শনিবার   ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

অবৈধ অভিবাসী ধরতে এবার রোবট ডগ কিনছে ট্রাম্প

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:৪৩ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার


 
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ধরতে রোবট কুকুর কেনার অনুমতি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশব্যাপী ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউনে ট্রাস্প প্রশাসনের সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে এই ‘রোবট ডগ’। এর আগে ইমিগ্রান্টস ক্র্যাকডাউনে ‘শক গ্লাভস’ কেনা ও ব্যবহারের ঘোষণায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে হোমল্যান্ড সিকিউিরিটি। এর একদিন পরই রোবট ডগ কেনার ঘোসণা াাসে। অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য কুকুরের আকৃতির রোবট কিনতে ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টস (আইস)। আর এতে দ্রুত সায় দিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়নসংক্রান্ত একটি নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরটি ইউএসএটুডে ও এনবিসি নিউজ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই নথি অনুযায়ী, রোবট ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কিনতে ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি ‘স্পট’ নামের রোবট কেনার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এসব রোবট কাউকে গ্রেফতারের কাজে ব্যবহার করা হবে না। তবে এ বিষয়ে আইসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, রোবটগুলো এমন স্থান পরিদর্শন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে ব্যবহার করা হবে- যেখানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

রোবটগুলোতে ক্যামেরা ও বিভিন্ন ধরনের সংবেদনশীল যন্ত্র রয়েছে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে কম্পন, গ্যাস ও তেজস্ক্রিয়তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের মতে, এই প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযানের সময় পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে বিপজ্জনক, সংকীর্ণ, অস্থিতিশীল কিংবা সহজে প্রবেশ করা যায় না-এমন এলাকায় রোবটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 
কুকুরের আকৃতির এই রোবট প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগেও এ ধরনের রোবট ব্যবহারের নজির রয়েছে।

২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনের নিরাপত্তায়ও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন পরিষেবা এ ধরনের রোবট ব্যবহার করেছিল।

রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অস্ত্র হিসেবে কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কাজে তাদের রোবট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। কোনো পণ্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হলে সেই অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রতিষ্ঠানটি বলেছে।
 
রোবট কেনার এই পরিকল্পনার আগে অভিবাসন অভিযানে কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ-শক দেওয়া যায় এমন দস্তানা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।

আগষ্ট মাসের শুরুতে আইস কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের দস্তানা কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করে। সমালোচনার মুখে হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান সিদ্ধান্তটির পক্ষে অবস্থান নেন। তার দাবি, এসব দস্তানা ব্যবহারের ফলে কর্মকর্তাদের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন কমতে পারে। আইস পুলিশ অবৈধদের ধরতে গিয়ে অনেক সময় জীবন হুমকির মুখে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসী ও ড্রাগ ডিলারদের চিহ্নিত করতে রোবট ডাগ দারুনভাবে কাজে লাগবে।
রোবট কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অভিবাসন অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা মূল্যায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আইস অফিসাররা ধারণা করছেন।