতাভুক্ত শিশুরা জন্ম থেকেই নাগরিক। এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই মামলার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করতে পারবে না।
বুধবার একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন নির্বাহী আদেশ কার্যকর করা আটকে দিয়েছেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য মানুষের সংখ্যা সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আদেশটি জারি করেছিলেন। যা ছিল তাঁর আগের একটি প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক খারিজ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ। বার্ত সংস্থা রয়টার্স এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করেছে।
মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেবোরা বোর্ডম্যান একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। এর আগেও মাননীয় আদালত ২০২৫ সালে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নাকচ করে দিয়েছিলেন। গেল মাসে বেপরোয়া ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে আরেকটি নির্বাহী আদেশে দেন। এতে সন্তানদের পাসপোর্ট পেতে অভিভাবকদের নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ডেও কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। বুধবার ট্রাম্পের এ প্রচেষ্টাও আদালত নাকচ করে দেন।
৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের সেই প্রাথমিক প্রচেষ্টাটি খারিজ করে দিয়েছিল। ওই প্রচেষ্টাটি এমন শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল যাদের বাবা-মা মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) নন। আদালত রায় দেয় যে, এই পদক্ষেপটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারার লঙ্ঘন।
'বারবারা বনাম ট্রাম্প' মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ব্যবধানের রায়ে এই ধারাটিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু; এই ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং "এর এখতিয়ারভুক্ত" ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।
সেই সিদ্ধান্তের পর, ৬ আগস্ট ট্রাম্প একটি নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেন। এই আদেশে মূলত "বার্থ ট্যুরিজম" বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিষয়টিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। যাতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া শিশুরা নাগরিকত্ব না পায়। শর্ত আরোপে ছিল বাবা-মা’র স্ট্যাটাস সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল। আদালত ২ সেপ্টেম্বর তাও খারিজ করে দেন।
